বঙ্গ বিজেপিতে শেষ হচ্ছে সুকান্তর জামানা, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হচ্ছেন তিনি, রাজ্য সভাপতির পদে কে? শুভেন্দু বা দিলীপ নাকি অন্য কোন মুখ?

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হচ্ছেন সুকান্ত মজুমদার : লোকসভা নির্বাচনে বঙ্গ থেকে কার্যত ভরাডুবি হয়েছে বিজেপির। তবে বালুরঘাটে নিজের আসন বাঁচাতে পেরেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। এবার তাঁর জায়গা হতে চলেছে মোদীর ক্যাবিনেটে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হচ্ছেন সুকান্ত মজুমদার। যেহেতু বিজেপি ‘এক ব্যক্তি এক পদ’-এ বিশ্বাসী, সেক্ষেত্রে বঙ্গ বিজেপির রাজ্য সভাপতির পদ ছাড়তে হবে সুকান্ত মজুমদারকে। ফলে পরবর্তী রাজ্য সভাপতি কে হতে চলেছেন, তা নিয়ে শুরু হয়েছে কাঁটাছেঁড়া।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হচ্ছেন সুকান্ত মজুমদার , তবে রাজ্য সভাপতি পদে কে ?

রাজ্য সভাপতি হওয়ার লিস্টে নাম উঠে এসেছে শুভেন্দু অধিকারী ও প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের। বঙ্গে বিজেপির ফল খারাপ হলেও পূর্ব মেদিনীপুরের দুটি আসনে পদ্ম ফুটিয়েছেন শুভেন্দু। ফলে তিনি হতে পারেন রাজ্য সভাপতি। আবার দিলীপ ঘোষ যতই বর্ধমান-দুর্গাপুর কেন্দ্র থেকে হেরে যান না কেন, বঙ্গে বিজেপির উত্থানের নেপথ্যে যে তিনিই, তা অনস্বীকার্য। ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে বিজেপি যে ১৮টি আসন পেয়েছিল, তার মূল কাণ্ডারি দিলীপও। ফলে তাঁকেও ফের রাজ্য সভাপতি করতে পারে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব।

কেন্দ্রীয়-মন্ত্রী-হচ্ছেন-সুকান্ত-মজুমদার

আবার রাজ্য সভাপতি হওয়ার দৌড়ে রয়েছেন পুরুলিয়ার দু’বারের সাংসদ জ্যোতির্ময় সিংহ মাহাতো ও লকেট চট্টোপাধ্যায়ও। কুড়মি জনগোষ্ঠীর নেতা জ্যোতির্ময়। তিনি নিজে জিতেছেন বটে কিন্তু রাঢ় বঙ্গে বিজেপির ধস নেমেছে। হাতছাড়া হয়েছে বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, মেদিনীপুরের মতো আসন। ফলে তাঁকে রাজ্য সভাপতি করলে কুড়মি সমাজকে বার্তা দেওয়া যাবে। অন্যদিকে, লকেট পরাজিত হলেও তিনি বেশ পোক্ত মহিলা মুখ। ফলে তিনিও রয়েছেন এই দৌড়ে।

বলে রাখি, ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে দারুণ ফলাফলের পর একুশের বিধানসভা নির্বাচনে ২০০ আসন পারের লক্ষ্য নিয়েছিল বিজেপি। কিন্তু তিন অঙ্কের আসন পেরোতে পারে নি তারা। সেই ফল প্রকাশের পরই বিজেপির রাজ্য সভাপতি পদ থেকে দিলীপ ঘোষকে সরানো হয়। বসানো হয়েছিল সুকান্ত মজুমদারকে। তবে এবার ২ বছরের মধ্যেই সেই পদের বদল হবে ফের।

আরও পড়ুন চাকরির নাম করে টাকা তোলার অভিযোগ, তৃণমূল জেলা সভাপতির বিরুদ্ধে পোস্টার দলের কর্মীদেরই, তুমুল হইচই এলাকায়

বিজেপির অন্য একটা সূত্র বলছে, শুভেন্দুকে যদি রাজ্য সভাপতি করা হয়, তাহলে দিলীপকে বিরোধী দলনেতা করা হতে পারে। তাঁকে মেদিনীপুরের উপনির্বাচনের প্রার্থী করা হতে পারে। মেদিনীপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে জিতেছেন জুন মালিয়া। ফলে বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দিতে হবে তাঁকে। সেখানেই প্রার্থী হতে পারেন দিলীপ ঘোষ। তবে তিনি যেভাবে দলের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেছেন, তাতে তাঁকে বিরোধী দলনেতা করা হবে কী না, তা নিয়েও সংশয় রয়েছে।

আরও অন্যান্য খবর