নিরপত্তার অভাব! স্কুলের মধ্যেই রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার শিশু, নিরুত্তর স্কুল কর্তৃপক্ষ, রহস্য বাড়ছে দমদমের নামী ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে

মা-বাবা ভরসা করে নিজের শিশু সন্তানকে স্কুলে পাঠান যাতে তারা মানুষের মতো মানুষ তৈরি হতে পারে। স্কুলকে দ্বিতীয় বাড়ি-সম মনে করা হয়। স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারা তো আরেক অভিভাবক পড়ুয়াদের। বাড়ির পর স্কুলকেই শিশুর জন্য নিরাপদ স্থান বলে মনে করা হয়। কিন্তু সেই স্কুলেই যদি কোনও পড়ুয়ার মহাবিপদ ঘটে যায়, তাহলে নিরাপত্তা নিয়ে তো প্রশ্ন উঠবেই।

এবার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠল দমদমের এক নামী বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে। স্কুলের মধ্যেই রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার শিশু পড়ুয়া। কীভাবে আঘাত লাগল, তা নিয়ে মুখে কার্যত কুলুপ এঁটেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। শিশুর অভিভাবক এই ঘটনায় অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

ঘটনাটি ঘটেছে দমদমের এক নামী ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে। আহত ওই শিশু পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র। পড়ুয়ার বাবা জানান, গত বুধবার তাদের কাছে স্কুলের ফোন আসে। ফোনে বলা হয়, তাদের ছেলে আহত হয়েছে। তা শুনেই সঙ্গে সঙ্গে স্কুলে ছোটেন মা-বাবা। গিয়ে দেখেন, রক্তাক্ত অবস্থা তাদের ছেলের। আর তার চোখের উপরে কোনওরকমে একটা ব্যান্ডেজ করে বসিয়ে রাখা হয়েছে।

কীভাবে এমন চোট পেল তাদের ছেলে, কী ঘটনা ঘটেছিল, তা জানতে চাইলে স্কুল কর্তৃপক্ষের তরফে মা-বাবাকে কোনও উত্তর দেওয়া হয় নি বলে অভিযোগ। এমনকি, সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে চাওয়া হলেও তা দেখানো হয় না স্কুলের তরফে। এরপর রক্তাক্ত পড়ুয়াকে নিয়ে বেসরকারি হাসপাতালে যান মা-বাবা। ওই পড়ুয়ার চোখের উপরে দুটি সেলাই পড়েছে বলে খবর।

student, injured, blood situation, inside school, Dumdum, parents, complaints, police

আহত শিশুর মা জানাচ্ছেন, এমন ঘটনায় তাঁর ছেলে মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। স্কুলে যেতেই ভয় পাচ্ছে সে। স্কুলের বাকি অভিভাবকরাও এমন পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন। এমন ঘটনার পর কীভাবে নিজেদের ছেলেমেয়েদের ভরসা করে স্কুলে পাঠাবেন, তা ভেবেই যেন শিউড়ে উঠছেন অভিভাবকরা।

আরও পড়ুনঃ ‘আমার মেয়েকে কে ফেরাবে’, স্বস্তিকার নতুন ছবির পোস্টার ঘিরে বিতর্ক তুঙ্গে, আর জি করের আবেগকে হাতিয়ার করে ছবির প্রচারের চেষ্টা অভিনেত্রীর? 

অনেক অভিভাবকের আবার অভিযোগ, এমন ঘটনা এর আগেও ঘটেছে তাদের সন্তানের সঙ্গে। এই গোটা ঘটনার কথা জানিয়ে দমদম থানায় লিখিত অভিযোগ করে আহত শিশুর মা-বাবা। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। তবে এই ঘটনায় স্কুল কর্তৃপক্ষের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

আরও অন্যান্য খবর