মণ্ডপে উঠল ‘বিচার চাই’ স্লোগান! ‘অপরাধে’ ৯ জনকে আটক পুলিশের, রাতভর লালবাজারের কাছে অবস্থান বিক্ষোভ জুনিয়র চিকিৎসকদের

আর জি করের ঘটনার জেরে রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদী হাওয়া। দুর্গাপুজো শুরু হয়েছে ঠিকই কিন্তু আন্দোলনের ঝাঁঝ কমে নি। আমরণ অনশনে জুনিয়র চিকিৎসকরা। নাগরিক সমাজ উৎসবের মধ্যেই চালিয়ে যাচ্ছেন প্রতিবাদ। পুজো মণ্ডপে উঠল ‘বিচার চাই’ স্লোগান। এর জেরে ৯ জনকে আটক করল পুলিশ। এমন ঘটনায় ক্ষিপ্ত জুনিয়র চিকিৎসক থেকে সাধারণ মানুষ।

গতকাল, বুধবার দুর্গাষষ্ঠীর দিন আর জি করের নির্যাতিতার প্রতীকী মূর্তি নিয়ে দক্ষিণ কলকাতার কিছু মণ্ডপ পরিদর্শন করেন ও লিফলেট বিলি করেন। এদিন দক্ষিণ কলকাতার ত্রিধারা সম্মিলনীতে জুনিয়র চিকিৎসকদের হাতে ওই প্রতীকী মূর্তি দেখে কিছু মানুষ ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ স্লোগান দেন। পুলিশ তাতে বাধা দেয়। পুলিশের সঙ্গে বচসায় জড়ান তারা। এরপরই পুলিশ ৯ জনকে আটক করে লালবাজারে নিয়ে যায়।

এই ঘটনার প্রতিবাদে ধর্মতলার অনশন স্থল থেকে লালবাজার অভিমুখে মিছিল শুরু করেন জুনিয়র ডাক্তারদের একাংশ। মিছিল আটকাতে আগেভাগেই বেন্টিং স্ট্রিটে ব্যারিকেড করে দেয় পুলিশ। লালবাজারের সামনের রাস্তাও ব্যারিকেড দেওয়া হয়। সেখানেই রাতভর অবস্থান বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন জুনিয়র চিকিৎসকরা।

আন্দোলনকারী চিকিৎসকদের কথায়, “যাঁরা আমাদের হয়ে বিচারের দাবিতে স্লোগান দিয়ে পুলিশের হাতে আটক হলেন, তাঁদের পাশে দাঁড়ানোটা আমাদের নৈতিক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। সে কারণেই এই ঘেরাও অবস্থান”। তারা এও জানান, ওই ৯ জনকে না ছাড়া হলে তারা অবস্থান ঘেরাও চালিয়ে যাবেন। জানা যায়, ওই ৯ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তবে লালবাজারের তরফে কোনও বক্তব্য জানানো হয়নি।

আরও পড়ুনঃ জুনিয়র চিকিৎসকদের ‘অভয়া পরিক্রমা’য় পুলিশের বাধা, আটকানো হল চিকিৎসকদের ম্যাটাডোর, ষষ্ঠীর বিকেলে উত্তেজনা কলকাতার রাস্তায়

এই ঘটনা প্রসঙ্গে আন্দোলনরত চিকিৎসক কিঞ্জল নন্দ বলেন, “আমরা পুলিশকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, ওঁদেরকে আটক করার কারণ কী? পুলিশ বলছে, ওরা তো চিকিৎসক নন, তাহলে এভাবে পুজো মণ্ডপে স্লোগান দিয়ে উত্তেজনা তৈরি করবেন কেন? আসলে পুলিশ ভুলে গেছে, এটা এখন আর ডাক্তারদের আন্দোলন নয়, সাধারণ মানুষের আন্দোলনে পরিণত হয়েছে”।

আরও অন্যান্য খবর