সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের ভেতর থেকে এমন এক ভিডিও সামনে এসেছে যা ইতিমধ্যেই আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে কুখ্যাত জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের এক শীর্ষ কমান্ডার মাসুদ ইলিয়াস কাশ্মীরি প্রকাশ্যে স্বীকার করছে ভারতীয় সেনার হামলায় মাসুদ আজহারের পরিবার ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে নানা জল্পনা চললেও এবার সরাসরি জইশ শীর্ষ কমান্ডারের কণ্ঠেই শোনা গেল সেই ঘটনা।
৬ মে গভীর রাতে ভারতীয় সেনা চালায় এক গোপন অভিযান—“অপারেশন সিঁদুর”। লক্ষ্য ছিল পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের জঙ্গিঘাঁটি। সেনা সূত্রের দাবি, একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মুহূর্তের মধ্যেই গুঁড়িয়ে যায় নয়টি বড় জঙ্গি আস্তানা। এর মধ্যে ছিল বাহাওয়ালপুরে জইশ-ই-মহম্মদের সদর দপ্তরও। সেই সময়ই গুঞ্জন ছড়ায়, বিস্ফোরণে মারা গেছে মাসুদ আজহারের পরিবারের একাধিক সদস্য। তবে পাকিস্তানের তরফে তখন গোটা ঘটনার সত্যতা অস্বীকার করা হয়।
কিন্তু এবার পরিস্থিতি বদলেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওয় দেখা যাচ্ছে মাসুদ ইলিয়াস কাশ্মীরি নিজে স্বীকার করছে, বাহাওয়ালপুরে ভারতীয় সেনার হামলায় আজহারের বাড়ি ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, “৭ মে মৌলানা মাসুদ আজহারের পরিবার টুকরো টুকরো হয়ে যায় ভারতীয় সেনার আক্রমণে।” তার পেছনে দাঁড়িয়ে ছিল সশস্ত্র রক্ষীরা। যদিও ওই ভিডিওর সত্যতা এখনও স্বতন্ত্রভাবে যাচাই হয়নি।
পরে বিভিন্ন সূত্র মারফত জানা যায়, ওই হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছিল। তাদের মধ্যে ছিল পাঁচজন শিশু, আজহারের বড় বোন ও তার স্বামী, ভাগ্নে-ভাগ্নি, ভাইপো এবং ঘনিষ্ঠ আত্মীয়রা। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিবৃতিতে মাসুদকে বলতে শোনা গিয়েছিল—“আমার পরিবার আল্লার আশীর্বাদধন্য হয়েছে।” তবে সন্ত্রাসবাদকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা এই কুখ্যাত জঙ্গি স্বভাবতই মুখে কখনও স্বীকার করেনি ভারতীয় সেনার হাতে ভয়াবহ ক্ষতির কথা।
আরও পড়ুনঃ Samik Bhattacharya: “কেশ স্পর্শ করতে পারবে না, সে যে কমিশনই আসুক…”– মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি শমীক ভট্টাচার্যের স্পষ্ট আশ্বাস!
উল্লেখ্য, এই অপারেশনের পেছনে কারণ ছিল ৫ মে পহেলগাঁও জঙ্গি হামলা, যেখানে ২৬ জন নিরীহ মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। ভারতীয় সেনা তারই বদলা নিতে পাক মাটিতে প্রবেশ করে এমন শক্তিশালী আঘাত হানে। শুধু জইশ নয়, লস্কর-ই-তইবা ও হিজবুল মুজাহিদিনের একাধিক ঘাঁটিও ধ্বংস করে দেওয়া হয়। আর সেই আক্রমণেই সন্ত্রাসের অন্যতম বড় আঁতুড়ঘর ধূলিসাৎ হয়ে যায়। মাসুদ আজহারের পরিবার বাস্তবে ভেঙে চুরমার হলেও, পাকিস্তান ও তার মদতপুষ্ট জঙ্গিগোষ্ঠী সত্যিটা এতদিন চাপা দিয়েছিল। এবার নিজেদের শীর্ষ কমান্ডারের মুখেই ফাঁস হল পাক মিথ্যাচারের আসল রূপ।





