সাধারণ পুজোর ছুটির সময় সবাই বাড়ি ফিরলেও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েই চলেছে। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে কলেজ চত্বরে আশ্চর্যজন ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা লক্ষ্য করে কলকাতা হাইকোর্টের একটি শক্তিশালী নির্দেশ শোনা গেল। অনেকেই ভাবছেন, এমন কঠোর ব্যবস্থা কি আসলেই প্রয়োজন ছিল? তবে আদালতের নজরে আসা তথ্য এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত পরিস্থিতি অন্যরকম নির্দেশের প্রয়োজনীয়তাকে প্রমাণ করেছে।
গত মাসে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি জনস্বার্থ মামলা কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের করা হয়। বিচারপতি সুজয় পালের ডিভিশন বেঞ্চ এই মামলার শুনানি শুরু করেন। শুনানিতে ধীরে ধীরে উঠে আসে ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়, বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে বহিরাগতদের প্রবেশ, এবং সিসিটিভি কনট্রোলের প্রয়োজনীয়তা। আদালত এই সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব বাড়িয়ে দিয়েছে।
শুনানির পরিপ্রেক্ষিতে আদালত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে যে, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল হস্টেল বন্ধ করতে হবে। কোনও ঘর খোলা রাখা যাবে না। হস্টেলগুলোর তালা ঝোলানোর তদারকি করবে যাদবপুর থানার পুলিশ। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে কোনও বহিরাগত প্রবেশ করতে পারবে না, এবং ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। আদালত আরও স্পষ্ট করে বলেছে, এই কাজে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পুলিশি সাহায্য নিতে পারবে।
পুজোর ছুটির শেষে হস্টেলগুলি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে। সেই সময় বিশ্ববিদ্যালয় এবং রাজ্য কর্তৃপক্ষ একসাথে বসে নিরাপত্তা সংক্রান্ত সকল বিষয় আলোচনা করবেন। এই আলোচনায় সিসিটিভি স্থাপন, নিরাপত্তা প্রোটোকল, এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা চূড়ান্ত করতে হবে। আদালত নির্দেশ দিয়েছে, বৈঠকের ফলাফল ও প্রস্তাবিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে একটি বিস্তারিত রিপোর্টও হাইকোর্টে জমা দিতে হবে।
আরও পড়ুনঃ Astrology: বিজয়া দশমীতে বিরল গ্রহ-নক্ষত্রের যোগ, ভাগ্য খুলবে এই তিন রাশির
পুজোর মরশুমে শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কলকাতা হাইকোর্ট কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশি সহযোগিতায় এই নির্দেশ বাস্তবায়ন হবে। নিরাপত্তার এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের স্বস্তি দেবে এবং যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে শান্তি বজায় রাখবে। সুতরাং আগামী ৪৮ ঘণ্টায় বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে দৃশ্যমান পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাবে।






