দুর্গাপুরে ঘটে যাওয়া গণধর্ষণকাণ্ডের পর রাজ্যের রাজনৈতিক এবং সামাজিক পরিবেশে উত্তেজনা বেড়েছে। সম্প্রতি দুর্গাপুরে গিয়ে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস এমন মন্তব্য করেছেন যা রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। নির্যাতিতার সঙ্গে দেখা করার পর তাঁর বক্তব্যে ধীরে ধীরে যেন রাজ্যের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা এবং প্রশাসনিক অবস্থা নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ ভাব প্রকাশ পেয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যপাল জানান, দুর্গাপুরের ঘটনার তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাংবিধানিক ক্ষমতা রয়েছে। তবে সর্বসমক্ষে তিনি এ বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করবেন না। তিনি আশ্বস্ত করেছেন, ঘটনার যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি হাওড়া থেকে দুর্গাপুর যাত্রার আগে জানিয়েছিলেন, আগে নির্যাতিতার সঙ্গে কথা বলে পুরো বিষয়টি জেনে তারপর মন্তব্য করবেন। এই আগাম সতর্কতা তাঁর বক্তব্যকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে।
রাজ্যপালের মন্তব্যের রাজনৈতিক ব্যাখ্যা নিয়েও ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বলেন, “রাজ্যপাল অত্যন্ত অভিজ্ঞ। বাংলার মানুষ রাষ্ট্রপতি শাসন অনুমোদন করবেন না। পার্লামেন্টেও দুই-তৃতীয়াংশ মেজারিটি বিজেপির নেই।” অন্যদিকে, বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ মন্তব্য করেছেন, “রাজ্যপাল সাংবিধানিক প্রধান হিসেবে যা বলেছেন, তা বর্তমান প্রশাসনিক পরিস্থিতির প্রতিফলন। বাংলায় ভেঙে পড়া আইনশৃঙ্খলা এবং প্রশাসনিক অবস্থার প্রতিফলন এটি।”
রাজ্যপাল দুর্গাপুরে পৌঁছে বেসরকারি হাসপাতালে নির্যাতিতার সঙ্গে দেখা করেছেন এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলেছেন। এর আগে সন্দেশখালির ঘটনার সময় তিনি দিল্লিতে রিপোর্ট জমা দিয়েছিলেন। এবার সরাসরি ঘটনাস্থলে গিয়ে মন্তব্য করায় রাজনৈতিক এবং সামাজিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ আখ্যায়িত হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ Delhi: দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রীকে গণ*ধর্ষণের চেষ্টা, প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে ছাত্রদের ক্ষোভ!
অন্যদিকে, সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, “এই পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি শাসন প্রসঙ্গে মন্তব্য করে রাজ্যপাল আসলে প্রকারান্তরে তৃণমূলকে সুবিধা দিচ্ছেন।” নির্বাচনী মরশুমে বাংলার বিভিন্ন এলাকায় ঘটে যাওয়া অপরাধ এবং অসামাজিক কার্যকলাপের মধ্যেই এ ধরনের মন্তব্য রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াচ্ছে। দুর্গাপুরে রাজ্যপালের এই ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য তাই এখন সমালোচনা ও বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।






