President Droupadi Murmu : ‘TMC-র ভুয়ো খবরের কারখানা আবার সক্রিয়’—রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে ছবি বিতর্কে তৃণমূলকে তোপ বিজেপির!

রাজনৈতিক মহলে এক নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে একটি ছবি। এই ছবিকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ছবিটি ঘিরে কেন্দ্র-রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরেই রাজনৈতিক নেতারা একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগের তীর ছুঁড়েছেন।

প্রথমেই বলতে হবে, ছবিটিতে দেখা যায় রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ‘ভারতরত্ন’ সম্মান প্রদানের জন্য লালকৃষ্ণ আদবানির হাতে পুরস্কার তুলে দিচ্ছেন। পাশেই বসে আছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, রাষ্ট্রপতিকে যথাযথভাবে সম্মান জানানো হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ছবিটি ঘিরে প্রধানমন্ত্রী মোদীর বিরুদ্ধে তোপ দাগেন। মমতা বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির সম্মান সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, তবু তাকে যথাযথভাবে দাঁড় করিয়ে গ্রহণ করানো হয়নি।’ অভিষেকও একই ছবি তুলে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে সরব হন।

এবার পাল্টা জবাব দিয়েছে বিজেপি। তাদের দাবি, তৃণমূলের দেখানো ছবি নকল। এক্স পোস্টে তারা লিখেছে, ‘TMC-র ভুয়ো খবরের কারখানা আবার সক্রিয়। এখানে শিষ্টাচার ভঙ্গের কোনও ঘটনা ঘটেনি।’ গেরুয়া শিবিরের যুক্তি, সরকারি প্রোটোকল অনুযায়ী ভারতরত্ন প্রদান অনুষ্ঠানে যারা উপস্থিত থাকেন, তারা নির্ধারিত আসনে বসে থাকেন। তাই রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অবস্থানকে ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি করা হয়েছে, তা ভিত্তিহীন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ঘটনা শুধুমাত্র একটি ছবি নয়, বরং তা জাতীয় রাজনীতিতে একটি নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, রাষ্ট্রপতি বসে আছেন এমন ছবি ও দাঁড়িয়ে আছেন এমন ছবিই আসল। জয়প্রকাশ মজুমদার অনলাইন-এ বলেন, ‘ফেক হলে কমপ্লেন করার জায়গা আছে, তাহলে বিজেপি করুন। এখানে কোনও মিথ্যা নেই।’ তাই দুই শিবিরই নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে।

উল্লেখ্য, ছবিটি তোলা হয়েছিল ২০২৪ সালের ৩১ মার্চ। তখন দিল্লিতে লালকৃষ্ণ আদবানি বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। বয়সজনিত কারণে তিনি রাজ্য বা রাষ্ট্রপতি ভবনে গিয়ে পুরস্কার প্রদান করতে পারেননি। সেই সময়ের ছবিই আজ রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর বসা অবস্থান ও রাষ্ট্রপতির দাঁড়ানো নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনা করা হলেও, কংগ্রেসও একই বিষয়ে সরব হয়েছিল।

আরও পড়ুনঃ Jaishankar on Indians Stranded in Iran: “সতর্ক করেছিলাম আগেই, তখন শোনেনি”—ইরানে আটকে ভারতীয়দের প্রসঙ্গে সংসদে স্পষ্ট বার্তা জয়শঙ্করের!

শেষ পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে, একটি সাধারণ ছবি থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। তৃণমূল এবং বিজেপি উভয়ই নিজেদের দিক শক্তভাবে তুলে ধরছে। ছবি নিয়ে বিতর্ক, প্রোটোকল এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ—সবকিছু মিলিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ ও রাজনীতির সংমিশ্রণে একটি নতুন নাটকীয়তা তৈরি হয়েছে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর