ছোটবেলায় ছিলেন ভীষণ দু’ষ্টু! মাত্র ১৪ বছর বয়সে বিয়ে, তারপর বদলে গেলেন সম্পূর্ণ! আশা ভোঁসলেকে নিয়ে স্মৃতিচারণ বন ঊষা মঙ্গেশকরের! প্রকাশ্যে আনলেন প্রয়াত শিল্পীর জীবনের অজানা অধ্যায়?

ভারতীয় সঙ্গীতজগতের অন্যতম কিংবদন্তি শিল্পী আশা ভোঁসলের ছোটবেলার এক অন্যরকম ছবি সামনে আনলেন তাঁর বোন ঊষা মঙ্গেশকর। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, বহু বছর পর প্রথমবার আশাকে দেখে তিনি যেন চিনতেই পারেননি। ছোটবেলায় যাঁকে দুষ্টু, চঞ্চল আর টমবয় স্বভাবের মেয়ে হিসেবে দেখেছিলেন, বিয়ের পর সেই আশার চেহারা ও ব্যক্তিত্বে এসেছিল বড় পরিবর্তন।

ঊষার কথায়, আশা ভোঁসলে যখন বাড়ি ছেড়ে বিয়ে করেন, তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৪ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে। তিনি নিজের থেকে অনেক বড় গণপতরাও ভোঁসলেকে বিয়ে করেছিলেন। সেই ঘটনার পর দীর্ঘদিন পরিবারের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন ছিল। পরে যখন আবার দেখা হয়, তখন আশা ইতিমধ্যেই ছেলে হেমন্তের মা। এতদিন পর বোনকে দেখে ঊষার মনে হয়েছিল, যেন সম্পূর্ণ অন্য একজন মানুষকে দেখছেন।

ঊষা জানান, ছোটবেলায় আশা প্যান্ট, শার্ট আর ওয়েস্টকোট পরে সাইকেল চালিয়ে ঘুরে বেড়াতেন। দুষ্টুমি করতেন, মারপিট করতেন, সবাইকে হাসাতেন এবং সব সময় প্রাণবন্ত থাকতেন। কিন্তু বহু বছর পর দেখা হলে তিনি দেখেন, আশার পরনে সাদা শাড়ি, কপালে বড় টিপ, চুল খোঁপায় বাঁধা, হাতে সোনার চুড়ি ও কব্জিতে ঘড়ি। ছোটবেলার সেই চঞ্চল মেয়ের বদলে তখন অনেক বেশি শান্ত ও পরিণত একজন মানুষকে দেখেছিলেন তিনি।

প্রথম সাক্ষাতের সেই মুহূর্তের আরেকটি স্মৃতিও ভাগ করে নেন ঊষা। তিনি বলেন, আশা তাঁর এলোমেলো চুল দেখে জানতে চেয়েছিলেন কেন ঠিকমতো চুল বাঁধা নেই। এরপর নিজের কাছ থেকে একটি হেয়ারপিন দিয়ে চুল গুছিয়ে নিতে বলেন। ঊষার মতে, দীর্ঘদিন পর দেখা হলেও বড় বোনের সেই যত্ন আর স্নেহের মুহূর্ত আজও তাঁর মনে অমলিন হয়ে রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ শিক্ষকের ভবিষ্যদ্বাণী ছিল ফেল, কিন্তু ফল প্রকাশের দিন সবাইকে চমকে দিলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়! জানেন, মাধ্যমিকে কত নম্বর পেয়েছিলেন ‘দাদা’?

পরিবারের সঙ্গে আশার সম্পর্কও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়েছিল ছেলে হেমন্তের জন্মের পর। ঊষা জানান, প্রথম নাতির জন্মে তাঁদের মা খুবই আনন্দিত হয়েছিলেন। পরে অসুস্থতার কথা জানিয়ে আশা মাকে নিজের কাছে আসতে বলেন। সেই সময় থেকেই দুই পরিবারের মধ্যে আবার যোগাযোগ শুরু হয়। তবে আশা ভোঁসলের বাড়ি ছেড়ে বিয়ে করার সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি কষ্ট পেয়েছিলেন বড় বোন লতা মঙ্গেশকর। আশা নিজেও এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, এই বিয়ে মেনে নিতে না পারায় লতা দীর্ঘদিন তাঁর সঙ্গে কথা বলেননি।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর