ক্যারিবিয়ানের কেম্যান দ্বীপে কি লুকিয়ে তৃণমূলের ‘গুপ্তধন’? ১৫ কোটি টাকার বিদেশি লেনদেন, ৭০-৮০ কোটি টাকার মানি ট্রেল ও হেলিকপ্টার কেনার অভি*যোগে বাড়ছে রহ*স্য! এবার বাংলার রাজনীতিতে সবুজ শিবিরের সবচেয়ে বড় আর্থিক কে*লেঙ্কারির পর্দা হবে ফাঁস?

বাংলার রাজনীতিতে গত কয়েক বছর ধরে একের পর এক আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি এবং অর্থ পাচারের অভিযোগ উঠে এসেছে তৃণমূল কংগ্রেসকে ঘিরে। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি, গরু ও কয়লা পাচার থেকে শুরু করে বিভিন্ন আর্থিক কেলেঙ্কারির তদন্তে ইতিমধ্যেই বহু চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। রাজনৈতিক পালাবদলের পর তদন্তের গতি আরও বেড়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। সেই আবহেই এবার উত্তর আমেরিকার করস্বর্গ হিসেবে পরিচিত কেম্যান আইল্যান্ডসের সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের সম্ভাব্য আর্থিক যোগসূত্র নিয়ে নতুন করে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক বিতর্ক। অভিযোগ উঠেছে, কেম্যান দ্বীপের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার মানি ট্রেল, বিদেশি ঋণ এবং হেলিকপ্টার কেনার জন্য অর্থ লেনদেনের নেপথ্যে বড়সড় আর্থিক কারচুপির সম্ভাবনা রয়েছে।

এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের বিক্ষুব্ধ বিধায়ক প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিস্ফোরক অভিযোগকে কেন্দ্র করে। তাঁর দাবি, তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে কেম্যান আইল্যান্ডসের আর্থিক যোগসূত্রের তথ্য সামনে এসেছে এবং আগামী দিনে এই মানি ট্রেলের সঙ্গে বাংলাদেশেরও যোগ মিলতে পারে। তিনি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার মাধ্যমে বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। প্রসূনের অভিযোগ, তৃণমূল নেতাদের একাংশের সম্পত্তি বাংলাদেশেও রয়েছে, যা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, কেম্যান আইল্যান্ডস থেকে একটি সেল অ্যান্ড ফিন্যান্স কোম্পানির মাধ্যমে প্রায় ১.৭৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের আনসিকিওরড লোন নেওয়া হয়েছিল একটি হেলিকপ্টার কেনার উদ্দেশ্যে। এই পুরো বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন বলে জানা গিয়েছে।

তদন্তে উঠে আসা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নাম হল কেয়ারওয়েল অ্যাভিয়েশন অফ ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড। অভিযোগ অনুযায়ী, এই কলকাতা ভিত্তিক সংস্থার অ্যাকাউন্টে একদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ কোটি টাকা গিয়েছে বলে তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, অন্যদিকে কেম্যান আইল্যান্ডসের একটি সংস্থা থেকে প্রায় ১৫ কোটি টাকা এসেছে। আরও অভিযোগ, ২০২১ সালের আগে সংস্থাটি মূলত একটি সাধারণ ট্রাভেল এজেন্সি হিসেবে কাজ করলেও পরবর্তী সময়ে বিপুল আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে হেলিকপ্টার ও বিমান কেনার মতো বড় ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরু করে। তদন্তকারী সংস্থার সন্দেহ, নির্বাচনী প্রচারে ব্যবহৃত হেলিকপ্টার কেনার অর্থের উৎস এবং সেই অর্থের ব্যবহার নিয়ে একাধিক অসঙ্গতি থাকতে পারে। যদিও এই সমস্ত অভিযোগ এখনও তদন্তাধীন এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির তরফে এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনও আইনি সিদ্ধান্ত সামনে আসেনি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কেম্যান আইল্যান্ডস, ভানুয়াতু, মোনাকো, লুক্সেমবার্গ এবং ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডসের মতো অঞ্চলগুলিকে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ট্যাক্স হেভেন বা করস্বর্গ বলা হয়। এই সমস্ত অঞ্চলে কর্পোরেট ট্যাক্স বা আয়করের হার অত্যন্ত কম কিংবা অনেক ক্ষেত্রে শূন্য হওয়ায় বহু বহুজাতিক সংস্থা এবং ব্যক্তি আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে এই দেশগুলিকে ব্যবহার করে থাকে। সাধারণত দুটি উপায়ে অর্থ পাচার বা কর ফাঁকির অভিযোগ সামনে আসে প্রথমত, আইনের ফাঁকফোকর ব্যবহার করে বিদেশে শাখা সংস্থা খুলে কর এড়ানো এবং দ্বিতীয়ত, হাওলার মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর করা। অনেক ক্ষেত্রেই কাগজে-কলমে অস্তিত্ব থাকা সেল কোম্পানির মাধ্যমে এই ধরনের আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেন সম্পন্ন হয় বলে আর্থিক বিশ্লেষকদের একাংশের মত। অভিযোগ উঠেছে, কেম্যান আইল্যান্ডসের ক্ষেত্রেও সেই ধরনের কোনও আর্থিক কাঠামো ব্যবহার করা হয়েছে কিনা, তা এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এই ঘটনায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ভানুয়াতুর প্রসঙ্গ। এর আগে কয়লা পাচার মামলায় অভিযুক্ত এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ বিনয় মিশ্র ভানুয়াতুতে আশ্রয় নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছিল। ফলে আন্তর্জাতিক ট্যাক্স হেভেন অঞ্চলগুলির সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ও আর্থিক যোগসূত্রের প্রশ্ন নতুন করে সামনে এসেছে। অন্যদিকে, বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষও এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে কটাক্ষ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, সাধারণ মানুষ হয়তো ভূগোল বইয়ে কেম্যান দ্বীপের নাম পড়েছিলেন, কিন্তু তৃণমূলকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের জেরেই আজ সেই দ্বীপগুলির নাম নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

আরও পড়ুনঃ পাসওয়ার্ড বা ওটিপি কাউকে না জানিয়েও অ্যাকাউন্ট থেকে উধাও লক্ষাধিক টাকা ! সাইবার জা’লিয়াতির শিকার জনপ্রিয় অভিনেত্রী! ঠিক কী ঘটেছে তাঁর সঙ্গে? জানলে চমকে উঠবেন!

এই প্রতিবেদনে উল্লেখিত সমস্ত তথ্য, অভিযোগ এবং বিশ্লেষণ বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদন, তৃণমূল বিধায়ক প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকাশ্য বক্তব্য এবং ডিজিটাল সংবাদমাধ্যম ‘দ্য বং ভয়েস’-এর সম্পাদক প্রকাশ সিনহার প্রকাশিত ভিডিও প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সংকলিত হয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তদন্তাধীন। তদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট এবং আদালতের পর্যবেক্ষণের পরই এই অভিযোগগুলির প্রকৃত সত্যতা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া সম্ভব হবে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর