“কলকাতায় এসে চিনলাম উত্তম-সুচিত্রাকে!” উত্তম কুমারের জনপ্রিয়তা শুনে একসময় ভাবতেন, ‘কে এই লোকটা, কেন এত মাতামাতি?’ সুচিত্রা সেনকেও চিনতেন না লিলি চক্রবর্তী! স্মৃতিচারণে আবেগপ্রবণ অভিনেত্রী! পরবর্তীতে কীভাবে মহানায়ক ও মহানায়িকা সঙ্গে আত্মীয়তার সম্পর্ক গড়ে উঠল তাঁর?

উত্তম কুমার মানেই বাঙালির কাছে এক আলাদা আবেগ। তাঁর অভিনয়, ব্যক্তিত্ব এবং জনপ্রিয়তার গল্প আজও বাংলা সিনেমাপ্রেমীদের মনে সমানভাবে উজ্জ্বল। সম্প্রতি গিয়েছে মহানায়কের জন্মশতবর্ষ। সেই উপলক্ষেই এক সাক্ষাৎকারে উত্তম কুমারকে নিয়ে নিজের পুরনো স্মৃতির কথা ভাগ করে নিলেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী লিলি চক্রবর্তী। তাঁর কথায় উঠে এল এমন এক সময়ের গল্প, যখন তিনি কলকাতায় থাকতেন না। ফলে চারপাশে উত্তম কুমারকে নিয়ে যতই উন্মাদনা থাকুক, সেই জনপ্রিয় অভিনেতাকে তখনও সেভাবে চিনতেন না তিনি।

অভিনেত্রী জানান, তাঁর যখন প্রায় ১২ থেকে ১৪ বছর বয়স, তখন উত্তম কুমারের জনপ্রিয়তার কথা শুনতেন ঠিকই। কিন্তু সেই জনপ্রিয়তার কারণটা তাঁর কাছে একেবারেই স্পষ্ট ছিল না। বরং উত্তম কুমারকে নিয়ে এত মাতামাতি দেখে তাঁর মনে প্রশ্ন জাগত, কে এই মানুষটি, যাঁকে নিয়ে সবাই এত কথা বলছে? শুধু উত্তম কুমারই নন, সুচিত্রা সেন সম্পর্কেও তখন তাঁর একই রকম অজ্ঞতা ছিল। সেই বয়সে কলকাতার বাইরে থাকায় বাংলা ছবির জগতে এই দুই তারকার যে কী বিপুল প্রভাব, তা বুঝে ওঠার সুযোগ হয়নি তাঁর।

আরও পড়ুন: গলায় কণ্ঠীর মালা, কপালে তিলক, টুম্পার নতুন রূপে চমকে দিলেন টুম্পা ঘোষ! কৃষ্ণভক্তিতে মগ্ন হয়ে অভিনয় থেকে দূরে, তাহলে কি আর পর্দায় ফিরবেন না তিনি? দর্শকদের মিস করেন আজও, হঠাৎ কেন আধ্যাত্মিকতার পথ বেছে নিলেন অভিনেত্রী? কৃষ্ণের শরণ নিয়ে কীভাবে বদলে গিয়েছে তাঁর জীবন?

এরপর বয়স একটু বাড়লে কলকাতায় ফিরে আসেন লিলি চক্রবর্তী। আর কলকাতায় পা রাখার পরই যেন তাঁর সামনে খুলে যায় বাংলা সিনেমার এক নতুন জগৎ। তখনই তিনি বুঝতে পারেন উত্তম কুমার এবং সুচিত্রা সেন আসলে কারা, তাঁদের ঘিরে কেন এত উন্মাদনা। সেই স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অভিনেত্রী নিজেই বলেছেন, “কলকাতায় এসে চিনলাম উত্তম-সুচিত্রাকে!” তাঁর এই কথার মধ্যেই যেন ধরা পড়ে গিয়েছে ছোটবেলার সেই বিস্ময় এবং পরে কলকাতায় এসে মহানায়ক-মহানায়িকার জনপ্রিয়তাকে নিজের চোখে দেখার অভিজ্ঞতা।

পরবর্তীকালে সেই উত্তম কুমারেরই সহ-অভিনেত্রী হিসেবে কাজ করার সুযোগ পান লিলি চক্রবর্তী। শুধু পর্দায় সহকর্মী হিসেবেই তাঁদের সম্পর্ক সীমাবদ্ধ থাকেনি। কাজ করতে করতে উত্তম কুমারের সঙ্গে তাঁর এমন একটি সুন্দর সম্পর্ক তৈরি হয়, যা ধীরে ধীরে সহকর্মীর গণ্ডি পেরিয়ে দাদা-বোনের সম্পর্কের মতো হয়ে উঠেছিল। মহানায়কের সঙ্গে কাজের সেই দিনগুলির নানা স্মৃতি আজও অভিনেত্রীর মনে গভীরভাবে রয়ে গিয়েছে। একসময় যাঁর জনপ্রিয়তা শুনে ছোট্ট লিলির মনে প্রশ্ন জাগত, ‘কে এই লোকটা?’, পরবর্তীকালে সেই মানুষটির সঙ্গেই তাঁর তৈরি হয়েছিল এক আন্তরিক পারিবারিক সম্পর্ক।

উত্তম কুমারের সঙ্গে সেই সম্পর্কের কথা বলতে গিয়ে স্বাভাবিকভাবেই আবেগপ্রবণ হয়ে ওঠেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী। তাঁর স্মৃতিতে মহানায়ক শুধুই বাংলা ছবির এক জনপ্রিয় নায়ক নন, বরং এমন একজন মানুষ, যাঁর সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে তৈরি হয়েছিল গভীর আন্তরিকতা ও আপনজনের সম্পর্ক। তাই উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষের আবহে অতীতের সেই দিনগুলির কথা মনে পড়লে আবেগ সামলাতে পারেন না লিলি চক্রবর্তী। ছোটবেলায় দূর থেকে শোনা উত্তম কুমারের জনপ্রিয়তা, কলকাতায় এসে তাঁকে চিনে নেওয়া এবং পরে তাঁরই সহ-অভিনেত্রী হয়ে ওঠা, লিলি চক্রবর্তীর জীবনের এই সফর যেন মহানায়কের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক বিশেষ স্মৃতি।

আরও অন্যান্য খবর