গত দু’দিনের পর্ব দেখার পর অনেক দর্শকেরই মনে হয়েছে, বিগ বসের ঘরে যেন খেলা এখন রাজবীর বনাম বাকি সদস্যদের হয়ে দাঁড়িয়েছে।পারফরম্যান্সের দিক থেকে রাজবীর যথেষ্ট ভালো খেললেও কেন বারবার তাঁকেই নিশানা করা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এক দর্শকের বক্তব্য, “ছেলেটার সঙ্গে সবার ঠিক কী সমস্যা, সেটা সত্যিই বোঝা দায়। পারফরম্যান্সের দিক থেকে তো রাজবীর যথেষ্ট ভালোই খেলছে। তাহলে বারবার তাঁকে ঘিরেই এত সমস্যা কেন তৈরি হচ্ছে, সেটাই বুঝতে পারছি না। মনে হচ্ছে, ওকে আলাদা করে দেওয়ার একটা চেষ্টা চলছে। আজকের পর্বে তাই অনেকের চোখেই পুরো খেলাটা যেন রাজবীর বনাম বাকি সবাই হয়ে উঠেছিল।”
সকালের একটি ঘটনাতেও তনুশ্রী এবং ভরত কলের আচরণ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন ওই দর্শক। তাঁর মতে, খাবারের ব্যবস্থা করা বিগ বসের দায়িত্ব এবং নিয়মিত শরীরচর্চা করা একজন প্রতিযোগীর প্রোটিনের প্রয়োজন থাকাটাও স্বাভাবিক। দুধে টান পড়তে পারে, সেটা জেনেই রাজবীর অতিরিক্ত দুধ খেয়েছিলেন, তাও আবার রাতের দিকে কিছুটা দুধ বেঁচে যাওয়ার পর। তাই এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এতটা বিষয় তৈরি করার কোনও কারণ ছিল না বলেই মনে করেছেন তিনি। তাঁর কথায়, “রাজবীর নিয়মিত ওয়ার্কআউট করে, তাই শরীরে প্রোটিনের প্রয়োজন থাকবেই। দুধে টান পড়ছে জেনেও সে অতিরিক্ত দুধ খেয়েছিল ঠিকই, কিন্তু সেটা রাতের দিকে বেঁচে যাওয়ার পর। এটা নিয়ে তনুশ্রী আর ভরত যেভাবে বিষয়টা তুললেন, সেটা আমার কাছে কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি।”
রাজবীরের সঙ্গে ভাষা নিয়েও যেভাবে কথা বলা হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ওই দর্শক। বিশেষ করে ঝিলমের মুখে “বাংলা শিখে আয়” মন্তব্যটি তাঁর কাছে অপ্রয়োজনীয় মনে হয়েছে। তাঁর মতে, রাজবীর নিজেকে বোঝানোর চেষ্টা করছেন এবং সাধারণ কথাবার্তাতেও বাংলা বলার চেষ্টা করছেন। এমনকী ঘরের অনেক সদস্যের তুলনায় তিনি কম ইংরেজি ব্যবহার করছেন বলেও মনে করেন ওই দর্শক। তাই শুধুমাত্র ভাষার কারণে তাঁকে বারবার আক্রমণ করার বিষয়টি মেনে নিতে পারছেন না তিনি। অন্যদিকে অ্যালেক্সও ভাঙা বাংলায় কথা বলার চেষ্টা করছেন, কিন্তু তাঁর সঙ্গে একইভাবে কেউ কথা বলছেন না বলেও অভিযোগ দর্শকের। তাঁর বক্তব্য, “রাজবীর নিজেকে বোঝানোর চেষ্টা করছে, ধীরে ধীরে বাংলা বলারও চেষ্টা করছে। তাহলে ওর পেছনেই বারবার লাগতে হবে কেন? অ্যালেক্সও তো ভাঙা বাংলায় কথা বলে, কিন্তু ওকে নিয়ে তো এমনভাবে কেউ তেড়ে যায় না।”
সবচেয়ে বেশি আপত্তি উঠেছে রাজবীরকে ইচ্ছা করে রাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে। ওই দর্শকের মতে, ঘরের সদস্যরা বুঝে গিয়েছেন যে রাজবীর কিছুটা শর্ট টেম্পার্ড, আর সেই বিষয়টিকেই তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি মনে করেন, ইচ্ছা করে তাঁকে উত্তেজিত করার একটা প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যাতে তিনি রেগে গিয়ে প্রতিক্রিয়া দেন। রাজবীর যখন ‘‘পুকুরের মাছ পুকুরেই থাকবে’’ মন্তব্য করেন, তখন সবাই মিলে তাঁর বিরুদ্ধে একজোট হয়ে যান বলেও দাবি দর্শকের। ঝিলমের ‘‘খেলা যার যার, রাজবীর হারলে আনন্দ সবার’’ মন্তব্যটিকেও তাঁর কাছে একেবারেই ভালো লাগেনি। তাঁর কথায়, ‘‘রাজবীর একটু রেগে যায়, এটা ওরা বুঝে গিয়েছে। তাই ওকে ইচ্ছে করে প্রোভোক করা হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। ‘রাজবীর হারলে আনন্দ সবার’ ধরনের কথা শুনে আমার খুবই লেম লেগেছে। এভাবে কাউকে আলাদা করে টার্গেট করে খেলাটা আমার কাছে মোটেই স্বাভাবিক মনে হয়নি।’’
আরও পড়ুনঃ ‘আমাকে খুব পছন্দ করে, কিন্তু ও বিবাহিত, লোকলজ্জার ভয়ে বলতে পারে না!’ মঞ্চেই জনপ্রিয় নায়িকার ‘গোপন পছন্দ’ ফাঁস অম্বরীশের! কে সেই নায়িকা জানেন?
খেলার বাকি সদস্যদের নিয়েও নিজের মতামত জানিয়েছেন ওই দর্শক। তাঁর মতে, ঝিলম এবং নিরঞ্জনের তরফে এখনও পর্যন্ত খুব একটা শক্তিশালী অবদান চোখে পড়ছে না, বরং তাঁদের বেশি দেখা যাচ্ছে পিএনপিসি করতে। ভরত কলের ভূমিকাও তাঁর কাছে অনেকটাই নিষ্ক্রিয় বলে মনে হয়েছে এবং বিশেষ কোনও অবদান তিনি দেখতে পাচ্ছেন না। তাঁর দাবি, রাজবীর এবং জিতু কমল আসার পর থেকেই বিগ বসের খেলায় অনেকটা পরিবর্তন এসেছে। পুরো পরিস্থিতি দেখে তাঁর আশঙ্কা, রাজবীরের পর হয়তো জিতু কমলকেও টার্গেট করা হতে পারে। এমনকী পরের সপ্তাহে রাজবীরের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি নমিনেশন ভোট যেতে পারে বলেও নিজের আশঙ্কা জানিয়েছেন তিনি। শেষে তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, “আমি শেষ পর্যন্ত শুধু রাজবীর আর জিতু কমলকেই ভোট করব। আমার মতে, এই দু’জনই শেষ পর্যন্ত যাওয়ার মতো প্লেয়ার।”






