শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সবুজ এলাকা রবীন্দ্র সরোবরের সংস্কার ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে একাধিক পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। সম্প্রতি সরোবর পরিদর্শনে গিয়ে তিনি জানান, জল পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি ভিতরে খাবার নিয়ে প্রবেশেও নিষেধাজ্ঞা থাকবে। একই সঙ্গে রবীন্দ্র সরোবরে কুকুর নিয়ে ঢোকাও নিষিদ্ধ করার কথা জানান তিনি। অগ্নিমিত্রার বক্তব্য, সরোবরের ভিতরে কুকুরের মলত্যাগের কারণে পরিবেশ নোংরা হচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করেন, এই সিদ্ধান্ত কুকুরের বিরুদ্ধে নয়, বরং শহরের গুরুত্বপূর্ণ এই জায়গাটি পরিষ্কার রাখার উদ্দেশ্যেই নেওয়া হয়েছে।
এই ঘোষণার পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় দীর্ঘ পোস্ট করেন অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। পোস্টে কারও নাম সরাসরি উল্লেখ না করলেও তাঁর বক্তব্যের ইঙ্গিত অগ্নিমিত্রা পালের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের দিকেই বলে মনে করছেন অনেকে। শ্রীলেখা লেখেন, যদি রাস্তা, পার্ক ও ফুটপাত থেকে কুকুর-বিড়ালকে সরিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তাদের থাকার জায়গা কোথায় হবে? এমনকি পশুদের খাবার দেওয়ার বিষয়েও নিষেধাজ্ঞা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। ব্যঙ্গের সুরে অভিনেত্রী লেখেন, এভাবে সব জায়গা থেকে সরিয়ে দিলে এবার হয়তো পশুদের আকাশে উড়ে বেড়ানোর জন্য ডানা বানিয়ে দিতে হবে।
শুধু পশুদের প্রসঙ্গেই থামেননি শ্রীলেখা। সাধারণ মানুষের জীবনযাপন নিয়েও নিজের প্রশ্নের কথা জানান তিনি। ফুটপাতে থাকা মানুষ, শিশুর দুধ গরম করা, দরিদ্র মানুষের রুজি-রোজগার এবং দূর থেকে সবজি বা মাছ নিয়ে আসা মানুষদের সমস্যার প্রসঙ্গ তোলেন অভিনেত্রী। তাঁর বক্তব্য, রাস্তা বা পার্ক কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয় এবং মানুষ ও অন্য প্রাণী, দুজনেরই এই পৃথিবীতে থাকার অধিকার রয়েছে। পোস্টের শেষদিকে তিনি বর্তমান সরকারের নীতির সমালোচনা করেন এবং পশুদের বিষয়ে আগের সরকারের সঙ্গে তুলনাও টানেন।
শ্রীলেখার ওই পোস্টের নিচে এক নেটিজেনও নিজের মতামত জানান। তাঁর প্রশ্ন, একজন বিধায়ক বা মন্ত্রী হিসেবে অগ্নিমিত্রা পাল কি এই ধরনের নির্দেশ দেওয়ার ক্ষেত্রে এককভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন? মন্তব্যে ওই ব্যক্তি জনপ্রতিনিধির ক্ষমতা ও দায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। পাশাপাশি তিনি বলেন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের প্রতি মানুষের দেওয়া ম্যান্ডেটেরও একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা রয়েছে। যদিও এই মন্তব্যটি সংশ্লিষ্ট নেটিজেনের ব্যক্তিগত মতামত হিসেবেই সামনে এসেছে।
আরও পড়ুনঃ “রাজবীরের সঙ্গে সবার এত সমস্যা কেন? ছেলেটা তো যথেষ্ট ভালো!” “রাজবীরকে ইচ্ছে করে রাগিয়ে দিয়ে টার্গেট করা হচ্ছে, ওকে একঘরে না করে খেলাটা পরিষ্কারভাবে খেলুন!” বিগ বস বাংলার বাকি প্রতিযোগীদের মানসিকতা নিয়ে ক্ষো’ভ দর্শকদের! আপনাদের কি মতামত?
এর আগে পার্ক স্ট্রিটের ফুটপাতে শিশুর জন্য দুধ গরম করা এক মহিলাকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ ঘিরেও বিতর্কে জড়িয়েছিলেন অগ্নিমিত্রা পাল। ঘটনার ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসার পর তাঁর আচরণ নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। পরে অগ্নিমিত্রা জানান, ওই ঘটনার ক্ষেত্রে তাঁর আরও ভালোভাবে বিষয়টি বোঝানো উচিত ছিল। পরবর্তী সময়ে ওই পরিবারটির জন্য থাকার ব্যবস্থা এবং মহিলার কর্মসংস্থানের ব্যবস্থার কথাও জানান তিনি।






