ঝড়কেও বশ করার ক্ষমতা রাখেন, ঝড় সম্বন্ধে তাঁর ভবিষ্যৎবাণী অক্ষরে অক্ষরে সত্যি, ভারতের সাইক্লোন ম্যান

আবহাওয়া বিষয়টি আদপে বেশ জটিল। কখন পরিবেশের কী মর্জি হবে, তা বোঝা দায়। এই রোদ তো এই বৃষ্টি। এই করে কতরকমের পরিকল্পনা মাঝেমধ্যে ভেস্তে যায়। এই কারণেই ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস পাওয়া অত্যন্ত জরুরি।

আর এই কাজটিই দীর্ঘ বছর ধরে করে আসছেন মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র। তিনি ভারতের সাইক্লোন ম্যান নামেও বিশেষ পরিচিত। ২০০৮ সালে থেকে এখনও পর্যন্ত প্রত্যেকটা ঝড়ের সঠিক পূর্বাভাস দিয়ে আসছেন এই ব্যক্তি।

হুদহুদ, মেকুনু, ফাইলিন, তিতলি, ফণী, নানান ঝড়ের ক্ষেত্রেই আগাম সতর্কতা জারি করেন মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র। এর জেরে অনেক বড় বড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। ২০১৯ সালের ফণী ঝড়ের পূর্বাভাস দেওয়ার জন্যও তিনি রাষ্ট্রসংঘের তরফে প্রশংসা পেয়েছিলেন।

তবে তাঁর এই কৃতিত্বের জন্য তিনি উন্নত প্রযুক্তিকেই ধন্যবাদ জানান। গত ২৭ বছর ধরে আবহবিজ্ঞানকেই সঙ্গী করে নিয়েছেন তিনি। বর্তমানে, ভারতের আবহবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র।

তার জ্ঞানের ফলেই ২০০৮ সাল থেকে এভাবেই একের পর এক ঘূর্ণিঝড়ের সঠিক পূর্বাভাস দিতে সক্ষম হচ্ছে ভারতীয় আবহবিজ্ঞান দফতরের আঞ্চলিক বিশেষজ্ঞ শাখা। বঙ্গোপসগর, আরবসাগর ও উত্তর ভারত মহাসাগরের ক্রান্তীয় এলাকার যে দেশগুলির দ্বারা ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ হয় তাদের প্রশংসাও কুড়িয়ে নেয় ভারত।

আরও পড়ুন- যশ মোকাবিলায় প্রস্তুত পুরুলিয়া! মোতায়েন সেনাবাহিনী, NDRF

১৯৯২ সালে পুনের আবহ দফতর থেকে মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র নিজের কর্মজীবন শুরু করেন। এরপর ওড়িশার বালাসোরে ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনে কাজ করেন কিছু বছর। ২০০৮ সালে ভারতীয় আবহবিজ্ঞান শাখার আঞ্চলিক বিশেষজ্ঞ শাখার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন তিনি।

এরপর একের পর এক ঝড়ের গতিপথ, গতিবেগ, সময়কাল, সমস্ত তথ্য নির্ভুলভাবে দিয়ে আসছেন মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র। ২০১৯ সালে পাঁচ বছরের জন্য তিনি ভারতীয় আবহবিজ্ঞান দফতরের প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হন।

তাঁর মতে, ঘূর্ণিঝড় ফনির সঠিক পূর্বাভাস দেওয়া তাদের জন্য একটি বড় ঘটনা ছিল কারণ অন্যান্য এজেন্সির দাবী, ছিল ফণী ঘণ্টায় ৩৪০ কিলোমিটার বেগে আছড়ে পড়বে। কিন্তু ভারতীয় আবহবিজ্ঞান দফতর ঝড়ের গতিবেগ বলেছিল ২২০ কিলোমিটার এবং শেষপর্যন্ত সেই গতিবেগেই আছড়ে পড়ে ঘূর্ণিঝড় ফণী।

RELATED Articles