সাম্প্রতিককালে, বাড়ি ভাড়া পাওয়া যেন এক বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আবার বাড়ি ভাড়া পেলেও বাড়িওয়ালারা ভাড়া হাঁকাচ্ছেন প্রচুর। কোথাও আবার ভাড়াটের উৎপাতের কারণে বাড়িওয়ালারা বাড়ি ভাড়া দিতেই চান না। এই কারণে গোটা দেশে লক্ষ লক্ক ফ্ল্যাট ফাঁকা পড়ে রয়েছে।
এসবের জেরে বাড়িওয়ালা ভাড়াটে, উভয়পক্ষকেই সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এই সমস্যার সমাধান করতে এবার মডেল বাড়িভাড়া আইন নিয়ে এল মোদী সরকার। এর আগে এই আইনে বড়সড় সংস্কার আনা হয়। এবার এই আইনের আওতায় দেশের নানান জেলার ভাড়াটে ও মালিকদের স্বার্থ রক্ষার জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল, কর্তৃপক্ষ ও আদাল গঠন করা হবে বলে জানা গিয়েছে।
এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় আবাসন ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি জানান, “এই পদক্ষেপটি সারা দেশে আবাসিক ভাড়া আইনি কাঠামোকে আরও নিয়মবদ্ধ ও সুনিয়ন্ত্রিত করবে। রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলি নতুন আইন তৈরি করে বা বর্তমান বিধি সংশোধন করে মডেল টেন্যান্সি আইনটি প্রয়োগ করতে পারে”।
এই মডেল বাড়িভাড়া আইন আসলে কী?
ভাড়াটে ও বাড়িওয়ালা, উভয়কেই সুবিধা প্রদানের আইন হল এই মডেল বাড়িভাড়া আইন। এই আইন অনুযায়ী, ভাড়াটে যদি পূর্বনির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাড়ি না ছাড়েন, তাহলে তাঁকে প্রথম দু’মাস দ্বিগুন ভাড়া দিতে হবে। এই দু’মাসের মধ্যেও যদি তিনি বাড়ি না ছাড়েন, তাহলে এরপর থেকে তাঁকে প্রতিমাসে চারগুন ভাড়া দিতে হবে বাড়িওয়ালাকে।
এই আইনে এও বলা হয়েছে যে কোনও ব্যক্তি যদি ব্যক্তিগত কারণে বাড়িভাড়া নেন, তাহলে তাঁকে বাড়িওয়ালাকে সিকিউরিটি ডিপোজিট হিসেবে দু’মাসের ভাড়া অগ্রিম দিতে হবে। আর যদি ব্যবসার জন্য বাড়িভাড়া নেওয়া হয়, তাহলে বাড়িওয়ালাকে দিতে হবে ছ’মাসের অগ্রিম টাকা। ভাড়াটে অন্য কাউকে সেই বাড়ি ভাড়া দিতে পারবেন না।
এর পাশাপাশি ভাড়াটের পক্ষেও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে এই আইনে। এই আইন অনুযায়ী, বাড়িওয়ালা যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সিকিউরিটি ডিপোজিটের টাকা ফেরত দিতে না পারেন, তাহলে সেই টাকার উপর বাড়িওয়ালাকে সুদ দিতে হবে। বাড়ির ভাড়া বাড়াতে হলে ভাড়াটেকে তিনমাস আগেই নোটিশ দিতে হবে বাড়িওয়ালাকে।
এই আইনে এমনও বলা হয়েছে, বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটের যদি লিখিত সম্মতি থাকে, তাহলে জোর করে ভাড়াটেকে উচ্ছেদ করা যাবে না। এছাড়াও, বাড়ির কোনও কাঠামোগত মেরামতি, ইলেকট্রিক মেরামতি।, বাড়ির রঙ, নলকূপের পাইপ বদলানো, এসবের খরচা দেবে বাড়িওয়ালা।
বাড়িভাড়া সংক্রান্ত কোনও সমস্যায় বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটে উভয়েই যেতে পারেন রেন্ট অথরিটির কাছে। সেখানে সমস্যার সমাধান না হলে, রেন্ট ট্রাইব্যুনালের কাছে যাওয়া যেতে পারে বলেও জানানো হয়েছে এই আইনে।
কেন্দ্রের আশা, এই আইনের ফলে ফাঁকা পড়ে থাকা বাড়িগুলিতে ভাড়াটে আসবে। এই আইনের ফলে মালিক ও ভাড়াটের মধ্যেও বিবাদ দূর হবে বলে আশা করছে কেন্দ্র।






