আজ স্বাধীনতা দিবসের ৭৫তম বর্ষপূর্তি। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে চলতি মাসের শুরু থেকেই নানান কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে মোদী সরকারের তরফে। স্বাধীনতা দিবসের দিন আনন্দে মেতে উঠেছে গোটা দেশ। এদিন লালকেল্লা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জাতির উদ্দেশ্যে কী ভাষণ দেন, তার দিকে নজর ছিল সকলের।
স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লা থেকে নরেন্দ্র মোদী যে ভাষণ দিলেন, তাতে অর্থবহ ইঙ্গিত মিলল বটে। এদিন মহাত্মা গান্ধী ও বিনায়ক দামোদর সাভারকারকে একাসনে বসালেন মোদী। শুধু সাভারকারই নয়, হিন্দুত্ববাদীদের আরও এক নায়ক শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কেও এদিন সম্মান জানান প্রধানমন্ত্রী।
এদিন লালকেল্লা থেকে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে মোদী ফের একবার স্মরণ করিয়ে দেন যে স্বাধীনতা সংগ্রামীরা দেশকে বিদেশীদের হাত থেকে মুক্ত করতে কীভাবে মরণপণ লড়াই করেছিলেন। উত্তর-পূর্ব থেকে দাক্ষিণাত্য সবমিলিয়ে ভারতবর্ষের বিভিন্ন অঞ্চলের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের কথা উঠে আসে প্রধানমন্ত্রী মোদীর কণ্ঠে। তিনি বলেন, “মঙ্গল পাণ্ডে, তাতিয়া টোপে, ভগৎ সিং, সুখদেব, রাজগুরু, চন্দ্রশেখর আজাদ, আশফাকুল্লা খান, রামপ্রসাদ বিসমিলের মতো স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আজ ধন্যবাদ জানাচ্ছে দেশ”।
প্রধানমন্ত্রীর কথায়, “স্বাধীনতার বিষয়ে কথা বলার সময় আমরা আদিবাসী সমাজের অবদানের কথা ভুলতে পারি না। ভগবান বিরসা মুণ্ডা, সিধু-কানু, আল্লুরি সীতারাম রাজু, গোবিন্দ গুরু এমন অনেক সংগ্রামী স্বাধীনতার আওয়াজ হয়ে উঠেছিলেন”।
https://twitter.com/ANI/status/1558999745229918208?ref_src=twsrc%5Etfw%7Ctwcamp%5Etweetembed%7Ctwterm%5E1558999745229918208%7Ctwgr%5Efae2d84bcade3eb6f926fa1f6a9fb8ce99744f71%7Ctwcon%5Es1_&ref_url=https%3A%2F%2Fwww.sangbadpratidin.in%2Findia%2Fpm-modi-pays-homage-to-veer-savarkar-from-red-fort%2F
লালকেল্লা থেকে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের সম্মান জানাতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন হিন্দুত্ববাদীদের আইকন বীর সাভারকার ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের কথা। জল্পনা উসকে তিনি বলেন, “আজ দেশবাসী মহাত্মা গান্ধী, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, বীর সাভারকরের প্রতি কৃতজ্ঞ। তাঁরা স্বাধীনতার জন্য নিজেদের প্রাণ বিসর্জন দিয়েছিলেন”।
বিজেপির শাসনকালে যে দেশে হিন্দুত্ববাদ দাপট বেড়েছে, তা বেশ স্পষ্ট। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, অযোধ্যায় রাম মন্দির থেকে শুরু করে কাশী বিশ্বনাথ মন্দির ও জ্ঞানব্যাপী মসজিদ নিয়ে যে বিতর্ক শুরু হয়েছে, তাতে হিন্দুরাষ্ট্রের পথই চওড়া হয়েছে। এবার স্বাধীনতা দিবসের দিন গান্ধী ও সাভারকারকে একাসনে বসিয়ে প্রধানমন্ত্রী যেন জল্পনা আরও উস্কে দিলেন।






