বলিষ্ঠ অভিনেত্রী তাও সেভাবে কাজের সুযোগ পাননি, ভালোবেসে বিয়ে করেও টেকেনি সংসার! কর্মজীবন-ব্যক্তিগত জীবনে কী অসুখী অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র?

বাবা সন্তোষ মিত্র ছিলেন একজন থিয়েটার অভিনেতা। বাবার পথে সেটাই অভিনয়ের জগতে আসা অভিনেত্রীর। তবে কলেজের পড়াশোনা শেষ করে চাকরি নিয়েছিলেন কলকাতার তাজ হোটেলে। সেখানে কাজ করতে করতেই সুযোগ আসে অভিনয় করার। অভিনেত্রীর এক সহকর্মী তাকে একটি ধারাবাহিকের অডিশনে পাঠান। ধারাবাহিকটির নাম ছিল ‘বালিকার প্রেম’। ধারাবাহিকটির প্রযোজক সমরেশ মজুমদার এবং পরিচালক দুলাল লাহিড়ি তখন খুঁজছেন একটি নতুন মেয়ের মুখ। তাকে ধারাবাহিকের জন্য পছন্দ করেন দুজনে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত ধারাবাহিকটি সম্পূর্ণ করা যায়নি। কিন্তু তাতে একটুও দমে যাননি অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র (Sreelekha Mitra)

অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র একটি চ্যানেলের হয়ে সঞ্চালনার কাজ করতে থাকেন। এরপরই শ্রীলেখা মিত্র সুযোগ পান দুটোও উড়িয়া ছবিতে কাজ করার। ১৯৯৬ সালে অনিন্দ্য সরকার পরিচালিত ‘তৃষ্ণা’ ধারাবাহিকে কাজ করার সময় থেকেই ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করেন অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। ছোটপর্দার জনপ্রিয়তার ওপর ভর করেই সুযোগ পান বড়পর্দায়। ১৯৯৭ সালে স্বপন সাহা পরিচালিত ‘সমাধান’ ছবির মাধ্যমে বড় পর্দায় আত্মপ্রকাশ হয় অভিনেত্রীর। এরপর ১৯৯৮ সালের ‘হঠাৎ বৃষ্টি’ ছবিতে দর্শকদের নজর কাড়েন অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র।

অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্রর বরাবরের অভিযোগ হঠাৎ বৃষ্টি ছবিটি হিট হওয়া সত্বেও তার কাছে সেরকম কোনও ভালো ছবির প্রস্তাব আসেনি। ২০০০১ সাল পর্যন্ত অভিনেত্রীকে দেখা গেছে শুধুমাত্র পার্শ্বচরিত্রেই। ২০০২ সালে অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের নায়িকা হিসেবে অভিনয় করেন ‘অন্নদাতা’ ছবিতে। তারপরেও ফের নায়িকা হিসেবে তাকে দেখা যায়নি বাংলা ছবিতে। ২০০৬-এ ‘কাঁটাতার’ ছবিতে কাজ করে আবার আলোচনায় উঠে আসেন অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। এরপর অভিনয় করেছেন বেশ কিছু চলচ্চিত্র এবং ধারাবাহিকে। তাকে দেখা গেছে জি বাংলার জনপ্রিয় শো ‘মিরাক্কেল’এর বিচারকের ভূমিকায়। দীর্ঘ ২৮ বছরেরও বেশি অভিনয় জীবন ওঠাপড়ার মধ্য দিয়েই কাটিয়েছেন অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র।

ব্যক্তিগত জীবনেও ওঠাপড়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্রকে।‌ ই টিভি বাংলা নামক চ্যানেলের ‘তিন সত্যি’ নামক টেলিফিল্মে কাজ করার সময় অ্যাসিস্ট্যান্ট পরিচালক শিলাদিত্য সান্যালের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন অভিনেত্রী। ২০০৩ সালে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন দুজনে। ২০০৫ সালে জন্ম হয় তাদের একমাত্র কন্যা ঐশীর। কিছু বছর সুখের সংসার করলেও একটা সময়ে স্বামী স্ত্রীর মনোমালিন্যে ভেঙে যায় সংসার। কিছু বছর আলাদা থাকার পর ২০১৩ সালে আইনিভাবে বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে শ্রীলেখা মিত্রর।

তবে বিচ্ছেদ ঘটার দশ বছরেরও বেশি সময় বেরিয়ে গেলেও দুজনের মধ্যে বন্ধুত্বসুলভ সম্পর্ক এখনও বজায় রয়েছে। মেয়েকে বড় করে তুলেছেন দুজনে একসাথেই। তাদের মেয়ে যখন যার কাছে ইচ্ছা তার কাছে গিয়েই থাকেন। তাতে আপত্তি নেই শিলাদিত্য এবং শ্রীলেখার। তিন জনকে একসাথে দেখা গেছে বহুবার। তাদের দেখে বোঝা যায় সম্পর্ক ভেঙে গেলেও মেয়ের জন্য আজও একে অপরের পাশে রয়েছেন শিলাদিত্য এবং শ্রীলেখা মিত্র।

Debdut Bhattacharjee

আরও পড়ুন

RELATED Articles