টিভি অভিনেতা অম্বরীশ ভট্টাচার্য দীর্ঘ সময় পর প্রকাশ্যে এসে জানান, রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পর কেন তিনি একেবারেই চুপ ছিলেন। রাহুলের মৃত্যু সংবাদ পাওয়ার পর থেকে তার সহকর্মী এবং প্রযোজনা সংস্থার ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষত, ‘ভোলেবাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিংয়ের সময় অম্বরীশ কোথায় ছিলেন, কেন তার কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি—এমন প্রশ্ন অনেকেই তুলেছিলেন। এবার অম্বরীশ নিজের চুপ থাকার কারণ এবং তার পরবর্তী সিদ্ধান্ত সম্পর্কে বিস্তারিত জানালেন।
অম্বরীশ জানিয়েছেন, রাহুলের মৃত্যুর খবর শোনার পর তিনি পুরোপুরি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। “রাহুলের সঙ্গে গত কয়েক মাস ধরে খুব কাছাকাছি ছিলাম। একসঙ্গে শুটিং করেছিলাম, গল্প করেছিলাম। কিন্তু তার মৃত্যু সংবাদ পাওয়ার পর কী বলব, কীভাবে তার পরিবারকে সান্ত্বনা দেব, এসব চিন্তা আমাকে পুরোপুরি শাসন করছিল,” বলেন অম্বরীশ। তিনি আরও জানান, সেই মুহূর্তে তিনি শারীরিকভাবে রাহুলের বাড়ি যাওয়ার মতো সাহস পায়নি।
অম্বরীশ আরও জানান, শুটিংয়ের পর তার গাড়ি রাস্তায় চলে গিয়েছিল, কিন্তু রাহুলের মৃত্যু সংবাদ পাওয়ার পর তিনি এতটাই শোকগ্রস্ত ছিলেন যে, তার মাথায় ঠিক কী করা উচিত ছিল, সে সম্পর্কে কিছুই বুঝতে পারছিলেন না। তিনি বলেন, “তখন মনে হয়েছিল, হয়তো গাড়ি ঘুরিয়ে তালসারি ফিরে যাওয়া উচিত ছিল, কিন্তু ওই সময় সবকিছুই অস্পষ্ট ছিল, কী ঠিক কী ভুল, কিছুই পরিষ্কার ছিল না।”
এছাড়া, অম্বরীশ টিভি ইন্ডাস্ট্রির নিরাপত্তা নিয়ে আরও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। রাহুলের মৃত্যু পর থেকে শিল্পীদের নিরাপত্তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। তিনি জানান, শুটিংয়ের সময় পুলিশের অনুমতি নেয়া হয় না এবং নিরাপত্তাহীনতা তীব্র হয়ে উঠেছে। তার মতে, “এখন আমি বুঝতে পারছি, যদি নিরাপত্তা নিশ্চিত না হয়, তবে এমন ঝুঁকি নেওয়া উচিত নয়। তাই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যতদিন পর্যন্ত না নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, ততদিন টিভির কোনো ধারাবাহিকে কাজ করব না।”
আরও পড়ুনঃ অভিনেত্রী থেকে সাংসদ, রাজ্যসভায় শপথ নিলেন কোয়েল মল্লিক! লাল পাড়ের সাদা শাড়িতে, দিল্লিতে শুরু জীবনের নতুন অধ্যায়ের!
অম্বরীশ জানান, রাহুলকে হারানোর পর তিনি উপলব্ধি করেছেন যে, শিল্পীদের নিরাপত্তা বড় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তার মতে, নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকলে আরও কোনো সহকর্মীকে হারানো উচিত নয়। তাই তিনি এখন টিভি ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করার সিদ্ধান্ত থেকে বিরত রয়েছেন। এই ঘটনা তাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে এবং তিনি শিল্পীদের নিরাপত্তার বিষয়ে আরও সচেতন হতে চান।






