রাহুলের অকাল প্রয়াণের পর টলিউডে কর্মবিরতির ডাক ঘিরে তৈরি হয়েছিল অস্থির পরিস্থিতি। কাজ থেমে গেলে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন দিন আনা দিন খাওয়া টেকনিশিয়ানরা। সেই বাস্তবতাকে সামনে রেখেই অভিনেতা জিতু কামাল এক মানবিক সিদ্ধান্ত নিয়ে সকলের নজর কাড়লেন। তিনি ঘোষণা করেন, কর্মবিরতির দিনগুলোতে নিজের পকেট থেকে টেকনিশিয়ানদের পারিশ্রমিক দেবেন।
কর্মবিরতি শুরুর আগের রাতেই জিতু তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করে দেন। তিনি জানান, সহকর্মীরা যখন কাজ হারিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন, তখন তিনি নিশ্চুপ থাকতে পারেন না। তাঁর কথায়, একজন মানুষ হিসেবে দায়িত্ববোধ থেকেই এই উদ্যোগ। নিজের সামর্থ্য সীমিত হলেও যতটা সম্ভব সাহায্য করার মানসিকতাই তাঁকে এই পথে এগোতে অনুপ্রাণিত করেছে।
তবে এই উদ্যোগ ঘিরে সমালোচনাও কম হয়নি। কিছু মানুষ একে আত্মপ্রচারের কৌশল বলেও কটাক্ষ করেন। সেই অভিযোগের জবাবে জিতু স্পষ্ট ভাষায় বলেন, অন্যের পাশে দাঁড়ানোকে যদি কেউ নাটক মনে করেন, তাতে তাঁর কিছু যায় আসে না। তিনি বিশ্বাস করেন, মানুষের পাশে দাঁড়ানোই সবচেয়ে বড় শিক্ষা, যা তিনি তাঁর পরিবার থেকেই পেয়েছেন।
জিতুর এই উদ্যোগে আবেগাপ্লুত হয়েছেন টেকনিশিয়ানরাও। একাধিক ভিডিয়ো বার্তায় তাঁরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জানিয়েছেন, এর আগে কোনও অভিনেতা এভাবে তাঁদের কথা ভাবেননি। এই কঠিন সময়ে এমন সহায়তা তাঁদের কাছে শুধু অর্থ নয়, মানসিক শক্তিরও বড় উৎস হয়ে উঠেছে বলে মত তাঁদের।
সমালোচনার মাঝেই জিতু আরও এক ধাপ এগিয়ে তাপস চক্রবর্তী নামে এক টেকনিশিয়ানকে ৩৩ হাজার টাকার চেক প্রদান করেন এবং সেটি প্রকাশ্যে আনেন। তাঁর বার্তা ছিল স্পষ্ট, যারা আগে কটাক্ষ করেছিলেন, তাঁরা এবার এই উদ্যোগকে সৎ প্রচেষ্টা হিসেবে দেখবেন বলেই আশা করেন তিনি। এই ঘটনাই আবারও প্রমাণ করল, মানবিকতার কোনও বিকল্প নেই।






