সময়ের সঙ্গে সম্পর্ক বদলায়, বদলে যায় মানুষের জীবনও। ভালোবাসার গল্প গুলো সবসময় একরকম হয় না, কিছু কিছু গল্পের পরিণতি হয় একাকীত্বে। সম্পর্কের শুরুতে যেখানে প্রেম, আবেগ আর সঙ্গ থাকে, একসময় সেখানে তৈরি হয় শূন্যতা। এই পরিবর্তন চিরকালীন বাস্তবতা হলেও, যখন তা ঘটে একজন জনপ্রিয় অভিনেত্রীর জীবনে, তখন তা আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। প্রেম, বিচ্ছেদ এবং একাকীত্ব—এই তিনটি শব্দ যেন অনেকের জীবনেই কখনও না কখনও ছায়া ফেলে।
টলিউডের একসময়ের বিতর্কিত এবং খোলামেলা অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেন, যিনি ‘ঋ’ নামেই পরিচিত, তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ফের চর্চা শুরু হয়েছে। যাঁরা তাঁকে চেনেন, তাঁরা জানেন, তিনি যেমন সাহসী, তেমনই স্বাধীনচেতা। নিজের মত করে বাঁচতে ভালোবাসেন এই অভিনেত্রী। ব্যক্তিগত সম্পর্ক থেকে শুরু করে কাজ—সবেতেই তিনি খোলামেলা এবং সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। কিন্তু কী এমন ঘটল যে ১০ বছরের লিভ-ইন সম্পর্কের পর এখন একা পথ হাঁটছেন ঋ? সম্পর্ক কি সত্যিই চিরস্থায়ী হয় না? নাকি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনুভূতিগুলো ম্লান হয়ে যায়?
সম্প্রতি ঋ নিজের জীবনে বড়সড় পরিবর্তন এনেছেন। একসময় পরিচালক কৌশিক মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল আলোচনার কেন্দ্রে। টলিপাড়ার অনেকেই জানতেন, তাঁরা একসঙ্গে থাকতেন, একে অপরকে খুব ভালোও বাসতেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্কের সমীকরণ বদলে যায়। ধীরে ধীরে তৈরি হয় দূরত্ব, তারপর বিচ্ছেদ। কিন্তু বিচ্ছেদের পর কীভাবে কাটাচ্ছেন ঋ তাঁর একাকীত্বের দিনগুলো? সত্যিই কি একা?
ঋ নিজেই জানিয়েছেন, তিনি এখন একাই থাকেন, তবে একাকীত্বে হারিয়ে যেতে রাজি নন। কিছুদিন আগেই তিনি একটি নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন—তিনি দত্তক নিয়েছেন একটি কুকুরছানা, যার নাম রেখেছেন ‘নবদ্বীপ’। অভিনেত্রীর মতে, জীবনে সঙ্গী শুধু মানুষ নয়, অন্য প্রাণীরাও হতে পারে। এই ছোট্ট প্রাণীটি এখন তাঁর নিত্যসঙ্গী, তাঁর একাকীত্বের সঙ্গী।
আরও পড়ুনঃ বিচ্ছেদের পর শারীরিক ধকল! এ আর রহমানকে নিয়ে উদ্বেগ, হাসপাতালে ভর্তি অস্কারজয়ী সুরকার
এদিকে, ব্যক্তিগত জীবনে বড়সড় পরিবর্তনের পাশাপাশি ঋ অভিনয়েও ব্যস্ত থাকতে চাইছেন। তবে একটা বিষয় স্পষ্ট, কেরিয়ারে যতই সফল হোন না কেন, ব্যক্তিগত জীবনে কিছু অভাব থেকেই যায়। ১০ বছরের লিভ-ইন সম্পর্কের পর এখন একাকী ঋ নতুনভাবে জীবনকে দেখছেন, নতুনভাবে ভালোবাসার সংজ্ঞা খুঁজছেন। জীবন বয়ে চলে নিজের নিয়মে, সম্পর্ক বদলালেও জীবন থেমে থাকে না—ঋ যেন সেটাই প্রমাণ করে দিচ্ছেন!






