টেলিপাড়ায় ফের অচলাবস্থা! টিআরপির জট কাটলেও, পারিশ্রমিক নিয়ে জোর অশান্তি! বকেয়া না মেটালে শুটিং বন্ধের হুঁশিয়ারি! ১ আগস্ট থেকে আর দেখতে পাবেন না, জি বাংলার প্রিয় ধারাবাহিকের নতুন পর্ব?

জি বাংলার বিভিন্ন ধারাবাহিক ও নন ফিকশন অনুষ্ঠানে কাজ করা টেকনিশিয়ানদের বকেয়া পারিশ্রমিক ঘিরে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে টলিপাড়ায়। শিল্প মহলের একাধিক সূত্রের দাবি, ২৪ জুলাইয়ের মধ্যে সমস্ত পাওনা মিটিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও তা রাখা হয়নি। পরে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত সময় চাওয়া হয়েছে। তবে টেকনিশিয়ানরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, ওই সময়ের মধ্যেও বকেয়া না মিটলে ১ আগস্ট, শনিবার থেকে জি বাংলার কোনও প্রজেক্টে তাঁরা কাজ করবেন না।

জানা গিয়েছে, এই সিদ্ধান্ত কোনও একটি গিল্ডের নয়। স্টুডিওপাড়ার ১৫টি গিল্ডের অস্থায়ী ওয়ার্কিং কমিটি একসঙ্গে এই অবস্থান নিয়েছে। ক্যামেরা গিল্ডের সম্পাদক স্বপন মজুমদারের বক্তব্য, টেকনিশিয়ানরা সহজে কাজ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেন না। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে পারিশ্রমিক বকেয়া থাকা, বারবার প্রতিশ্রুতি দিয়েও সমস্যা না মেটানো এবং অতিরিক্ত সময় কাজ করানোর অভিযোগের জেরেই তাঁরা এই কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছেন।

এই কর্মবিরতি শুরু হলে জি বাংলার একাধিক জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ও ধারাবাহিকের শুটিংয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে। সম্ভাব্যভাবে থমকে যেতে পারে ‘দাদাগিরি’, ‘দিদি নাম্বার ওয়ান’, ‘রান্নাঘর’, ‘সারেগামাপা’, ‘পরিণীতা’ এবং ‘কমলানিবাস’-এর মতো জনপ্রিয় প্রজেক্ট। পাশাপাশি বিভিন্ন ফিকশন, নন ফিকশন অনুষ্ঠান এবং প্রোমোর শুটিংও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত দু’মাসেরও বেশি সময় ধরে বহু টেকনিশিয়ানের পারিশ্রমিক বকেয়া রয়েছে। শুধু শুটিং ইউনিট নয়, সেট তৈরির সঙ্গে যুক্ত আর্ট বিভাগের কর্মী, কার্পেন্টার, মডেলার ও পেন্টারদেরও পাওনা এখনও মেটানো হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে কর্মঘণ্টা নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে। নিয়মিত ১৪ ঘণ্টার শিফটের বদলে অনেক ক্ষেত্রে ১৫ থেকে ১৯ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করানো হলেও অতিরিক্ত সময়ের জন্য আলাদা পারিশ্রমিক দেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ উঠেছে।

আরও পড়ুনঃ ‘দিদি নং ১’-এ এক মাসেই এত বদল! সিজন ১০ শুরু হতেই, রচনার সঙ্গে স্বস্তিকার তুলনা টেনে সমালোচনা নিয়ে কী বড় দাবি করলেন পরিচালক অভিজিৎ সেন?

টেকনিশিয়ানদের দাবি, বিষয়টি রাজ্য সরকারের নজরেও আনা হয়েছে এবং দীর্ঘদিন বকেয়া থাকলে কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার তাঁদের রয়েছে। তাই ৩১ জুলাই পর্যন্তই শেষ সময় দেওয়া হয়েছে কর্তৃপক্ষকে। এদিকে, পুরো বিষয়টি নিয়ে জি বাংলার কাছে ই-মেলের মাধ্যমে একাধিক প্রশ্ন পাঠানো হলেও এই প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত চ্যানেলের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য মিললে তা পরে জানানো হবে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর