পোষ্য কুকুরের মুখে মুখ ঠেকিয়ে চুমু খাচ্ছেন? জানেন কী কত বড় বিপদ ডেকে আনছেন নিজের জন্য!

পোষা কোনও চারপেয় থাকলে, তাকে সবসময় চটকে আদর করতে কার না ভালো লাগে। তার মাথায় হাত বুলিয়ে, তাকে জাপটে ধরে থাকতে, বা কোলে নিয়ে আদর করা তো স্বাভাবিক ব্যাপার। অনেকেই আবার কুকুরের মুখে মুখ ঠেকিয়ে চুমুও খান। কিন্তু সেটা কী আদৌ নিরাপদ?

কুকুর যদি পোষ্য হয়, তাহলে তার মুখের কাছে মুখ নিয়ে গেলেও সে কোনওভাবেই কামড়াবে না। বরং উলটে আপনার মুখ চেটে আদর করে দেবে। এটাই চারপেয়দের সাধারণ আচরণ। বেশিরভাগ মানুষেরই ধারণা কুকুরের লালা কোনও ক্ষতি করে না। এমনটা মনে করা হয় যে কুকুরের মুখগহ্বর মানুষের মুখের চেয়ে পরিষ্কার। কিন্তু কুকুরের মুখে মুখ ঠেকিয়ে আদর করার সময় কিছু সতর্কতা অবলম্বন করাই শ্রেয়।

প্রথমেই মনে রাখতে হবে যে মানুষ আর কুকুরের শারীরিক গঠন এক নয়। তাই তাদের রোগের ধরনও আলাদা। তাই কুকুরের যে ধরণের রোগ হয়, মানুষের শরীরে তেমন রোগ হয় না। আবার মানুষের শরীরে যে জীবাণু মারণ রোগ বয়ে আনতে পারে, দেখা যায় হয়ত সেই একই জীবাণু কুকুরের শরীরে কোনও প্রভাবই ফেলে না। আর এই কারণেই কুকুরের লালায় বাস করা জীবাণু নিয়ে অনেকেই তেমন আমল দেন না। কিন্তু এবার বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে তেমনটা করা আদতে কিন্তু উচিত নয়।
কুকুরের লালায় থাকা ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াগুলির মধ্যে অন্যতম হল ক্যাপনোসাইটোফাগা ক্যানিমরসাস। এই ব্যাকটেরিয়া মানুষের শরীরে থাকে না। তবে এই ব্যাক্তেরিয়া  যদি মানব শরীরে প্রবেশ করে, তাহলে কোনও মারাত্মক রোগ যে কোনও মুহূর্তেই বাসা বাঁধতে পারে।

কুকুরের মুখের কাছে নিজের মুখ আনার আগে অবশ্যই মাথায় রাখা দরকার যে কুকুররা কিন্তু যত্রতত্র মুখ দেয়। রাস্তায় বেরোলে তারা মাটিতে থাকা নানান জিনিস শুঁকে দেখে। আর কোনও খাবার জিনিস হলে আবার চেটেও দেয়। আর মানুষের মতো তো কুকুরের রোজ দাঁত মাজা, মুখের ভেতর পরিষ্কার করা বা দাঁত পরিষ্কার করা হয়ে ওঠে না।

এর জেরে পোষা কুকুর হলেও, তাদের মুখের ভিতরেও কিন্তু নানান জীবাণু বাসা বাঁধে। আর মুখে মুখ ঠেকিয়ে তাদের আদর করলে, বা চুমু খেলে, সেই জীবাণু প্রবেশ করতে পারে আপনার মুখের ভিতরেও। এর জেরে তাৎক্ষণিক কোনও সমস্যা না হলেও, ভবিষ্যতে এর জেরে বড় বিপদ ঘটতেই পারে।

RELATED Articles