বাইরে থেকে ঝকঝকে অফিস, আধুনিক পরিবেশ, বড় বড় সংস্থার চাকরি। সব মিলিয়ে স্বপ্নের মতো মনে হয় অনেকের কাছেই। কিন্তু সেই অফিসের ভিতরেই যদি লুকিয়ে থাকে ভয়, অপমান আর দীর্ঘদিনের নির্যাতনের গল্প? সম্প্রতি এমনই এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে এসেছে মহারাষ্ট্রের নাসিক থেকে, যা নতুন করে প্রশ্ন তুলছে কর্পোরেট দুনিয়ার নিরাপত্তা নিয়ে।
নাসিকের একটি বহুজাতিক সংস্থার একাধিক মহিলা কর্মী অভিযোগ করেছেন, গত চার বছর ধরে অফিসের মধ্যেই তাঁদের সঙ্গে যৌন হেনস্থা করা হয়েছে। প্রথমে বিষয়টি চাপা থাকলেও ধীরে ধীরে একাধিক অভিযোগ সামনে আসতে শুরু করে। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করতে বাধ্য হন নির্যাতিতারা। তদন্তে নেমে পুলিশ মোট ৯টি মামলা রুজু করেছে, যেখানে যৌন হেনস্থা এবং ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই এক টিম লিডারসহ মোট ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জানা গিয়েছে, অভিযুক্তদের মধ্যে একজন এক মহিলা কর্মীর সঙ্গে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বারবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করতেন। শুধু তাই নয়, অন্য এক কর্মীর শরীরে অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শ করা এবং তাঁর ব্যক্তিগত ও দাম্পত্য জীবন নিয়ে অশালীন মন্তব্য করার অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগ আরও গুরুতর হয়ে ওঠে যখন জানা যায়, তাঁদের শারীরিক গঠন নিয়েও কুরুচিকর মন্তব্য করা হত।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে সংস্থার ভূমিকাকে ঘিরে। নির্যাতিতাদের দাবি, তাঁরা বারবার সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্তাদের কাছে মৌখিক অভিযোগ জানিয়েছিলেন। কিন্তু কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং অভিযোগ অনুযায়ী, কর্তৃপক্ষের একাংশ অভিযুক্তদের কার্যত প্রশ্রয় দিয়েছে। পুলিশের বক্তব্যেও সেই ইঙ্গিত মিলেছে। অর্থাৎ, শুধুমাত্র ব্যক্তিগত অপরাধ নয়, গোটা ব্যবস্থার ব্যর্থতাও এই ঘটনায় সামনে এসেছে।
ঘটনার আরেকটি চাঞ্চল্যকর দিক হল ধর্মীয় অপমানের অভিযোগ। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তরা এক পুরুষ কর্মীকে জোর করে নামাজ পড়তে বাধ্য করেছিল এবং তাঁর ধর্মকে অপমান করেছিল। এই সমস্ত অভিযোগের তদন্তে ইতিমধ্যেই একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়েছে, যার নেতৃত্বে রয়েছেন এসিপি স্তরের এক আধিকারিক। পুলিশ আরও জানিয়েছে, যদি অন্য কোনও ভুক্তভোগী থাকেন, তাহলে তাঁরা যেন সামনে এসে অভিযোগ জানান। এই ঘটনায় কর্পোরেট জগতে নিরাপত্তা ও দায়বদ্ধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে অফিস কি সত্যিই নিরাপদ, নাকি ভয় আর চাপে চুপ করে থাকাই এখন নিয়ম হয়ে দাঁড়াচ্ছে?






