বাংলাদেশে (Bangladesh) আবারও উত্তপ্ত পরিস্থিতি। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, উচ্চ কর এবং জনসাধারণের ক্ষোভের কারণে অন্তর্বর্তী সরকারকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে বিক্ষোভ। জনগণের এই ক্ষোভের কেন্দ্রে রয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস। তার সরকারের বিরুদ্ধে মশাল ও লাঠি হাতে পথে নেমেছে জনতা। সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পদক্ষেপ না নিলে সরকার ফেলে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, শেখ হাসিনার মতোই কি ইউনুসেরও একই পরিণতি হবে?
শেখ হাসিনার আমল থেকেই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা চরম সংকটময়। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধিতে জেরবার সাধারণ মানুষ। বাজারে অরাজকতার অভিযোগ ক্রমশ বাড়ছে। আড়তদার থেকে শুরু করে ছোট ব্যবসায়ীরা নিজেদের মতো করে দাম বাড়িয়ে চলেছেন। এমন পরিস্থিতিতে ইউনুস সরকারের নতুন কর নীতি জনসাধারণের মধ্যে অসন্তোষ আরও বাড়িয়ে তুলেছে। রেস্তরাঁর বিল থেকে শুরু করে ড্রাইভিং লাইসেন্স, বিস্কুট, ম্যাট্রেস, টিস্যু পেপারের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসেও কর বাড়ানো হয়েছে।
ইউনুস সরকারের নতুন কর নীতি অনুযায়ী, রেস্তরাঁর বিলের ওপর কর ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, রান্নার গ্যাসের দামও প্রায় আড়াই গুণ বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই কর বৃদ্ধি এবং গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি জনসাধারণের মধ্যে প্রবল ক্ষোভের সঞ্চার করেছে। জনতা সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে পথে নেমেছে, বিক্ষোভ দানা বেঁধেছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে।
ইউনুস সরকারের ওপর চাপ আরও বাড়ছে। ভারতসহ বিভিন্ন দেশের তরফে হিন্দু নির্যাতন ইস্যুতে কূটনৈতিক চাপ বাড়ানো হচ্ছে। দেশের অভ্যন্তরে বিএনপির মতো বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোও ভোট নিয়ে চাপ বাড়াচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে জনগণের বিক্ষোভ সরকারের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। শেখ হাসিনার পরিণতি মনে করিয়ে দিয়ে প্রশ্ন উঠছে, ইউনুস কি সেই একই পরিণতির দিকে এগোচ্ছেন?
আরও পড়ুনঃ পাসপোর্ট জালিয়াতির চক্রে বড় ধাক্কা! কলকাতা পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার এক অস্থায়ী কর্মী
গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ আন্দোলনে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন শেখ হাসিনা। এবারও কি একই পরিস্থিতি তৈরি হবে? জনতার দাবিতে সরকার যদি পদক্ষেপ না নেয়, তবে ফের এক গণ অভ্যুত্থানের সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে। ইউনুস সরকার এই পরিস্থিতি সামলাতে কী পদক্ষেপ নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি বলছে, বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বাড়তে চলেছে।






