বাংলাদেশ

‘বাংলাদেশে সংখ্যাগুরু-সংখ্যালঘু বলে কিছু নেই’, জন্মাষ্টমীতে বাংলাদেশী হিন্দুদের বার্তা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার

গত দু’দিন ধরে পালিত হয়েছে হিন্দুদের অন্যতম বড় উৎসব জন্মাষ্টমী। জন্মাষ্টমী উপলক্ষ্যে গতকাল, বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর আবাস অর্থাৎ গণভবনে মিলিত হয়েছিলেন হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষজন। জন্মাষ্টমী উপলক্ষ্যে বাংলাদেশে বেরিয়েছিল বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। তাতে যোগ দিতে দেখা যায় শাসক দল আওয়ামী লিগ ও বিএনপি-সহ বিরোধী দলের নেতাদেরও। এদিন গণভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা ছিলেন খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

কী বলেন এদিন বাংলাদেশী প্রধানমন্ত্রী?

শেখ হাসিনা এদিন হিন্দুদের উদ্দেশে বার্তা দিয়ে বলেন, “আপনারা কেন নিজেদের সংখ্যালঘু বলেন? এদেশে সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু বলতে কিছু নেই। নিজেদের সংখ্যালঘু বা দুর্বল মনে করবেন না। তাছাড়া আপনারা কেনই বা এমনটা মনে করেন, যেখানে আপনারা এদেশেরই মানুষ?’ হাসিনা আরও বলেন, ‘যারা এই মাটিতে জন্মেছে- তারা এই মাটিরই সন্তান এবং এ দেশের নাগরিক হিসেবে তাদের সব ধরনের অধিকার রয়েছে”।

বিগত বেশ কিছু বছর ধরে বাংলাদেশে হিন্দু, বৌদ্ধ ও নানান সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর নানান অত্যাচার, নির্যাতনের ঘটনা সামনে এসেছে। কোথাও দুর্গাপুজোর মণ্ডপ ভেঙে দেওয়া, হিন্দু মন্দিরে তাণ্ডব আবার কোথাও হিন্দুদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া, এমন ঘটনার নিদর্শন কম নয় প্রতিবেশী রাষ্ট্রে। এই নিয়ে বাংলাদেশ প্রশাসনের তরফে বারবার হুঁশিয়ারি দেওয়া হলেও এই অত্যাচার পুরোপুরি কমে যায়নি।

এই প্রসঙ্গেই এদিন হাসিনা বলেন, “আমরা জানি সব জয়গায় কিছু স্বার্থান্বেষী লোক আছে, যারা কিছু সমস্যা তৈরি করতে চায়। কেউ যেন কোন সমস্যা তৈরি করতে না পারে, সবাইকে সেদিকে নজর দিতে হবে”।

বৃহস্পতিবারের এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী সমিতির সম্পাদক তথা মহানগর সর্বজনীন পুজো কমিটির কর্তা নারায়ণ সাহা মণি। তিনি এদিন বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে আমরা খুশি। বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর হামলার কিছু ঘটনা ঘটেছে ঠিকই। কিন্তু অতীতের অন্য সরকারগুলির কার্যধারা এবং অভিজ্ঞতা থেকে আমরা উপলব্ধি করেছি, বর্তমান সরকারের সময়েই বাংলাদেশে সংখ্যালঘুরা সবচেয়ে নিরাপদ। আমরা তাই খোলাখুলি বলছি, শেখ হাসিনাকেই আমরা ফের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে পেতে চাই। তিনি বলেন, তাতে ভারতও লাভবান হবে। কারণ, বর্তমান সরকার বাংলাদেশকে ভারত বিরোধী ষড়যন্ত্রকারীদের হাত থেকে মুক্ত করেছে”।

Back to top button
%d bloggers like this: