শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আদর্শের মাটিতে প্রথমবার সরকার গড়তে চলেছে বিজেপি। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক লড়াইয়ের পর বাংলায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে শনিবার। ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে শপথ নিতে চলেছে রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকার। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই পরিবর্তন শুধু সরকার বদলের নয়, বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসেও এক বড় মোড়। রাজ্যে দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল সরকারের অবসানের পর এবার ক্ষমতার কেন্দ্রে উঠে এসেছে বিজেপি। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-সহ দলের একাধিক শীর্ষ নেতার।
বিজেপি সূত্রে খবর, বাংলার প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর নাম কার্যত চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে। পরিষদীয় দলের বৈঠকে তাঁর নামেই সিলমোহর পড়েছে বলে জানা যাচ্ছে। ২০২১ এবং ২০২৬ পরপর দু’বার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করে ‘জায়ান্ট কিলার’ হিসেবে রাজ্য রাজনীতিতে নিজের আলাদা জায়গা তৈরি করেছিলেন শুভেন্দু। সেই কারণেই শুরু থেকেই মুখ্যমন্ত্রী পদে তাঁর নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিল। অবশেষে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বও তাঁর ওপরই আস্থা রাখল বলেই রাজনৈতিক মহলের ধারণা।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর হাতে থাকতে পারে স্বরাষ্ট্র, পার্বত্য বিষয়ক দফতর, কর্মীবর্গ ও প্রশাসনিক সংস্কার, ভূমি ও ভূমি সংস্কার, উদ্বাস্তু ত্রাণ ও পুনর্বাসন এবং কর্মসূচি পর্যবেক্ষণের মতো গুরুত্বপূর্ণ দফতর। বাংলার প্রথম বিজেপি সরকারের প্রশাসনিক কাঠামোয় এই দফতরগুলিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতেই রাখতে চাইছেন সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রী, এমনটাই সূত্রের দাবি।
অন্যদিকে বাংলায় বিজেপি সরকারে দু’জন উপমুখ্যমন্ত্রী থাকার সম্ভাবনাও জোরালো হয়েছে। সম্ভাব্য তালিকায় উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবে উঠে আসছে দিলীপ ঘোষ এবং অগ্নিমিত্রা পালের নাম। সংগঠনের পুরনো মুখ হিসেবে দিলীপ ঘোষকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে খবর। তাঁর হাতে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন এবং পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন দফতরের দায়িত্ব যেতে পারে। অন্যদিকে অগ্নিমিত্রা পালকে শিল্প, বাণিজ্য ও উদ্যোগ এবং তথ্যপ্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক্স দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। মহিলা নেতৃত্বের অন্যতম মুখ হিসেবে তাঁকে সামনে রেখে শিল্পমুখী নতুন ভাবনার বার্তা দিতে চাইছে বিজেপি।
সম্ভাব্য মন্ত্রিসভার তালিকায় আরও একাধিক নাম ঘুরছে রাজনৈতিক মহলে। বিজেপি সূত্রে জানা যাচ্ছে, অর্থ দফতরের দায়িত্ব পেতে পারেন স্বপন দাশগুপ্ত। আবাসন দফতরের দায়িত্বে দেখা যেতে পারে রূপা গঙ্গোপাধ্যায়কে। আইন দফতরের সম্ভাব্য মন্ত্রী হিসেবে উঠে আসছে কৌস্তভ বাগচীর নাম। পাশাপাশি সংশোধনাগার প্রশাসনের দায়িত্ব পেতে পারেন সজল ঘোষ। পরিবেশ দফতরে থাকতে পারেন অমিয় কিস্কু। বিপর্যয় মোকাবিলা ও অসামরিক প্রতিরক্ষা এবং দমকল ও জরুরি পরিষেবা এই দুই গুরুত্বপূর্ণ দফতরের দায়িত্ব যেতে পারে রেখা পাত্রের হাতে বলেও জল্পনা তৈরি হয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, সম্ভাব্য এই মন্ত্রিসভায় উত্তরবঙ্গ, জঙ্গলমহল, শহর ও গ্রাম সব অংশের প্রতিনিধিত্ব রাখার চেষ্টা করছে বিজেপি। পাশাপাশি অভিজ্ঞ নেতা ও নতুন মুখ দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখার দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব চাইছে, বাংলার প্রথম সরকারকে ঘিরে যাতে ইতিবাচক বার্তা যায় সাধারণ মানুষের মধ্যে। সেই কারণেই সংগঠন, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং জনসংযোগ এই তিন দিক মাথায় রেখেই সম্ভাব্য মন্ত্রিসভার রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ “রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দিলেন, কিন্তু পেনশন?” “দায়িত্ব শেষ যখন, সুবিধাও শেষ তো?” ভোটে হারের পর রাজ চক্রবর্তীর অবসরের সিদ্ধান্ত ঘিরে জয়জিতের পরোক্ষ সমালোচনায় সরগরম টলিউড!
তবে এখনও পর্যন্ত বিজেপির তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভার তালিকা ঘোষণা করা হয়নি। রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা চললেও গোটা বিষয়টিকেই আপাতত সম্ভাব্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে। শনিবার শপথগ্রহণের মঞ্চ থেকেই স্পষ্ট হবে কে কোন মন্ত্রকের দায়িত্ব পাচ্ছেন এবং শেষ মুহূর্তে কোনও চমক থাকে কি না। তবুও বাংলার প্রথম বিজেপি সরকারকে ঘিরে এখন থেকেই উচ্ছ্বাস এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছে।






