Om Birla : সংসদের ভিতরেই আস্থার সংকট! স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবে ১১৪ সাংসদের সই!

সংসদ মানেই মতবিরোধ, বিতর্ক আর প্রশ্ন। কিন্তু সেই বিতর্ক যখন নিয়ম, রীতি আর মর্যাদার সীমা ছাড়িয়ে যায়, তখন তা শুধু রাজনৈতিক সংঘাতেই আটকে থাকে না—তা দেশের সংসদীয় গণতন্ত্র নিয়েও প্রশ্ন তোলে। চলতি বাজেট অধিবেশনের শুরু থেকেই লোকসভায় যে টানাপোড়েন দেখা যাচ্ছে, তা ধীরে ধীরে একটি বড় রাজনৈতিক বার্তার দিকে এগোচ্ছে। বিরোধীদের অভিযোগ, তাঁদের কণ্ঠস্বর দমন করা হচ্ছে। আর সেই ক্ষোভই এবার সংসদের ভিতরে এক নজিরবিহীন পরিস্থিতির জন্ম দিল।

এই আবহেই কংগ্রেসের তরফে চিফ হুইপ কে সুরেশ লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দেন। বিজেপি বিরোধী শিবিরের মোট ১১৪ জন সাংসদের সই রয়েছে ওই প্রস্তাবে। কংগ্রেসের পাশাপাশি সমাজবাদী পার্টি ও ডিএমকে এই উদ্যোগে সমর্থন জানায়। সংসদ সূত্রে জানা গিয়েছে, লোকসভার সেক্রেটারি জেনারেল ইতিমধ্যেই নোটিস গ্রহণ করেছেন এবং নিয়ম অনুযায়ী বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সব ঠিক থাকলে পরবর্তী সাংবিধানিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

কংগ্রেস সাংসদ গৌরব গগৈ জানান, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৯৪সি অনুযায়ী স্পিকারকে অপসারণের দাবিতে দুপুর ১টা ১৪ মিনিটে প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়। বিরোধীদের অভিযোগ, লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে একাধিকবার সংসদে কথা বলতে দেওয়া হয়নি। শুধু তাই নয়, কংগ্রেস সাংসদদের সাসপেনশন এবং বিরোধীদের বক্তব্য বারবার বাধাগ্রস্ত হওয়া নিয়েও ক্ষোভ জমছিল। প্রাক্তন সেনাপ্রধান মনোজ মুকুন্দ নরবণের বই সংক্রান্ত আলোচনায় জাতীয় নিরাপত্তার প্রসঙ্গ তুলে রাহুলকে বলতে দেওয়ার দাবি উঠলেও, শেষ পর্যন্ত তিনি বক্তব্য রাখতে পারেননি—যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।

তবে এই অনাস্থা প্রস্তাবে সই করেনি তৃণমূল কংগ্রেস। দলের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, তৃণমূল চেয়েছিল আগে স্পিকারকে চিঠি দিয়ে তিন দিন সময় দেওয়া হোক। তাঁদের দাবি, সংসদ চলুক—এইটাই তাদের মূল উদ্দেশ্য। তবে চেয়ারকে সুযোগ দেওয়ার কথা বললেও, স্পিকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পিছপা হননি অভিষেক। অধিবেশন দীর্ঘ সময়ের জন্য স্থগিত রাখা, বিরোধীদের না জানিয়ে সংসদের সময় পরিবর্তন এবং স্পিকারের অনুপস্থিতি—সব মিলিয়ে সংসদ চালানোর মানসিকতা নিয়েই প্রশ্ন তোলেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ Bangladesh: ভোটের আগে ফের রক্তাক্ত ময়মনসিংহ—শাটার নামানো দোকানের ভিতর মিলল হিন্দু*ব্যবসায়ীর নিথর দেহ!

এই প্রস্তাবে সই না করলেও, বিরোধী ঐক্যের ছবিটা ভাঙেনি তৃণমূল—এমনটাই রাজনৈতিক মহলের মত। অন্য দিকে, উল্লেখযোগ্য ভাবে অনাস্থা প্রস্তাবে সই করেননি বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী নিজেও। কংগ্রেস সূত্রে জানা যাচ্ছে, বিরোধী দলনেতা হিসেবে সংসদের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখতেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আইন অনুযায়ী, প্রস্তাব গৃহীত করতে হলে সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন দরকার এবং তার অন্তত ১৪ দিন আগে নোটিস জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি বাজেট অধিবেশনের সমাপ্তি এবং ৯ মার্চ নতুন অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা। তার আগেই স্পিকার ও বিরোধীদের এই সংঘাত সংসদীয় রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে উঠল।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর