ভারতে ফের মাথাচাড়া দিচ্ছে করোনা? চিকিৎসা চললেও বাঁচানো গেল না ৪৬ বছরের ব্যক্তিকে! এতদিন পর কোন কোন রাজ্যে মিলল নতুন করে সংক্রমণের খবর? বাড়ছে উদ্বেগ, আসছে কোভি*ডের তৃতীয় ঢেউ?

ভারতে আবারও কোভিড-১৯ সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ল। দীর্ঘদিন পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকলেও অন্ধ্রপ্রদেশের একটি মৃত্যুর ঘটনা নতুন করে সতর্কবার্তা দিচ্ছে। অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এক মধ্যবয়স্ক ব্যক্তির চিকিৎসা চললেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। পরে পরীক্ষায় তাঁর শরীরে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে। এই ঘটনার পর স্বাস্থ্য দফতর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আতঙ্কিত হওয়ার কারণ না থাকলেও উপসর্গ দেখা দিলে তা অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

ঘটনাটি অন্ধ্রপ্রদেশের কাডাপা জেলার। জেলা স্বাস্থ্য দফতরের তথ্য অনুযায়ী, ৪৬ বছর বয়সি ওই ব্যক্তি শ্বাসকষ্ট ও গুরুতর শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসকরা প্রথমে তাঁর শারীরিক অবস্থার মূল্যায়ন করতে বিভিন্ন পরীক্ষা করেন। বুকের এক্স-রেতে দেখা যায়, তাঁর দুটি ফুসফুসই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি তিনি গুরুতর নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত ছিলেন। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে চিকিৎসকেরা দ্রুত উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে চিকিৎসা শুরু করেন। টানা চার দিন চিকিৎসা চললেও তাঁর শারীরিক অবস্থার কোনও উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। বরং পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে, যা চিকিৎসকদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে।

রোগীর অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকদের মনে করোনা সংক্রমণের আশঙ্কা তৈরি হয়। এরপর তাঁর কোভিড-১৯ পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি বুকের সিটি স্ক্যানও করা হয়। পরীক্ষার রিপোর্টে নিশ্চিত হয় যে তিনি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সংক্রমণ ধরা পড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয়। অর্থাৎ রোগটি শনাক্ত হওয়ার আগেই তাঁর শরীরে সংক্রমণ অনেকটাই ছড়িয়ে পড়েছিল এবং ফুসফুসের মারাত্মক ক্ষতির কারণে চিকিৎসকদের সব প্রচেষ্টাই ব্যর্থ হয়। এই ঘটনাই আবার মনে করিয়ে দিল, করোনা সংক্রমণের উপসর্গকে হালকাভাবে নেওয়া কতটা বিপজ্জনক হতে পারে।

আরও পড়ুন: লিপিডিমায় রো’গে আ’ক্রান্ত দেবিনা ব্যানার্জি! হাঁটতে চলতেও কষ্ট, চরম অসুস্থ বাঙালি অভিনেত্রী সবাইকে করলেন সতর্ক! কোন কোন উপসর্গ দেখা দেয় এই রো’গে? চিকিৎসা পদ্ধতি কী জানালেন তিনি?

এই মৃত্যুর পর জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দফতর দ্রুত সক্রিয় হয়ে ওঠে। মৃত ব্যক্তির বসবাসের এলাকা সম্পূর্ণভাবে স্যানিটাইজ করা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার কাজও শুরু হয়েছে। স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রাইমারি এবং সেকেন্ডারি কন্ট্যাক্ট ট্রেসিংয়ের মাধ্যমে কারা তাঁর কাছাকাছি এসেছিলেন, সেই তালিকা তৈরি করছেন। প্রয়োজনে তাঁদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে, যাতে সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা কমানো যায়। স্বাস্থ্য দফতরের লক্ষ্য, প্রাথমিক পর্যায়েই সম্ভাব্য সংক্রমণের শৃঙ্খল ভেঙে ফেলা।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট বা দীর্ঘদিন ধরে নিউমোনিয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে তা অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি, দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতায় ভোগা রোগী এবং কম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন মানুষের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা জরুরি। যদিও একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করার প্রয়োজন নেই, তবুও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, প্রয়োজন হলে মাস্ক ব্যবহার করা এবং অসুস্থ হলে দ্রুত পরীক্ষা করানো এখনও সমান গুরুত্বপূর্ণ। অন্ধ্রপ্রদেশের এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল, করোনা পুরোপুরি অতীত হয়ে যায়নি এবং সামান্য অসাবধানতাও বড় বিপদের কারণ হয়ে উঠতে পারে।

আরও অন্যান্য খবর