বাংলা এখন উত্তপ্ত। খাস কলকাতার বুকে ঘটে যাওয়া এক নৃশংস ঘটনার প্রতিবাদে মুখর গোটা দেশ। রীতিমতো ফুঁসছে শহর। আর জি কর হাসপাতালে তিলোত্তমা খুন, ধর্ষণ কাণ্ডে যতক্ষণ না সঠিক বিচার হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের মনের মধ্যে ক্ষোভের আগুন প্রশমিত হবে না। নারীদের রাত দখলের রাতে আর জি করে চলে তান্ডবলীলা।
বলাই বাহুল্য, এই তান্ডবলীলা চলাকালীন একেবারেই নিষ্ক্রিয় ছিল পুলিশ। চিকিৎসক, নার্সদের বাঁচানো দূরের কথা তারা নিজেদের প্রাণ বাঁচাতেই বেশি তৎপর ছিল। উল্টে সাধারণ মানুষের ওপর পুলিশ দায়িত্ব দেয় হামলাকারীদের খুঁজে দিতে। আর অবশেষে আজ পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে হামলাকারীরা। তারই মধ্যে একজন নিজের দোষ স্বীকার করে নিয়েছে।
উল্লেখ্য, জানা গেছে, সেই হামলাকারী সৌমিক দাস দমদম পূর্ব সিঁথির বাসিন্দা। দক্ষিণ দমদমের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর রাজু সেন শর্মার বেশ ঘনিষ্ঠ। অবশ্য অপরাধের কথা স্বীকার করে নিয়ে তিনি জানিয়েছেন, কারোর প্ররোচনাতে নয়। তিনি আন্দোলনকারী হিসেবে আর জি কর হাসপাতালে ঢোকেন। এরপর হামলাকারীদের সঙ্গে মিশে ভাঙচুর চালান।
প্রসঙ্গত, রাত দখলের রাতে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে হাসপাতাল। কার্যত দুষ্কৃতীদের রাস্তা করে দিয়ে নিজেদের পিঠ বাঁচাতে ব্যস্ত ছিল কলকাতা পুলিশ। কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে পুলিশি ব্যবস্থা। আর এই সুযোগ নেয় দুষ্কৃতীরা। রীতিমতো তান্ডব চালায় তারা। লক্ষ্য চেস্ট ডিপার্টমেন্টের সেমিনার হল থাকলেও কোন তলা বুঝতে না পেরে ইএনটি ডিপার্টমেন্ট ভাঙচুর করে চলে যায় হামলাকারীরা। হুমকি দিয়ে যায় আবার আসবো।
উল্লেখ্য, হামলা চালানো হয় হাসপাতালের এমার্জেন্সি বিভাগে। এমার্জেন্সির বেড ছাড়া নষ্ট করা হয় টেবিল, চেয়ার, ফোন থেকে শুরু করে প্রচুর ওষুধ। তাদের মধ্যে কিছুজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আর সেই দুষ্কৃতীদের মধ্যে অন্যতম এই সৌমিক দাস। পেশায় জিম ট্রেনার। তিবনি বলেছেন, বুধবার রাতে রাত দখল কর্মসূচীতে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। দমদম চাতাল মোড় থেকে শুরু হয়ে ওই জমায়েত পৌঁছায় আর জি কর হাসপাতালে। আর সেখানেই ভিড়ে মিশে গিয়ে হামলা চালান তিনি।
সিসিটিভি ফুটেজ থেকে দেখা যাচ্ছে হামলার সময় সৌমিকের হাতে একটি রড রয়েছে। তাকে গ্রেফতার করে নাগের বাজার থানা। তারপর তুলে দেওয়া হয় কলকাতা পুলিশের হাতে। যদিও পুলিশের কাছে সেদিনের ঘটনায় অনুতপ্ত হয়ে নিজের দোষ স্বীকার করে সৌমিক বলেন, ভুল হয়ে গিয়েছে। সেদিন উত্তেজনার বশবর্তী হয়ে এই ঘটনা ঘটিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িত বেশ কয়েকজনকে তিনি চেনেন। কারা তারা?





