China supports Pakistan : পাকিস্তানের পক্ষে চিনের সমর্থন, পহেলগাঁও কাণ্ডে দুই দেশ নিয়ে নতুন আন্তর্জাতিক কূটনীতি!

পহেলগাঁওয়ের বৈসরন উপত্যকা—এই নামটি এখন মানুষের মনে গভীর দুঃখ এবং ক্ষোভের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। ২২ এপ্রিল, ২০২৫ তারিখে এখানে ঘটে একটি জঙ্গি হামলা, যাতে প্রাণ হারিয়েছেন ২৬ জন। এর মধ্যে ২৫ জনই ছিলেন পর্যটক। এই ভয়াবহ হামলার পর ভারতের প্রতিক্রিয়া ছিল অত্যন্ত কঠোর। পাকিস্তানকে দায়ী করে, ভারত সরকার একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। কিন্তু, এই হামলার পর যা ঘটল, তা আরও অনেক বেশি জটিল এবং উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠল। আন্তর্জাতিক মহলে পরিস্থিতি নিয়ে একাধিক আলোচনা চলছে এবং বিশ্ব নেতারা এ বিষয়ে তাদের মতামত জানাচ্ছেন।

ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের এই নতুন পরিস্থিতি বিশেষত চিনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় নতুন দিক নিয়ে আসছে। পহেলগাঁও কাণ্ডের পর, পাকিস্তান আন্তর্জাতিক মহলে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে এবং চিন তা সমর্থন করেছে। এই ঘটনায়, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মধ্যে নতুন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং সেটি আলোচনার খোরাক হয়েছে।

পহেলগাঁও হামলার পর, পাকিস্তান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বারবার জানিয়েছে যে তারা একটি নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক তদন্ত চায়। এই দাবিকে সমর্থন করে রবিবার, চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী ইশাক দারের সঙ্গে ফোনালাপে, ওয়াং ই জানিয়েছেন যে, পাকিস্তান সন্ত্রাসবিরোধী যে পদক্ষেপগুলো নিয়েছে, তাতে চিন সর্বদা তাদের পাশে রয়েছে। চিনের সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা পাকিস্তানের এই অবস্থানকে পুরোপুরি সমর্থন করছে এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে একসাথে দাঁড়ানোর প্রয়োজনীয়তা পুনর্ব্যক্ত করেছে।

এদিকে, পহেলগাঁও হামলার পর ভারত সরকার একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। পাকিস্তানিদের ভিসা বাতিল করা এবং সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি স্থগিত করা তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য। ভারত সরকার পাকিস্তানকে দায়ী করে হামলার ঘটনা নিয়ে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও, পাকিস্তান এই সমস্ত পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে। পাকিস্তান জানিয়েছে, তারা কোনোভাবেই পহেলগাঁও কাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত নয় এবং ভারতের এই পদক্ষেপ শুধুমাত্র তাদের গোয়েন্দা ব্যর্থতা ঢাকার চেষ্টা। পাকিস্তান আরও দাবি করেছে, ভারতের এই পদক্ষেপ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনের জন্য।

চিন, যদিও পাকিস্তানকে সমর্থন জানাচ্ছে, তবুও তারা ভারত-পাকিস্তান উভয় পক্ষকেই শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। ওয়াং ই আরও বলেছেন, যে, ভারত এবং পাকিস্তান উভয়ের মধ্যে চলমান উত্তেজনা কেবল তাদের সম্পর্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, এটি পুরো দক্ষিণ এশিয়ার শান্তির জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। তাদের মতে, এই দ্বন্দ্বে কোন পক্ষই লাভবান হবে না। বরং, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় শান্তি স্থাপনে একযোগে কাজ করলে, তা সব পক্ষের জন্য মঙ্গলজনক হবে।

আরও পড়ুনঃ india ban pak youtube channel : পহেলগাঁও হামলার পর, পাকিস্তানের ইউটিউব চ্যানেল নিষিদ্ধ! কি কারণে এমন কড়া পদক্ষেপ?

পহেলগাঁও হামলার পর আন্তর্জাতিক মহল থেকে সরব প্রতিক্রিয়া এসেছে। আমেরিকা, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ পশ্চিমী দেশগুলি ভারতকে সন্ত্রাসবিরোধী পদক্ষেপের জন্য সমর্থন জানিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারত সব সময় তাদের পাশে পাবে। যদিও চিন এবং পাকিস্তান ভিন্ন অবস্থান গ্রহণ করেছে, তবুও বিশ্ব রাজনীতিতে এই দ্বন্দ্বটি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, তা নিয়ে ভবিষ্যতে আরও আলোচনা হবে।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর