ক্ষুধার্থ কুকুরের সামনে ফেলে কাকাকে হত্যা, কামানের মুখে বেঁধে প্রতিরক্ষা মন্ত্রীকে উড়িয়ে দেওয়া! জ্যান্ত আতঙ্ক কিম জং উন

উত্তর কোরিয়ার স্বৈরাচারী শাসক তিনি। তাঁর মৃত্যুর খবর থেকে তাঁর অসুস্থতার খবর গত বছর বেশ চর্চায় ছিলেন উত্তর কোরিয়ার একনায়ক। ঘোষণা করেছিলেন করোনা নাকি পা ফেলতে পারেনি তাঁর দেশে। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন নিষ্ঠুর অত্যাচারের কারণে বারবার শিরোনাম দখল করেছেন এই নেতা। আতঙ্কের জ্যান্ত উদাহরণ কিম জং উন। নির্বিচারে মানুষ হত্যা তাঁর নাকি স্বভাবজাত! তাঁর মৃত্যু দানের রকমফের‌ও প্রচুর।

আরও পড়ুন –বিশ্বজুড়ে ফের ছড়াচ্ছে করোনা আতঙ্ক! দক্ষিণ চীন থেকেই ছড়িয়েছে মারণ ভাইরাস, সত্য প্রকাশ্যে আনলেন ‘হু’ বিশেষজ্ঞ

বেশ গোলগাল নধর চেহারা কিমের। বয়স‌ও খুব বেশি নয়। হাসতে হাসতেই নির্মমতার চরম সীমা পেরিয়ে যেতে পারেন কিম। এমনই রহস্যে ঘেরা এক চরিত্রের কিছু কার্যকলাপ জানুন l একটা-দু’টো উদাহরণ দেওয়া যাক। নিজের কাকা জ্যাং সং থিককে নাকি ঠান্ডা মাথায় খুন করিয়েছিলেন তিনি। বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করার পর মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। কীরকম সেই মৃত্যুদণ্ড? নগ্ন অবস্থায় তাঁর শরীরে ১২০টি ক্ষুধার্থ কুকুর ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। প্রায় ঘণ্টাখানেক ধরে তারা ছিঁড়েখুঁড়ে খেয়েছিল প্রবীণ সেই ব্যক্তির শরীর! দ্বিতীয় উদাহরণ। উত্তর কোরিয়ার এক সেনা সমাবেশে থাকা অবস্থায় আলতো করে চোখ লেগে গিয়েছিল তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর। সেই ‘অপরাধে’ তাঁকে শয়ে শয়ে দর্শকের সামনে কামানের মুখে বেঁধে উড়িয়ে দেওয়া হয়! উদাহরণ আরও আছে। পিরানহা ভরা পুকুরের মধ্যে ফেলে দিয়ে তিলে তিলে মৃত্যু মেরে ফেলা হয়েছিল উত্তর কোরিয়ার এক সেনা কর্তাকে। অভিযোগ, তিনি কিমের বিরুদ্ধে সামরিক অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্র করেছিলেন।

উল্লেখ্য এর কতটা সত্য এবং কতটা মিথ্যে তার জানার কোন‌ও উপায় নেই। উত্তর কোরিয়া এমনই গোপনীয়তায় ভরা দেশ, যার গভীরে থাকা যে কোনও খবরই অতিরঞ্জিত হয়ে ওঠার সম্ভাবনা প্রচুর। আসলে পশ্চিমের সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগও রয়েছে, ‘শত্রু’ কিমকে বেকায়দায় ফেলতেই এভাবে অনেক সময় ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে বাড়ানো হয়েছে নানা ঘটনা। আরও নিপুণ রঙে রাঙিয়ে তোলা হয়েছে ‘অত্যাচারী’ কিমের ভাবমূর্তিকে।

আরও পড়ুন –আমেরিকা-রাশিয়ার খুনোখুনি! পুতিনকে খুনি বলে দাগলেন বাইডেন, পেলেন পাল্টা জবাব

তবে উত্তর কোরিয়ার সাধারণ মানুষের জীবনযাপন যে খুবই বিপন্ন তা বলা বাহুল্য। গত এক বছরে উত্তর কোরিয়ার মানুষের অবস্থা আরও সংকটজনক হয়ে উঠেছে। অতিমারীর সময়ে তা যেন সব মাত্রা ছাড়িয়ে গিয়েছে। প্রায় গোড়া থেকেই গোটা দেশটাকে ওই শুরুতে যেমন বললাম তেমন করে বেলজারচাপা দিয়ে দেওয়া হয়। দেশের সীমান্তে জারি করা হয় ‘শুট অ্যাট সাইট’ নির্দেশ। কেউ যাতে পালিয়ে ‘বন্ধু’ দেশ চীনে গিয়ে আশ্রয় না নিতে পারে তার ব্যবস্থা পাকা। যাঁরাই পালাতে গেছেন ধরা পড়েছেন সীমান্তে। ফলাফল মৃত্যু।

বছরের মাঝখানে হওয়া বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ে আরও করুণ হয়েছে পরিস্থিতি। খাদ্যশস্য নষ্ট হয়েছে। আমদানিও বন্ধ। ওষুধ, খাদ্যের অভাবে ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। দেশজুড়ে কেবলই দুর্ভোগ আর অস্থিরতা। অন্তত ৪০ শতাংশ মানুষ তীব্র খাদ্যাভাবে ভুগছে। তবু কিমের ভয়ে সকলেই চুপ! এই ভয়াবহ গোপনীয়তার মধ্যেই নানা ধরনের টুকরো খবর বাইরে আসছে। তা জুড়ে জুড়ে এমন ছবিই ফুটে উঠছে। পরিস্থিতি দেখে বহু দেশই চেয়েছে উত্তর কোরিয়ার দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে। কিন্তু কিম নির্বিকার। তবে হয়ত সম্পূর্ণ নির্বিকার নন।ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে কেঁদে কিম স্বীকারও করেন দেশের মানুষকে এই বিপদের হাত থেকে বাঁচাতে পুরোপুরি সফল হয়ে উঠতে পারেননি তিনি। কিন্তু এরপরও নিজের জেদ বজায় রেখে দিয়েছেন ডাকসাইটে ‘জেনারেল’। যা দেখে সন্দেহ জাগে, ওই কান্নাও হয়ত পূর্বপরিকল্পিত!

উত্তর কোরিয়ার মানবাধিকারের করুণ হাল দেখে রাষ্ট্রপুঞ্জের সদস্য দেশগুলির তা নিয়ে উদ্বেগের শেষ নেই। যদিও কিমকে কে বোঝাবে? ক্ষমতার বলয়ের আড়ালে রক্তমাংসের কিম কি কখনও ভাববেন না তাঁর দেশের অভুক্ত, দরিদ্র মানুষদের কথা? কবে ফিরবে তাঁর সম্বিৎ?

নাকি অত্যাচারী স্বৈরশাসক হয় হিটলার- মুসোলিনি দের মতো তিনি‌ও ইতিহাসের পাতায় নাম লেখাতে চান!

আরও অন্যান্য খবর