বাড়ির কাছের প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র, যেখানে মানুষ রোগ সারাতে যায়, সেখানে যদি কেউ হঠাৎ রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকেন, তা হলে চমকে ওঠা স্বাভাবিক। সম্প্রতি বীরভূমে এমনই এক ঘটনা ঘটেছে, যা শুনে এলাকাবাসীর চোখ কপালে উঠেছে। দিন দুপুরে নয়, ঘটনা ঘটেছে কাজ শেষের পর, যখন একা এক নার্স বাড়ি ফিরছিলেন। এমন জায়গায়, যেখানে নিরাপত্তা থাকার কথা সবচেয়ে বেশি, সেখানেই ঘটল চাঞ্চল্যকর আক্রমণ।
বীরভূমের মহম্মদবাজার থানার কাঁইজুলি বিপিএইচসি (BPHC) প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ঘটে এই নৃশংস ঘটনা। আহত নার্সের নাম রিনা মণ্ডল। জানা গেছে, কাজ শেষ করে অফিস থেকে বেরোচ্ছিলেন তিনি। ঠিক সেই সময় মদ্যপ অবস্থায় এক যুবক ঢুকে পড়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। প্রথমে তিনি নানা ওষুধ চাইতে থাকেন। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি বদলে যায়। হঠাৎই পাথর তুলে নার্সের দিকে ছুড়ে মারতে শুরু করে ওই ব্যক্তি।
চিৎকার শুনে ছুটে আসেন আশেপাশের লোকজন। তাঁরা দেখেন, রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন রিনা। তাঁর মাথায় তখনও রক্তপাত চলছে। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে উদ্ধার করে সিউড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা জানান, মাথায় গভীর ক্ষত হয়েছে, পড়েছে মোট ২২টি সেলাই। পরে মহম্মদবাজার থানার পুলিশ এসে অভিযুক্তকে আটক করে। ধৃত যুবকের নাম রাজিব কাহার। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
আহত নার্সের স্বামী সন্তোষ ঘোষ জানিয়েছেন, “আমি তখন বাড়িতেই ছিলাম। বিকেল তিনটের দিকে ফোন আসে। জানানো হয়, আমার স্ত্রীর উপর হামলা হয়েছে। হাসপাতালে গিয়ে দেখি, পুরো মাথা সেলাইয়ে ভরা। শুনলাম, জিনিস গুছোচ্ছিলেন, সেই সময় দরজা বন্ধ করে দিয়ে ওই লোকটি পাথর মারে। আমার স্ত্রী চিৎকার করায় পাশের এক মহিলা দরজা খুলে দেন। তখনই সে পালিয়ে যায়। এখন আর ওঁকে ওই নির্জন জায়গায় পাঠাতে চাই না।”
আরও পড়ুনঃ Astrology: ভৈবব ও সৌভাগ্যের আশীর্বাদ! শুক্র গ্রহের প্রিয় ৩ রাশি, কারা পান অর্থ আর বিলাসিতার সুখ?
সম্প্রতি হাওড়ার উলুবেড়িয়ায় এক মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণের হুমকি দেওয়ার ঘটনায় উত্তপ্ত হয়েছিল রাজ্য। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের এক স্বাস্থ্যকর্মী আক্রান্ত হলেন। চিকিৎসা ক্ষেত্রে মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাজিব কাহারকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং খুব শীঘ্রই তার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।






