10-minute delivery: ১০ মিনিটের ডেলিভারির দৌড় থামাল কেন্দ্র, গিগ ওয়ার্কদের সুরক্ষায় বড় সিদ্ধান্ত!

শহরের ব্যস্ত জীবনে দ্রুত পরিষেবা যেন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। এক ক্লিকে অর্ডার, আর মিনিট দশেকের মধ্যেই দরজায় হাজির খাবার বা প্রয়োজনীয় সামগ্রী—এই তাড়াতাড়ির সুবিধাকে অনেকেই আধুনিক জীবনের আশীর্বাদ বলে মনে করতেন। কিন্তু এই দ্রুততার আড়ালে যে অন্য একটি বাস্তবতা লুকিয়ে ছিল, তা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। বিশেষ করে যাঁরা রাস্তায় নেমে এই পরিষেবা পৌঁছে দিচ্ছেন, সেই ডেলিভারি কর্মীদের জীবন ও নিরাপত্তা নিয়ে ধীরে ধীরে তৈরি হয় গভীর উদ্বেগ।

এই উদ্বেগ শুধু সাধারণ মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। গিগ ওয়ার্ক হিসেবে কাজ করা ডেলিভারি পার্সনরাই প্রথম সরব হন। তাঁদের বক্তব্য ছিল, মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে ডেলিভারি দেওয়ার চাপ তাঁদের প্রায়ই ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে ঠেলে দিচ্ছে। ট্রাফিক, আবহাওয়া বা রাস্তার অবস্থার তোয়াক্কা না করেই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পৌঁছতে বাধ্য হচ্ছেন তাঁরা। ফলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে। ধীরে ধীরে এই দাবি আরও জোরালো হয় এবং চাকরির নিশ্চয়তা, সুরক্ষা ও মানবিক কাজের সময়সীমার প্রশ্নও উঠে আসে আলোচনায়।

বিষয়টি ক্রমে বড় আকার নেয়। একাধিক দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর ঘটনার পর চাপ বাড়তে থাকে প্রশাসনের উপর। সংসদেও গিগ ওয়ার্কদের নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র বিতর্ক দেখা যায়। গত বছরের ডিসেম্বর মাসে দেশের বিভিন্ন বড় শহরে গিগ ওয়ার্কদের ধর্মঘট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। ২৫ ডিসেম্বর ও ৩১ ডিসেম্বর কাজ বন্ধ রেখে প্রতিবাদে নামেন বহু ডেলিভারি কর্মী। তখনই স্পষ্ট হয়, বিষয়টি আর উপেক্ষা করার জায়গায় নেই।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই নড়েচড়ে বসে কেন্দ্র সরকার। গিগ ওয়ার্কদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই যে এখন অগ্রাধিকার, সে কথা স্পষ্ট করে দেয় প্রশাসন। কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রীর মধ্যস্থতায় ফুড ও কুইক কমার্স সংস্থাগুলির সঙ্গে একাধিক দফা আলোচনা হয়। সেখানে মূলত ১০ মিনিটে ডেলিভারি ব্যবস্থার বাস্তবতা ও তার প্রভাব খতিয়ে দেখা হয়। আলোচনার পর সংস্থাগুলিকে জানিয়ে দেওয়া হয়, অতিরিক্ত দ্রুততার নামে কর্মীদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলা চলবে না।

আরও পড়ুনঃ India US Relations:‘হোল্ড অন…’ বার্তার আড়ালে কী ইঙ্গিত? মোদী-ট্রাম্প বন্ধুত্ব নিয়ে নয়া দিল্লিতে বিস্ফোরক মন্তব্য মার্কিন দূতের!

শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত আসে কঠোর হলেও স্পষ্ট। ১০ মিনিটে ডেলিভারি পরিষেবা বন্ধ করার নির্দেশ দেয় কেন্দ্র। এই নির্দেশ মেনেই ব্লিঙ্কিট ইতিমধ্যেই ওই পরিষেবা তুলে নিয়েছে বলে জানিয়েছে। ধাপে ধাপে অন্যান্য সংস্থাও একই পথে হাঁটবে বলেই ইঙ্গিত মিলেছে। ফলে গ্রাহকদের জন্য হয়তো আর আগের মতো তাড়াতাড়ির সুবিধা থাকবে না, কিন্তু প্রশাসনের দাবি—মানুষের জীবন ও নিরাপত্তার সঙ্গে কোনও আপস করা যায় না। এই সিদ্ধান্তে গিগ ওয়ার্কদের একাংশ স্বস্তির নিশ্বাস ফেললেও, ভবিষ্যতে তাঁদের কাজের শর্ত কতটা মানবিক হয়, সেটাই এখন দেখার।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর