Bangladesh : ‘যুদ্ধে আছি ভারতের সঙ্গে’—চট্টগ্রামে ভারতীয় মিশনে হামলার চেষ্টা, রাজশাহীতে ঘেরাও ডাকের জেরে অশান্ত বাংলাদেশ!

বাংলাদেশ জুড়ে অশান্তির আঁচ যেন নিভছেই না। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে রাজনৈতিক ক্ষোভ, হতাশা আর বিদেশনীতি ঘিরে জমে ওঠা অসন্তোষ ধীরে ধীরে রূপ নিচ্ছে হিংসাত্মক বিক্ষোভে। গভীর রাত থেকে ভোর—সব মিলিয়ে একের পর এক ঘটনায় স্পষ্ট, পরিস্থিতি আর শুধুই রাজনৈতিক প্রতিবাদে সীমাবদ্ধ নেই। জনরোষের লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠছে কূটনৈতিক মিশন, সংবাদমাধ্যম এবং সরকারি প্রতিষ্ঠান। এই উত্তেজনার আবহেই নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে চট্টগ্রাম ও রাজশাহী কেন্দ্রিক ঘটনা।

রাতভর তাণ্ডবের পর ভোরের দিকে চট্টগ্রামে অবস্থিত ভারতীয় অ্যাসিস্ট্যান্ট হাইকমিশনের বাইরে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। এর আগে ওই হাইকমিশনকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটায়। সংঘর্ষে তিনজন পুলিশকর্মী আহত হন এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে ১২ জনকে আটক করা হয়। নিরাপত্তা জোরদার করা হলেও শহরের বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। প্রশাসনের দাবি, অশান্তি যাতে আরও না বাড়ে, সে জন্যই সেনা নামানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় গভীর রাতে। রিপোর্ট অনুযায়ী, কট্টরপন্থী একটি গোষ্ঠী চট্টগ্রামে ভারতীয় অ্যাসিস্ট্যান্ট হাইকমিশনারের বাসভবনের দিকে মিছিল করে যায়। প্রথমে ব্যারিকেড দিয়ে তাদের আটকানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু একের পর এক ব্যারিকেড ভেঙে বিক্ষোভকারীরা এগিয়ে যায় বলে অভিযোগ। সেই সময় পুলিশের দিকে ‘ভুয়া’ স্লোগান ওঠে এবং পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। বিক্ষোভকারীদের একাংশ প্রকাশ্যে ঘোষণা করে, তারা ভারতীয় হাইকমিশনের সঙ্গে ‘যুদ্ধে’ নেমেছে—যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

এই উত্তেজনার মধ্যেই আজ রাজশাহীতে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন ঘেরাও করার ডাক দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের তরফে সেখানে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাড়ানো হয়েছে পুলিশি নজরদারি। রাজশাহীতে এর আগেও বিক্ষোভ হিংসাত্মক রূপ নিয়েছিল—আওয়ামী লীগের অফিসে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা সামনে আসে। শুধু তাই নয়, ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, শাহবাগসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়েও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

আরও পড়ুনঃ Bangladesh: নির্বাচনের আগে আগুনে ঢাকা বাংলাদেশ! সংবাদমাধ্যমে হামলা, হাদির মৃত্যু*কে ঘিরে দেশজুড়ে বিস্ফোরক পরিস্থিতি!

এই অশান্তির পেছনে রয়েছে ওসমান হাদির মৃত্যু ঘিরে তৈরি হওয়া ক্ষোভ। গত ১২ ডিসেম্বর তাঁকে গুলি করা হয় এবং ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরের এক হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। অভিযোগ উঠেছে, হামলাকারী ভারতে পালিয়ে গিয়েছে। সেই অভিযোগকে কেন্দ্র করেই বাংলাদেশ জুড়ে ভারত-বিরোধী মনোভাব আরও তীব্র হয়েছে। ঢাকায় ‘প্রথম আলো’ ও ‘ডেইলি স্টার’-এর অফিসে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও সেই ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ। ‘দিল্লি না ঢাকা’, ‘ভারতের আগ্রাসন, ভেঙে দাও-গুঁড়িয়ে দাও’—এই স্লোগানগুলোই এখন রাস্তায় রাস্তায় শোনা যাচ্ছে। পরিস্থিতি কোন দিকে গড়াবে, তা নিয়ে বাড়ছে উৎকণ্ঠা।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর