Lionel Messi : মেসিকে না দেখেই বিস্ফোরণ যুবভারতীতে! হাজার হাজার টাকার টিকিটে মিলল শুধু হতাশা, রণক্ষেত্রের ছবি কলকাতায়!

যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে (Yuba Bharati) বুধবারের সকালটা শুরু হয়েছিল স্বপ্ন, উত্তেজনা আর প্রত্যাশা নিয়ে। হাজার হাজার ফুটবলপ্রেমী মোটা অঙ্কের টিকিট কেটে এসেছিলেন একটাই আশায়—একবার চোখের সামনে লিওনেল মেসিকে (Lionel Messi) দেখবেন। বিশ্বকাপজয়ী তারকাকে এক ঝলক দেখার সেই অপেক্ষায় সকাল থেকেই স্টেডিয়ামের গ্যালারি ভরে উঠেছিল। কিন্তু সময় যত এগোয়, উত্তেজনার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে অস্বস্তি আর অনিশ্চয়তা। কেউই তখনও জানতেন না, এই প্রত্যাশার শেষটা এমন বিশৃঙ্খল হয়ে উঠবে।

সকাল ঠিক ১১টা ৩০ মিনিট নাগাদ যুবভারতীতে ঢোকে মেসির গাড়ি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন লুইস সুয়ারেজ় ও রদ্রিগো ডি’পল। বাইরে তখন উন্মাদনার ছবি, গ্যালারিতে ‘উই ওয়ান্ট মেসি’ স্লোগান। গাড়ি থেকে নামার পর হাসিমুখেই ছিলেন মেসি, কিন্তু সেখান থেকেই পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হতে শুরু করে। মন্ত্রী, কর্তা ও আমন্ত্রিতদের ভিড়ে তাঁকে প্রায় ঘিরে ফেলা হয়। ছবি তোলার হুড়োহুড়িতে হাঁটার জায়গাটুকুও ছিল না। নিরাপত্তারক্ষীরা চারদিক থেকে ঘিরে রাখলেও গ্যালারি থেকে মেসিকে স্পষ্ট করে দেখার সুযোগ মিলছিল না।

এদিকে দর্শকদের ভরসা ছিল স্টেডিয়ামের তিনটি জায়ান্ট স্ক্রিন। কিন্তু সেখানেও পরিষ্কার ভাবে মেসিকে দেখা যাচ্ছিল না। মাঠের মধ্যে পরিচয়পর্ব চলাকালীনও তাঁকে ঘিরে ভিড় এতটাই ঘন ছিল যে সাধারণ দর্শকের চোখে ধরা পড়েনি আর্জেন্টিনার তারকা। পরিস্থিতি সামাল দিতে বারবার মাইক্রোফোনে অনুরোধ করতে হয় ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ও প্রধান আয়োজক শতদ্রু দত্তকে। তবু উত্তেজনা কমেনি। নিরাপত্তারক্ষীদের মেসিকে নিয়ে সেলফি তোলার দৃশ্য গ্যালারি থেকে দেখে ক্ষোভ আরও বাড়তে থাকে।

মাত্র ২৩ মিনিট যুবভারতীতে থাকার পর ১১টা ৫২ মিনিট নাগাদ মেসিকে মাঠের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। তখনও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, শাহরুখ খান বা সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় স্টেডিয়ামে পৌঁছননি। মেসি বেরিয়ে যেতেই হতাশা মুহূর্তে রূপ নেয় ক্ষোভে। হাজার হাজার টাকার টিকিট কেটে এসেও প্রিয় ফুটবলারকে এক ঝলক দেখতে না পাওয়ায় দর্শকদের একাংশ ফুঁসে ওঠেন। শুরু হয় বোতল ছোড়া, হোর্ডিং ছেঁড়া, গ্যালারির চেয়ার ভাঙচুর। এমনকি মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে লক্ষ্য করেও বোতল ছোড়া হয় বলে অভিযোগ।

আরও পড়ুনঃ Messi Kolkata Tour: বিমানবন্দর থেকে যুবভারতী, থামেনি উন্মাদনা—মেসি আসতেই ঘুম উধাও কলকাতার!

কিছুক্ষণের মধ্যেই গোটা স্টেডিয়াম কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। ফেন্সিং ভেঙে কয়েকশো দর্শক মাঠে ঢুকে পড়েন, চেয়ার ছুড়ে মারা হয় মাঠের দিকে। সেই সময় গ্যালারিতে পুলিশের উপস্থিতি চোখে পড়েনি। মেসিকে না দেখতে পাওয়ার হতাশা আর অব্যবস্থাপনার ক্ষোভ মিলেমিশে পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে। যে যুবভারতী এক ঝলক মেসির আশায় ভরে উঠেছিল, সেখানেই শেষ পর্যন্ত রয়ে গেল ভাঙচুর, ক্ষোভ আর প্রশ্ন—এত বড় আয়োজনের প্রস্তুতি কি আদৌ যথেষ্ট ছিল?

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর