Teacher Heckled: আলো নিভিয়ে রাজারহাটে প্রধান শিক্ষিকাকে মার*ধরের অভিযোগ! প্রাণ রক্ষার জন্য অবশেষে শৌচাগারে লুকোতে বাধ্য হয় শিক্ষিকা!

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে নিরাপদ স্থান ভাবা হয় সব সময়। কিন্তু রাজারহাটের এক স্কুলে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ঘটনা তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। স্কুলের প্রধান শিক্ষিকার ওপর এমন আক্রমণ, যেখানে নিজের প্রাণ রক্ষা করতে শৌচাগারে লুকোতে হয়েছে, তা কেবল স্থানীয় সমাজকে নয়, শিক্ষাব্যবস্থাকেও চাঞ্চল্যকর করেছে। সাধারণ পাঠক বা অভিভাবকরা এই খবর শুনে ভয় পেতে বাধ্য, কারণ যা ঘটেছে তা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভিতরে ঘটে গেছে।

প্রধান শিক্ষিকার অভিযোগ অনুযায়ী, কয়েকজন স্কুলের ভিতরে প্রবেশ করে। প্রথমে তিনি কক্ষে ছিলেন, কিন্তু আচমকা একজন মহিলা তাদের মধ্যে থেকে এসে হঠাৎ তাকে মারধর শুরু করেন। পরিস্থিতি এমন হয় যে, শিক্ষিকা নিজের নিরাপত্তার জন্য কক্ষ থেকে বের হতে বাধ্য হন, এবং তখনই সকলের হামলার মুখে পড়েন। জামাকাপড় টেনে ধরা, চুল ধরে টানা এবং চড়-থাপ্পড়—সবই একসাথে ঘটে। বিদ্যুৎ সংযোগও বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে।

ভয়াবহ আক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য প্রধান শিক্ষিকা শেষ পর্যন্ত স্কুলের শৌচাগারে লুকোতে বাধ্য হন। ঘরের দরজায় বাইরে থেকে ধারাবাহিক আঘাত করা হচ্ছিল, প্রায় দরজা ভেঙে ফেলার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। প্রাণভয়ে শিক্ষিকা অনেকক্ষণ শৌচাগারে আটকে থাকতে হয়। জানা গিয়েছে, আক্রান্ত শিক্ষিকা তৃণমূলপন্থী শিক্ষক সংগঠনের বারাসাত জেলার সহ-সভাপতি। এই ঘটনা নিয়ে তিনি মধ্যশিক্ষা পর্ষদ ও স্কুল শিক্ষা কমিশনারকে চিঠি লিখে অভিযোগ জানিয়েছেন।

রাজারহাট থানায়ও তিনি অভিযোগ দায়ের করেছেন। যদিও স্থানীয় অভিভাবকরা দাবি করছেন, স্কুলে দীর্ঘদিন বাংলার শিক্ষক নেই। প্রধান শিক্ষিকার সতর্কবার্তা বা পদক্ষেপ নিয়ে বারবার জানানো হলেও কোন কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এর ফলে শিক্ষকের উপর হামলার ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। এদিকে পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেফতার করলেও, কিছু সময়ের মধ্যে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন

আরও পড়ুনঃ Kolkata metro : পাতালপথে দুর্গাদর্শন হবে আরও সহজ কলকাতা মেট্রোতে, স্মার্ট কার্ডে সীমাহীন ভ্রমণ!

এই ঘটনা রাজ্যের শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। শিক্ষক-নেত্রী হওয়া সত্ত্বেও, আক্রমণের শিকার হওয়া প্রমাণ করে রাজনৈতিক প্রভাব ও শক্তিশালী নেটওয়ার্ক শিক্ষাব্যবস্থায় কতটা প্রভাব বিস্তার করতে পারে। বিষয়টি নিয়ে এখন শিক্ষাব্যবস্থা, প্রশাসন এবং অভিভাবকদের মধ্যে গভীর সমালোচনা শুরু হয়েছে। একদিকে নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিশ্চিত করা প্রয়োজন, অন্যদিকে শিক্ষকদের রাজনৈতিক প্রভাব থেকে সুরক্ষা দেওয়াও অত্যন্ত জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর