পরিবারের অন্দরমহল, যেখানে প্রতিটি সন্তানের সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় হওয়া উচিত, কখনও কখনও সেখানেই গড়ে ওঠে ভয়াবহ নরক। এমনই এক বেদনাদায়ক ঘটনা সামনে এল দক্ষিণ কলকাতার বাঁশদ্রোণী এলাকা থেকে। এক ১৩ বছরের কিশোরী দিনের পর দিন তার নিজের বাবার হাতে নিগৃহীত হচ্ছিল। দীর্ঘদিন ধরে যন্ত্রণা সহ্য করার পর অবশেষে সে মুখ খোলে এক বন্ধুর সামনে। আর সেই বন্ধুই হয়ে ওঠে তার মুক্তির পথ।
জানা গিয়েছে, নির্যাতিতা নাবালিকা একটি বেসরকারি স্কুলের ছাত্রী। সে তার ঘনিষ্ঠ এক বান্ধবীকে জানায়, তার বাবা দীর্ঘদিন ধরে তাকে ধর্ষণ করছে। এমনকি এই ঘটনা সে তার মা’কেও জানিয়েছে, কিন্তু মায়ের তরফে কোনও সাড়া মেলেনি। এরপর সেই বান্ধবী নিজের মায়ের মাধ্যমে পুরো ঘটনা জানায় পুলিশকে। এর জেরে নির্যাতিতাকে নিয়ে থানায় হাজির হন তারা এবং দায়ের হয় ধর্ষণের অভিযোগ।
পুলিশ অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। নির্যাতিতার বয়ান এবং প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয় অভিযুক্ত বাবাকে, যার নাম বাপ্পা সাহা। পাশাপাশি, মেয়েটির মেডিকেল পরীক্ষাও করানো হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, পরীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী, মেয়েটির উপর যৌন নির্যাতনের প্রমাণ মিলেছে। আপাতত অভিযুক্তকে হেফাজতে রেখে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।
এখানেই শেষ নয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত বাপ্পা সাহা একজন পরিচিত তৃণমূল কর্মী। তাঁকে প্রায়শই এলাকার এক তৃণমূল বিধায়কের সঙ্গে দেখা যেত। এলাকায় দলীয় কর্মসূচিতেও তার সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল বলেই দাবি প্রতিবেশীদের। যদিও এখনও পর্যন্ত তৃণমূল দলের পক্ষ থেকে এ নিয়ে কোনও সরকারি প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুনঃ ULLU, ALTT সহ ২৫টি সফট পর্ন OTT প্ল্যাটফর্মে কড়া নিষেধাজ্ঞা কেন্দ্রের, শালীনতার সুরক্ষা দিতে বড় পদক্ষেপ!
এই ঘটনা নতুন করে সামনে নিয়ে এল সমাজে ছড়িয়ে থাকা অন্ধকার দিকগুলোকে। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, একজন মা কীভাবে মেয়ের আর্তি শুনেও চুপ থাকতে পারলেন? একজন রাজনৈতিকভাবে যুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ সমাজের উপরও এক বড় প্রশ্নচিহ্ন রেখে দেয়। শুধুই কি এক ধর্ষকের বিচার করলেই শেষ? নাকি সময় এসেছে পরিবার ও সমাজকে নতুন করে মূল্যায়নের?






‘ভগবান শুধু আশা দেন, কাজ কিছুই করেন না!’ ঈশ্বরকে নিয়ে বিস্ফো’রক জাভেদ আখতার