দিল্লিতে আজ ভারতের কৃষক সংগঠনের কৃষকেরা নতুন কৃষি আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে ট্রাক্টর র্যালি করেছেন। এদিন জোর করে লালকেল্লায় ঢুকে জাতীয় পতাকার জায়গায় কৃষক সংগঠনের পতাকা তোলেন কৃষকেরা। চূড়ান্ত অপমান করা হয় জাতীয় পতাকার মর্যাদার। তবে এদিকে ‘অল পাকিস্তান মুসলিম লিগ’-এর দাবী যে লালকেল্লায় যে পতাকা উত্তোলিত হয়েছে, তা আসলে নাকি খালিস্তানি পতাকা। আর এই নিয়েই এই ঘটনাকে ঐতিহাসিক মুহূর্ত বলে আনন্দ উদযাপন করছেন পাকিস্তানের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি পারভেজ মুশারফ।

সংশ্লিষ্ট মুসলিম লিগ আবার একে ‘পতাকা বদলানোর উৎসব’ বলেও আখ্যা দিয়েছে। এদিন অল পাকিস্তান মুসলিম লিগের তরফে একটি টুইট করে বলা হয়, “শান্তিপূর্ণ শিখ আন্দোলনকারীরা লালকেল্লা থেকে ভারতীয় পতাকা সরিয়ে নিশান সাহিব পতাকা উড়িয়েছে। যা শিখদের কাছে বেশ সন্ত্রস্ত। শিখ কৃষক ও মুসলিমরা শক্তিশালী হোক”।

যে পতাকা লালকেল্লায় ওড়ানো হয়েছে তা আসলে কৃষক সংগঠনের পতাকা। কিন্তু পাকিস্তানীরা ভারতীয় রাজ্যের বিরুদ্ধে শিখদের উস্কানি দেওয়ার জন্য এই কৃষক সংগঠনের পতাকা ও খালিস্তানি পতাকার মাঝে পার্থক্য খুঁজতে অক্ষম। সন্ত্রাসবাদী দল ‘শিখ ফোর জাস্টিস’-এর তরফেও বলা হয় যে প্রজাতন্ত্র দিবসে খালিস্তানি পতাকা ওড়ানো হবে।
পাকিস্তানের রাজনৈতিক দল এই দিনটিকে ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের ইতিহাসে ‘কালো দিন’ বলে দেগেছে। বিক্ষোভকারীদের এই কার্যকলাপ নিঃসন্দেহে খুবই ঘৃণ্য। আবার কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই ঘটনাকে উদযাপিত করা হয়েছে। তাদের মতে, ভারতের অরাজকতার বিরুদ্ধে দেশের রাজধানীতে এটা একটা প্রতিবাদ। কংগ্রেসের তরফ থেকে এই ঘটনাকে ‘গণতন্ত্রের শক্তি’ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, এদিন সিঙ্ঘু, গাজীপুর ও টিকরি বর্ডারে কৃষকেরা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে পৌঁছয় দিল্লিতে। এর জেরে আইটিও-এর সামনে দেখানো হয় বিক্ষোভ। অভিযোগ, পুলিশের উপর দিয়েও ট্রাক্টর চালিয়ে দেন কৃষকেরা। ব্যারিকেড ভেঙে ঢুকে পড়েন লালকেল্লাতেও। কৃষকদের ট্রাক্টর র্যালিতে এক নিহঙ্গ সাধু তলোয়ার নিয়ে পুলিশের উপর হামলা করেন। তলোয়ার নিয়ে পুলিশকে ধাওয়া করা হয়। তাঁকে থামানোর চেষ্টা করেন অন্যান্য কৃষকেরা। এরপরই আরও বেশি উত্তেজনা ছড়ায়। মুকরবা চৌকে প্রদর্শনকারীরা পুলিশের বাহনে কবজা করে নেয়।






