গ্রীষ্মের দাবদাহে যখন দেশের একাধিক রাজ্যে জলসংকট ঘনীভূত হচ্ছে, তখন সাধারণ মানুষের মনেও ভেসে উঠছে একটাই প্রশ্ন— আগামী দিনে কি জলই হয়ে উঠবে যুদ্ধের কারণ? কৃষিকাজ, পানীয় জল কিংবা জলবিদ্যুৎ, সব কিছুর জন্যই নির্ভরশীল আমরা নদীর উপরে। কিন্তু ভাবা যায়, এক দেশের জল আটকালে অন্য দেশ হুমকি দিচ্ছে সরাসরি যুদ্ধের? ঠিক এমনই বিস্ফোরক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এই মুহূর্তে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে।
সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক জলচুক্তি নিয়ে একাধিক বার হুঁশিয়ারি দিয়েছে পাকিস্তান। কিন্তু এবার যে হুমকি এল, তা যেন আগুনে ঘি ঢালার সামিল। দেশের রাজনৈতিক উত্তাপ যখন চরমে, তখনই পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর কণ্ঠে ফের শুনতে পাওয়া গেল যুদ্ধের সুর। আর তাতেই স্বাভাবিক ভাবেই চিন্তার ভাঁজ পড়েছে কূটনৈতিক মহলে।
তিন দিন আগেই ভারতের তরফে ব্লক করা হয়েছিল পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফের এক্স অ্যাকাউন্ট। আর তার পরেই পাক সংবাদমাধ্যমে মুখ খুলে তিনি তীব্র আক্রমণ করলেন নয়াদিল্লিকে। তাঁর স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, “ভারত যদি সিন্ধু জলচুক্তি বাতিল করে অথবা কোনও একতরফা নির্মাণকাজ চালায়, তাহলে তা যুদ্ধ ঘোষণার সমান। পাকিস্তান বাধ্য হয়ে ভারতকে আক্রমণ করবে।” তিনি বলেন, “জল আটকানোও এক ধরনের আগ্রাসন। এতে শুধু ক্ষতি নয়, তৃষ্ণার জ্বালায় মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।”
প্রতিরক্ষামন্ত্রী আসিফের দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নির্বাচনী ফায়দা তুলতেই এমন ‘নাটক’ করছেন। তাঁর মতে, পহেলগাঁও সংক্রান্ত ভারতীয় অভিযোগের কোনও বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ নেই। তাই তিনি মনে করেন, এই জলচুক্তি ঘিরে রাজনৈতিক ইস্যু তৈরি করেই দেশবাসীর আবেগকে কাজে লাগাতে চাইছেন মোদি। তাঁর কথায়, “এই ধরনের একতরফা পদক্ষেপে আন্তর্জাতিক মহলেও আমরা অভিযোগ জানাব।”
আরও পড়ুনঃ Dilip Ghosh : ‘রামনবমীর মিছিল করতে হচ্ছে, কারণ আপনি সৌজন্য দেখাননি!’—মমতাকে কটাক্ষ করে বিস্ফোরক দিলীপ ঘোষ!
প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই এক সাক্ষাৎকারে খাজা আসিফ স্বীকার করে নেন যে পাকিস্তান দীর্ঘ তিন দশক ধরে সন্ত্রাসে মদত দিয়েছে। তাঁর কথায়, “আমরা পশ্চিমি দেশগুলির জন্যই এই ভুল করেছি এবং তার খেসারত আজও দিতে হচ্ছে।” এই মন্তব্য ঘিরেই বিতর্ক চরমে ওঠে এবং তৎক্ষণাৎ ভারতের তরফে ব্লক করে দেওয়া হয় তাঁর এক্স অ্যাকাউন্ট। কিন্তু এবার সেই প্রতিরক্ষামন্ত্রীই ফের মুখ খুলে দিলেন সরাসরি যুদ্ধের হুমকি, যা দুই দেশের সম্পর্কে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলল।






