Bangladesh : হিন্দু নিপীড়নের পাশে যুক্তি, তলায় লেখা ‘Boost Post’! সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রোলড বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা

বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের ওপর হওয়া নির্যাতন যেন আজ আর চমকে দেওয়ার মতো ঘটনা নয়, বরং এক অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। গ্রামে আগুন লাগা, বাড়ি ভাঙচুর, লুটপাট—এই দৃশ্য অনেকেরই পরিচিত হয়ে উঠেছে সময়ের সঙ্গে। কিন্তু যেটা নতুন, তা হল, এসব ঘটনার পরেও প্রশাসনিক প্রধানদের দায় এড়ানোর প্রয়াস। যখন কেউ নিজের পরিবার, নিজের ঘর হারান, তখন তাঁর কাছে ‘যুক্তি’ নয়, প্রয়োজন ‘ন্যায়’। এই অবস্থায় সরকারের উচ্চপদে থাকা একজন ব্যক্তির মন্তব্য যদি সেই যন্ত্রণাকে হালকা করে দেয়, তাহলে সাধারণ মানুষের মনেও প্রশ্ন জাগে—তবে কি সংখ্যালঘুদের জীবনের কোনও দাম নেই?

এবার এমনই এক বিতর্ক ঘিরে তোলপাড় নেটদুনিয়া। দেশের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করে বলার চেষ্টা করেন, সংখ্যালঘুদের ওপর হওয়া হামলা ‘সাম্প্রদায়িক হিংসা’ নয়। কিন্তু তাঁর সেই পোস্টেই চোখ কপালে উঠেছে নেটিজেনদের। কারণ, পোস্টের নিচে লেখা ছিল—‘Boost Post’। অনেকেই বলছেন, এ যেন আগুনে ঘি ঢালা! যে পোস্টে যুক্তি সাজিয়ে সংখ্যালঘু নিপীড়নকে বৈধ করার চেষ্টা হচ্ছে, সেই পোস্টকেই আরও ছড়িয়ে দেওয়ার বার্তা? এমনটাই তো বোঝাচ্ছে ‘বুস্ট পোস্ট’-এর উপস্থিতি। এবং সেই ভুলেই রীতিমতো ট্রোলের শিকার হয়েছেন ইউনুস ও তাঁর টিম।

২২ মে যশোর জেলার অভয়নগর উপজেলার ডহরমসিয়াহাটি গ্রামে হিন্দু মতুয়া সম্প্রদায়ের বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। সেখানে ১৮টিরও বেশি বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়। চালানো হয় ভাঙচুর ও লুটপাট। অভিযোগ, প্রায় চার ঘণ্টা ধরে চলে সেই হামলা, অথচ পুলিশের কোনও তৎপরতা দেখা যায়নি। এরপরও প্রশাসনের তরফে কোনও সঠিক রিপোর্ট দেওয়া হয়নি। অথচ ইউনুস বিবিসি-র খবরে ভরসা করে দাবি করছেন, এটি ধর্মীয় নয়, বরং ‘ব্যবসায়িক বিরোধ’।

ইউনুসের দাবি, স্থানীয় কৃষকদল নেতা তারিকুল ইসলামকে কিছু হিন্দু গ্রামবাসী গুলি করে হত্যা করেন, যার প্রতিশোধেই এই হামলা। এখানেই প্রশ্ন উঠছে—হত্যার তদন্ত করছে কে? কীভাবে প্রমাণ হল হিন্দুদের জড়িত থাকা? আর যদি কিছু ব্যক্তি দোষীও হন, তাহলে সেই গ্রামের সব হিন্দু পরিবারকে একসঙ্গে ‘শাস্তি’ দেওয়ার অধিকার কে দিল? সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, তিনি নিজেই লেখেন, ‘হামলা দুঃখজনক, তবে এটি প্রতিশোধমূলক’। এর মাধ্যমে কি তিনি নিজেই প্রতিহিংসার সংস্কৃতিকে প্রশ্রয় দিচ্ছেন?

আরও পড়ুনঃ Ssc : সুপ্রিম কোর্টের রায় মেনে পরীক্ষা নয়! এবার শিক্ষক-শিক্ষিকারা মোদির সঙ্গে দেখা করে জানাতে চান যন্ত্রণা!

সরকারের উচ্চপদে থেকে সংখ্যালঘুদের ওপর এমন নির্লজ্জ নির্যাতনকে ‘যথার্থ’ বলে ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা কতটা গ্রহণযোগ্য? দেশ যেখানে ধর্মীয় সম্প্রীতির বুলি আওড়ে, সেখানে সংখ্যালঘুদের বাড়িতে আগুন দেওয়া বা দোকানপাট লুট করার দায় এড়ানো যায় কি? এমনকি ইউনুস জমানায় বহু রাজাকার বেকসুর খালাস পায়, অথচ চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের মতো হিন্দু সন্ন্যাসীকে ভুয়ো মামলায় জেল খাটতে হয়! এমন পরিস্থিতিতে ‘বুস্ট পোস্ট’ নয়, বরং প্রয়োজন বাস্তব বিচার, মানবিকতা এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার গ্যারান্টি। কিন্তু সেসবের বদলে সরকারের পক্ষ থেকে যে ধরনের ‘বক্তব্য’ সামনে আসছে, তা কেবল প্রশ্নই তৈরি করছে—কারা প্রকৃত দোষী, আর কারা দায় এড়িয়ে চলেছে?

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর