এলাহাবাদ হাইকোর্ট (Allahabad Court) সম্প্রতি একটি ঐতিহাসিক রায় প্রদান করেছে, যেখানে আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, মসজিদের উপরে লাউডস্পিকার রাখা কোনও অধিকার নয়। এই রায়টি রাজ্য সরকারের কাছে এক কঠিন বার্তা, যেখানে ধর্মীয় স্থানগুলির উদ্দেশ্য এবং লাউডস্পিকারের ব্যবহার নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। আদালতের এই রায়ের পরবর্তী প্রভাব রাজ্যে ধর্মীয় স্থানগুলির ব্যবস্থাপনা এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ওপর পড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।
এলাহাবাদ হাইকোর্টের দুটি বিচারপতি, অশ্বিনী কুমার মিশ্র এবং দোনাদি রমেশের বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়েছিল। আদালত বলেছিল যে, ধর্মীয় স্থানগুলি শুধুমাত্র প্রার্থনার জন্য এবং সেখানে লাউডস্পিকার ব্যবহার করা অধিকার হিসেবে দাবি করা যায় না। বিচারপতিরা বলেন, “ধর্মীয় স্থানগুলো দেবতার উদ্দেশ্যে প্রার্থনা করার জন্য এবং সেখানে লাউডস্পিকার ব্যবহার মানুষের অধিকারের মধ্যে পড়ে না, বিশেষ করে যখন তা আশেপাশের বাসিন্দাদের জন্য বিরক্তিকর হতে পারে।”

এই মামলাটি পিলিভীতের বাসিন্দা মুখতিয়ার আহমেদ দায়ের করেছিলেন, যিনি রাজ্য কর্তৃপক্ষের কাছে ধর্মীয় স্থানে লাউডস্পিকার ব্যবহারের অনুমতি চেয়েছিলেন। মুখতিয়ারের আবেদন খারিজ করার পর, আদালত রাজ্য কর্তৃপক্ষকে এই বিষয়টি নতুন করে বিবেচনা করার নির্দেশনা দেয়। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২২ সালে যোগী আদিত্যনাথের নেতৃত্বাধীন উত্তর প্রদেশ সরকার রাজ্য জুড়ে অবৈধ লাউডস্পিকার সরানোর নির্দেশ দিয়েছিল।
তবে এই রায়ের সবচেয়ে বড় প্রভাব তাৎক্ষণিকভাবে ধর্মীয় সংগঠনগুলোর মধ্যে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। অনেক মুসলিম সংগঠন এবং ধর্মীয় নেতা এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার কথা ভাবছেন। তারা বলছেন, এটি ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন হতে পারে, যা গণতন্ত্রের মূল স্তম্ভের বিরোধী।
আরও পড়ুনঃ ভারত-আমেরিকা মিটিংয়ের পর বাংলাদেশে কী আসছে নতুন কূটনৈতিক পরিবর্তন?
এলাহাবাদ হাইকোর্টের এই রায়টি একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় নিয়েছে, কারণ এটি শুধুমাত্র লাউডস্পিকারের ব্যবহার নিয়েই সীমাবদ্ধ নয়। আদালত যে ভাষায় এই রায় দিয়েছে, তা রাজ্যের ধর্মীয় স্থানগুলির ব্যবস্থাপনাকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে বাধ্য করবে। বিশেষত, যখন সরকারি নীতি ধর্মীয় স্থানগুলির ওপর আরও কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করছে, তখন এই রায়টি রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকারকে সমঝোতা তৈরি করতে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিল।






‘ভগবান শুধু আশা দেন, কাজ কিছুই করেন না!’ ঈশ্বরকে নিয়ে বিস্ফো’রক জাভেদ আখতার