এর আগেও একবার দেখা হয়েছিল। তবে সেদিন খুব বেশি সময় কথা হয়নি। এবার আজ, সোমবার ফের তিহাড় জেলে দেখা হয় বাবা-মেয়ের। সূত্রের খবর, এদিন মেয়ে সুকন্যাকে দেখেই কান্নায় ভেঙে পড়লেন অনুব্রত মণ্ডল।
এদিন মেয়েকে দেখে প্রথমেই অনুব্রত জিজ্ঞাসা করেন, “তোর কষ্ট হচ্ছে মা”? এর আগের দিন অনুব্রত মেয়েকে বলেছিলেন, “দিল্লি কেন আসতে গেলি তুই? তোকে তো বারণ করেছিলাম। দিল্লি না এলে ওরা তোকে গ্রেফতার করত না”। উত্তরে সুকন্যা বলেছিলেন, “বারবার নোটিশ পাঠাচ্ছিল, না এসে উপায় ছিল না”।
জেলে সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন বাবা-মেয়ের মধ্যে প্রায় মিনিট ২৫ কথা হয়। এও জানা গিয়েছে, অনুব্রত সুকন্যাকে আশ্বাস দিয়ে বলেছেন, “চিন্তা করিস না, সব ঠিক হয়ে যাবে”। মেয়ে তাঁকে জানান, তিনি বারবার চেষ্টা করেছিলেন অনুব্রতর সঙ্গে তিহাড়ে দেখা করতে। কিন্তু অনুমতি মেলেনি। এরপর তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে ডেকে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে গ্রেফতার করে কেন্দ্রীয় এজেন্সি।
প্রথম থেকেই অনুব্রতর মেয়ের গ্রেফতারির বিরুদ্ধে সরব হয়েছে তৃণমূল। সুকন্যাকে গ্রেফতার করা ঠিক হয়নি বলে জানিয়েছেন দলের শীর্ষ নেতৃত্বে। সুকন্যার গ্রেফতারির দিনেই তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেছিলেন, “মা মরা মেয়ে সুকন্যা। বাবা জেলে। তাঁকে কি বাইরে রেখে তদন্ত করা যেত না? এটা কি খুব মানবিক হল”?
সুকন্যার গ্রেফতারির বিরুদ্ধে সরব হয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ্’র ছেলে জয় শাহকে নিশানা করেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বীরভূমে ‘তৃণমূলের নবজোয়ার’ কর্মসূচিতে গিয়ে সভা থেকে তিনি বলেছিলেন, “সুকন্যা মণ্ডলের সম্পত্তি ১৫০ গুণ বৃদ্ধি পাওয়ার জন্য যদি তাঁকে গ্রেফতার করা হয় তাহলে অমিত শাহের ছেলের সম্পত্তি আট হাজার গুণ বৃদ্ধি পাওয়ার জন্য কেন তাঁকে গ্রেফতার করা হবে না”?
অনুব্রত মণ্ডল ও সুকন্যা মণ্ডলকে পৃথক পৃথক মামলায় জুলাই পর্যন্ত তিহাড় জেলে রাখারই নির্দেশ দিয়েছে দিল্লি রাউস অ্যাভিনিউ আদালত। এরই মধ্যে দ্বিতীয়বার দেখা হল বাবা-মেয়ের।






