করোনা ঝড়ে বিপর্যস্ত গোটা বিশ্ব। অর্থনীতি রীতিমত তলানিতে ঠেকেছে গোটা বিশ্বে। ছোটো থেকে বড় সকল সংস্থারই মাথায় হাত। ভবিষ্যত কী হবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তার মেঘ সংস্থার মালিকের মাথায়। এহেন পরিস্থিতির সুযোগই এবার নিতে বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শুনতে অবাক লাগলেও সত্যি।
কী বলেছেন প্রধানমন্ত্রী?
চীনের উহান প্রদেশ থেকেই শুরু হয় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ। এর পর থেকেই বহু কোম্পানি চীনের মাটি ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেছেন। আর এই সুযোগটাই ভারতকে কাজে লাগাতে হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মুখ্যমন্ত্রীদের এমনই বার্তা দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। সোমবার ভিডিও কনফারেন্সে দেশের সব মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকের সময়েই এমন বার্তা দেন মোদী। তিনি মুখ্যমন্ত্রীদের বলেন, চীন ছেড়ে আসা কোম্পানিগুলিকে স্বাগত জানানোর জন্য সব রাজ্যকে তৈরি থাকতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী ওই বৈঠকে আরও বলেন যে, চীন ছেড়ে যে সব কোম্পানি অন্যত্র চলে যেতে চাইবে তাদের ভাল গন্তব্য হতে পারে ভারত। কারণ, এদেশে প্রশিক্ষিত কর্মী এবং প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো রয়েছে। এখন থেকেই সেজন্য সব রাজ্যকে প্রস্তুতি নিতেও বলেন প্রধানমন্ত্রী।
সূত্রের দাবি, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, “আপনারা সবাই জানেন যে, অনেক শিল্প সংস্থা করোনাভাইরাস সঙ্কটের পরে চীন ছেড়ে অন্যত্র যাওয়ার কথা ভাবছে। এই সময়ে যাতে ভারতে বিনিয়োগ আসে সেজন্য কেন্দ্র ও রাজ্যগুলিকে একযোগে কাজ করতে হবে।”
এই তথ্য সামনে আসতেই প্রশংসা ও সমালোচনা দুইয়েরই ঝড় বইছে। কেউ বলছেন তিনি সুবিধাবাদী, কেউ বলছেন এটা তাঁর দূরদর্শিতা।
যদিও প্রধানমন্ত্রীর আগে এমনই আশা প্রকাশ করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতিন গড়কড়ি। এক সাক্ষাৎকারে কেন্দ্রীয় ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পমন্ত্রী বলেন, চীনের সঙ্গে বাণিজ্য করতে গোটা বিশ্বের অনীহা ভারতের জন্য সুযোগ করে দেবে। ঘুরে দাঁড়াতে পারবে এই দেশের ছোট শিল্প। তিনি বলেন, “করোনা সংক্রমণে বিশ্বের সব দেশেই অর্থনৈতিক সঙ্কট চলছে। কিন্তু সব দেশই এখন আর চীনের সঙ্গে বাণিজ্য করতে চাইছে না। এটা শাপে বর হবে ভারতের। এটা আমাদের কাছে একটা সুযোগ করে দেবে।”
ইন্টারন্যাশনাল মনিটারি ফান্ড (আইএমএফ) ইতিমধ্যেই জানিয়েছে করোনা মহামারির জন্য চীনের গ্রোথ রেট ১.২ শতাংশ হয়ে যাবে চলতি বছরে। অর্থনৈতিক ধাক্কার পাশাপাশি আমেরিকা-সহ অনেক দেশই করোনা সংক্রমণ এমন বিশ্বজোড়া মহামারির আকার নেওয়ার জন্য চীনকেই দায়ি করেছে। সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বেশ চাপেই রয়েছে চীন। অনেক সংস্থাই চীন থেকে ভারতে কারখানা সরিয়ে আনার কথা বলেছে বলেও জানা গিয়েছে।






