দেশজুড়ে আইনের শীর্ষ আসন থেকে উচ্চারিত একটি মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। সাধারণত আদালতের রায় বা পর্যবেক্ষণ নিয়ে জনমানসে বিস্তর আলোচনা হলেও এবার আলোড়ন তৈরি করেছে প্রধান বিচারপতির এক কথায়। বিশেষ করে ধর্মীয় অনুভূতি জড়িত থাকায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে। নানা মহলে প্রশ্ন উঠছে—শীর্ষ আদালতের সর্বোচ্চ পদে থাকা ব্যক্তির মন্তব্য কি সত্যিই সনাতন ধর্মকে আঘাত করেছে, নাকি সেটিকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে?
বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু মধ্যপ্রদেশের খাজুরাহো। সেখানকার জাভেরি মন্দিরে একটি প্রাচীন বিষ্ণুমূর্তির পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিতে মামলা করেন রাকেশ দেশাই নামের এক ব্যক্তি। তাঁর অভিযোগ, মূর্তিটি মুগল আমলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এবং বহু বছর ধরে সেটি মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। শুধু প্রত্নতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণেই নয়, ধর্মীয় অনুভূতির সঙ্গেও এই বিষয় জড়িত। তাই আদালতের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে মূর্তিটি ফের স্থাপন করা হোক—এই দাবি নিয়েই তিনি সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন।
কিন্তু প্রধান বিচারপতি বি আর গাভাই এই মামলাটিকে গুরুত্ব দেননি। বরং রাকেশ দেশাইকে ভর্ৎসনা করে মামলা খারিজ করেন তিনি। এ সময় তাঁর মন্তব্য ছিল, “এটা স্পষ্টই প্রচারের উদ্দেশ্যে করা মামলা। বিষয়টি অর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার অধীনে। আপনি তো বিষ্ণুর একনিষ্ঠ ভক্ত, প্রার্থনা করুন, যদি তিনি নিজেই কিছু করেন।” আদালতের কক্ষে এই মন্তব্য শুনেই অনেক আইনজীবী ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁদের মতে, এটি শুধু হিন্দু দেবতাদের অপমান নয়, সনাতন ধর্মের ভাবাবেগকে অবমাননা করা।
প্রধান বিচারপতির কথায় ক্ষুব্ধ হয়ে আইনজীবীদের একাংশ লিখিতভাবে আপত্তি জানান। বিচারপতির কাছে পাঠানো চিঠিতে তাঁরা স্পষ্ট দাবি করেন, এই মন্তব্য অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। শুধু তাই নয়, সোশাল মিডিয়ায় শুরু হয় তীব্র সমালোচনা। অনেকে বিচারপতির ইমপিচমেন্টেরও দাবি তোলেন। একদিকে আইনের শীর্ষ আসনের মর্যাদা, অন্যদিকে ধর্মীয় আবেগ—এই দুইয়ের সংঘাতেই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
Indian Techie Death in USA: তেলঙ্গানার যুবক মহম্মদ নিজামুদ্দিনকে গুলি মার্কিন পুলিশের, তদন্তের দাবিতে সরব পরিবার!
তীব্র চাপের মুখে অবশেষে মুখ খোলেন প্রধান বিচারপতি গাভাই। তাঁর বক্তব্য, তাঁর কথাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিকৃত করে সোশাল মিডিয়ায় ছড়ানো হচ্ছে। তিনি প্রত্যেক ধর্মকেই সমানভাবে সম্মান করেন এবং কোনও ভাবেই কারও ভাবাবেগে আঘাত করার উদ্দেশ্য তাঁর ছিল না। এই বিতর্কের মাঝেই কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা এবং সিনিয়র আইনজীবী কপিল সিব্বল প্রধান বিচারপতির পাশে দাঁড়িয়ে বলেন, বিষয়টিকে অযথা বাড়ানো হচ্ছে। তবে জনমানসে যে আলোড়ন তৈরি হয়েছে, তা থামতে এখনও সময় লাগবে বলেই মনে করছেন অনেকেই।






