চাকরির আড়ালে ধর্মান্তরণের ফাঁদ? TCS কাণ্ডে নিদা খানের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্য*কর অভিযোগ! মালয়েশিয়ায় পাঠানোর ছক, জোর করে ধর্ম বদলের চেষ্টা, কর্পোরেটের আড়ালে কী চলছিল?

মহারাষ্ট্রের নাসিকে টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (TCS)-কে ঘিরে ওঠা ধর্মান্তরণ ও হেনস্তার অভিযোগে নতুন মোড় এল। একের পর এক অভিযোগ সামনে আসতে থাকায় চাপে দেশের অন্যতম বড় তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা। এবার সামনে এলেন এক নির্যাতিতা তরুণী, যিনি দাবি করেছেন, শুধু কর্মক্ষেত্রে মানসিক ও শারীরিক হেনস্তাই নয়, তাঁকে পরিকল্পিতভাবে ধর্মান্তরণের চেষ্টাও করা হয়েছিল। নাম বদল, ধর্মীয় পোশাক পরানো, মোবাইলে ইসলামিক অ্যাপ ইনস্টল সব মিলিয়ে ঘটনাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় তদন্তে নেমেছে মহারাষ্ট্র পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)

নির্যাতিতা তরুণীর অভিযোগ, টিসিএসের নাসিক অফিসে কর্মরত অবস্থায় এইচআর বিভাগের কর্মী নিদা খানের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। সেই পরিচয়ের পর থেকেই ধীরে ধীরে তাঁর উপর ধর্ম পরিবর্তনের চাপ বাড়তে থাকে। অভিযোগ, নিদা প্রথমে তাঁর ধর্মীয় বিশ্বাসকে আঘাত করে নানা মন্তব্য করতেন এবং পরে ধর্মান্তরণের জন্য চাপ দিতে শুরু করেন। শুধু কথায় নয়, তাঁকে বোরখা পরতে দেওয়া হয় এবং ইসলামিক ধর্মীয় বইও হাতে তুলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এখানেই শেষ নয়, তরুণীর মোবাইল ফোনে ইসলামিক অ্যাপ ইনস্টল করে দেওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে। নির্যাতিতার দাবি, সবটাই ছিল তাঁকে নির্দিষ্ট একটি ধর্মীয় কাঠামোর মধ্যে ঢুকিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনার অংশ।

অভিযোগ অনুযায়ী, নিদা খান শুধু ধর্মান্তরণেই থামেননি। তিনি নির্যাতিতার শিক্ষাগত যোগ্যতার সমস্ত নথি চেয়েছিলেন নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য। তরুণীর জন্য নতুন নামও ঠিক করা হয়েছিল ‘হানিয়া’। তদন্তে জানা গিয়েছে, মালেগাঁওয়ের এক ব্যক্তির সঙ্গে এই ধর্মান্তরণ নিয়ে যোগাযোগও করা হয়েছিল। আরও গুরুতর অভিযোগ, নির্যাতিতাকে মালয়েশিয়ায় পাঠিয়ে ইমরান নামের এক ব্যক্তির অধীনে কাজ করানোর পরিকল্পনাও করা হয়েছিল। তবে শেষ মুহূর্তে পুরো বিষয়টি প্রকাশ্যে চলে আসায় সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায় বলে দাবি অভিযোগকারীর।

এই মামলায় নতুন করে গুরুত্ব বেড়েছে কারণ নির্যাতিতা তফসিলি জাতিভুক্ত হওয়ায় মামলায় তফসিলি জাতি ও উপজাতির উপর নির্যাতনের ধারাও যুক্ত করেছে পুলিশ। বর্তমানে নাসিকে টিসিএসকে ঘিরে মোট নয়টি যৌন নির্যাতন ও হেনস্তার মামলার তদন্ত চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, মূল অভিযুক্ত নিদা খান এখনও পলাতক। তাঁকে খুঁজে বের করতে একাধিক জায়গায় অভিযান চলছে। জানা গিয়েছে, সম্প্রতি আদালতে আগাম জামিনের আবেদন করা হয়েছিল তাঁর পক্ষ থেকে। সেখানে দাবি করা হয়, তিনি দু’মাসের অন্তঃসত্ত্বা এবং শারীরিকভাবে অসুস্থ। কিন্তু আদালত সেই আবেদন খারিজ করে দেয়। পুলিশ সূত্রের দাবি, নিদা খান অফিসিয়ালি এইচআর প্রধান ছিলেন না, তিনি টেলিকলার হিসেবে সংস্থায় যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে এইচআর-এর দায়িত্ব সামলাতেন এবং একটি সংঘবদ্ধ চক্রের হয়ে কাজ করতেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

আরও পড়ুনঃ “রাজনীতিতে তারকার খ্যাতি নয়, আদর্শ থাকা জরুরি!” “প্রত্যেককে নিরাপত্তা দেবে এমন একজনই হোক মুখ্যমন্ত্রী!” রাজনীতিতে তারকাদের ভূমিকা ও নির্বাচনে আদর্শহীন প্রার্থীদের নিয়ে অকপট লগ্নজিতা চক্রবর্তী!

এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে টিসিএসের বিভিন্ন পদে থাকা আসিফ আনসারি, শফি শেখ, শাহরুখ কুরেশি, রাজা মেমন, তৌসিফ আত্তার এবং অশ্বিন চাইনানিকে। অভিযোগ, গত দুই থেকে তিন বছর ধরে ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সি অন্তত ন’জন মহিলা কর্মীর উপর মানসিক চাপ, যৌন হেনস্তা এবং ধর্মান্তরণের চেষ্টা চলছিল। মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী ও বিজেপি নেতা গিরিশ মহাজনের দাবি, কিছু কর্মী চাকরি ও মোটা বেতনের লোভ দেখিয়ে তরুণীদের ফাঁদে ফেলেছিল। এমনকী তাঁদের নমাজ পড়া, রোজা রাখা এবং নির্দিষ্ট ধর্মীয় নিয়ম মানতে বাধ্য করা হতো বলেও অভিযোগ। গোটা ঘটনায় বড় প্রশ্নের মুখে পড়েছে দেশের অন্যতম নামী আইটি সংস্থা। এখন সকলের নজর পুলিশের তদন্তে, এই অভিযোগের পেছনে সত্যিই কি বড় কোনও সংঘবদ্ধ চক্র কাজ করছিল, নাকি এর আড়ালে লুকিয়ে আছে আরও বড় কোনও রহস্য?

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর