সম্প্রতি দেশের উত্তর সীমান্ত ঘিরে যে রকম নজরদারি ও কড়াকড়ি শুরু হয়েছে, তাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। চিন, পাকিস্তান কিংবা নেপাল—একাধিক সীমান্ত দিয়ে ক্রমাগত নিরাপত্তা লঙ্ঘনের চেষ্টা, গোপন অনুপ্রবেশ, অস্ত্রপাচার কিংবা সন্ত্রাসী মুভমেন্টের মতো খবর সাধারণ মানুষের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। বিশেষ করে বিহার, বাংলা এবং উত্তর-পূর্ব ভারত ঘিরে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা দফতরের সজাগ দৃষ্টি আজ একেবারে সীমান্তের গ্রামবাসীদের মধ্যেও প্রশ্নের ঝড় তুলেছে—আরও কি বড় কিছু ঘটতে চলেছে?
বিহার, বাংলা এবং নেপালের সংযোগস্থল এখন কার্যত আতঙ্কের কেন্দ্রস্থল হয়ে উঠেছে। সীমান্ত লাগোয়া এলাকাগুলিতে বাড়ছে সেনা টহলদারি, থার্মাল স্ক্যানার বসানো হয়েছে বিভিন্ন পয়েন্টে। গত সপ্তাহেই চারজন চিনা নাগরিক গ্রেফতার হওয়ার পর জনমনে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। মানুষ প্রশ্ন তুলছেন, এত নিরাপত্তার পরেও কীভাবে এমন অনুপ্রবেশ হচ্ছে? এর নেপথ্যে আসলে কোন শক্তিগুলো কাজ করছে?
গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই উত্তরবঙ্গ করিডর ঘিরে বাড়ছিল প্রশাসনিক তৎপরতা। বিশেষ করে নেপাল-বিহার সীমান্ত সংলগ্ন এলাকা থেকে যে চিনা নাগরিকদের ধরা পড়েছে, তাদের জেরায় উঠে এসেছে বিস্ফোরক তথ্য। সেই সূত্র ধরেই এবার পুলিশের জালে ধরা পড়েছে খালিস্তানপন্থী জঙ্গি নেতা কাশ্মীর সিং গালওয়াদ্দি ওরফে বলবীর সিং। চিকেন নেক করিডরের একেবারে কাছাকাছি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে তাকে, যার মাথার দাম ঘোষণা করা হয়েছিল ১০ লক্ষ টাকা!
এনআইএ সূত্রে জানা গিয়েছে, কাশ্মীর দীর্ঘদিন ধরেই সন্ত্রাসবাদীদের লজিস্টিক সাপোর্ট দিত। হাওয়ালার মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ থেকে অস্ত্রের জোগান—সব কিছুর নেপথ্যে ছিল সে। ২০১৬ সালে পঞ্জাবের একটি জেল ভাঙার ঘটনাতেও কাশ্মীর ছিল মূল অভিযুক্ত। বব্বর খালসা ইন্টারন্যাশনাল ও রিন্দা নামক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত সে। এমনকি, নেপালে বসে সে চালাত ভারত-বিরোধী কার্যকলাপ। গোয়েন্দারা মনে করছেন, নেপাল সীমান্ত ব্যবহার করেই ভারতের উত্তরবঙ্গ করিডরে প্রবেশ করার পরিকল্পনা ছিল তার। চিনা নাগরিকদের সঙ্গে তার যোগাযোগ থাকাও একাধিক সূত্রে প্রমাণ মিলেছে।
আরও পড়ুনঃ Dilip Ghosh : দিলীপ ঘোষ-রিঙ্কুর ছেলের অস্বাভাবিক মৃত্যু, আত্মহত্যা না কি ষড়যন্ত্র? ময়নাতদন্তে নজর তদন্তকারীদের!
গোয়েন্দা রিপোর্ট বলছে, কাশ্মীর এবং চিনা নাগরিকদের লক্ষ্য ছিল একটাই—বাংলা ও বিহারের সীমান্ত ব্যবহার করে ভারতের ভিতরে প্রবেশ করে জঙ্গি নেটওয়ার্ক বিস্তার করা। কারণ, মোতিহারি থেকে কিশনগঞ্জের দূরত্ব মাত্র ৩৮০ কিমি। মাত্র চার ঘণ্টার পথেই বাংলা সীমান্ত পৌঁছে যাওয়া যায়। সেই সুযোগেই এই করিডরকে ব্যবহার করতে চাইছিল তারা। বর্তমানে এনআইএ কাশ্মীরকে কড়া জেরায় রেখেছে। গোয়েন্দাদের মতে, সীমান্তবর্তী অঞ্চলে চিন-পাকিস্তান মদতপুষ্ট এক জটিল ষড়যন্ত্র গড়ে উঠছে। তাই প্রধানমন্ত্রী নিজে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন—সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি থেকে একচুলও সরবে না ভারত।






