Manikarnika Ghat : মণিকর্ণিকা ঘাটের অদ্ভুত আচার! চিতাভস্মের ‘৯৪’ সংখ্যা কি সত্যিই দেয় মুক্তির সংকেত? কি রয়েছে এর পেছনের রহস্য?

বারাণসী বা কাশী, যা ভারতের আধ্যাত্মিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত—শতাব্দী ধরে সনাতন ধর্ম ও সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দু। গঙ্গার তীরে অবস্থিত এই শহর হাজার বছরের ইতিহাস বহন করে। কাশীতে মৃত্যুবরণ করলে পুনর্জন্ম হয় না, এমন বিশ্বাস রয়েছে হিন্দুশাস্ত্র ও পুরাণে। সেই কারণেই অসংখ্য মানুষ জীবনের শেষ নিঃশ্বাস বরণ করতে চান বারাণসীর মণিকর্ণিকা ঘাটের আশপাশে।

বারাণসীতে মোট ৮৪টি ঘাট আছে, কিন্তু দশাশ্বমেধ ও মণিকর্ণিকা ঘাটের জনপ্রিয়তা আলাদা। দশাশ্বমেধ স্নান ও সন্ধ্যারতির জন্য বিখ্যাত, আর মণিকর্ণিকা শ্মশানঘাট হিসেবে সারা বছর দর্শনার্থী আকর্ষণ করে। মণিকর্ণিকার নামকরণের পেছনে আছে বিশেষ কাহিনী। পুরাণমতে, শিবের প্রলয় নৃত্যের সময় তার কানের অলঙ্কার—যা সংস্কৃতিতে ‘মণিকর্ণ’ নামে পরিচিত—এখানে পড়েছিল। এরপর এই স্থানকে মণিকর্ণিকা বলা শুরু হয়। এছাড়াও শিব-পার্বতীর স্নানের কুণ্ড বা দেবীর চোখের মণি পড়ে যাওয়ার কথাও প্রচলিত।

মণিকর্ণিকা ঘাটে এক অদ্ভুত আচার দেখা যায়—যেখানে শবদাহের পর চিতাভস্মের উপর ‘৯৪’ সংখ্যা লেখা হয়। অন্য কোথাও এই প্রথা নেই। বিশ্বাস করা হয়, এই সংখ্যা মুক্তির প্রতীক। স্থানীয়দের মতে, দাহের সময় মহাদেব শবের কানে তারক মন্ত্র বা মুক্তির মন্ত্র দেন। ‘৯৪’ সংখ্যাটি মানুষের নিয়ন্ত্রণে থাকা গুণাবলীর সঙ্গে সম্পর্কিত। বাকি ৬টি গুণ—জীবন, মৃত্যু, খ্যাতি, অপমান, লাভ এবং ক্ষতি—ব্রহ্মার নিয়ন্ত্রণে থাকে। এই সংখ্যার মাধ্যমে আত্মার মুক্তি নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা করা হয়।

চিহ্ন খোদাই করার পর চিতার উপর জলভর্তি পাত্রও ভাঙা হয়। যদিও হিন্দু ধর্মগ্রন্থে এ ধরনের কোনও উল্লেখ নেই, স্থানীয়রা এই আচারকে অত্যন্ত পবিত্র মনে করেন। এটি শুধু ধর্মীয় আচার নয়, বরং শাস্ত্র ও সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িত এক স্থানীয় ঐতিহ্য। বহু শতাব্দী ধরে এই আচার মণিকর্ণিকা ঘাটে পালন হয়ে আসছে।

আরও পড়ুনঃ Employee Ab*use: ‘তুমি কি ডাক্তার?’ — অসুস্থ মেয়ের জন্য ছুটি চাওয়া কর্মীকে অপমান, বসের লজ্জাজনক আচরণে উত্তাল সোশ্যাল মিডিয়া!

আজও বারাণসীর মণিকর্ণিকা ঘাট পর্যটকদের জন্য কৌতূহলের কেন্দ্র। শুধু শবদাহের জন্য নয়, ইতিহাস, কাহিনী ও আধ্যাত্মিকতার জন্য এখানে মানুষ ভিড় করে। ‘৯৪’ সংখ্যার রহস্য ও ঘাটের প্রাচীন ইতিহাসে লুকানো আধ্যাত্মিক গল্প দর্শকদের মুগ্ধ করে এবং বারাণসীর আধ্যাত্মিক সৌন্দর্যকে আরও গভীর করে তোলে।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর