একটি উল্লেখযোগ্য রায়ে, সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) সম্প্রতি দ্বিতীয় স্ত্রীর ₹৫০০ কোটি খোরপোষের দাবি খারিজ করে ₹১২ কোটি খোরপোষ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এই মামলা একটি ব্যবসায়ীকে কেন্দ্র করে, যিনি বর্তমানে আমেরিকায় বসবাস করছেন। কয়েক বছর আগে তার প্রথম বিয়ে ভেঙে যায় এবং ২০২১ সালে দ্বিতীয় বিয়ে করেন, যা মাত্র কয়েক মাস স্থায়ী হয়। দ্বিতীয় স্ত্রী প্রথম স্ত্রীর মতো এত বড় খোরপোষ দাবি করে আদালতের শরণাপন্ন হন। তবে সুপ্রিম কোর্ট তার আবেদন খারিজ করে দিয়ে, তাকে ₹১২ কোটি খোরপোষ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
এই মামলা ২০২০ সালের নভেম্বরে প্রথম বিয়ে ভাঙার পর শুরু হয়। প্রথম স্ত্রীর জন্য ₹৫০০ কোটি খোরপোষ ধার্য করা হয়েছিল। পরে ২০২১ সালে দ্বিতীয় বিয়ে হয়, কিন্তু সেই বিয়ে মাত্র কয়েক মাস পর ভেঙে যায়। দ্বিতীয় স্ত্রীর দাবি ছিল যে, তারও প্রথম স্ত্রীর মতো এমন বিশাল খোরপোষ প্রাপ্য। সে স্থায়ী খোরপোষ (Permanent Alimony) দাবি করে এবং যুক্তি দেয় যে, তার স্বামী প্রভূত পরিমাণ সম্পত্তির অধিকারী, তাই তারও একই ধরনের খোরপোষ প্রাপ্য।
তবে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বিভি নাগারত্না এবং বিচারপতি পঙ্কজ মিথাল আদালতে মন্তব্য করেছেন যে, দ্বিতীয় স্ত্রীর মামলা প্রথম স্ত্রীর থেকে অনেকটাই আলাদা। প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বহু বছর ধরে বিবাহিত জীবনযাপন করা হলেও, দ্বিতীয় স্ত্রীর মাত্র কয়েক মাসের সংসার। সেই কারণে, খোরপোষের পরিমাণও প্রথম স্ত্রীর থেকে কম হতে পারে। বিচারপতি নাগারত্না তার ৭৩ পৃষ্ঠার রায়ে লিখেছেন, স্ত্রীর খোরপোষ দাবি করা শুধুমাত্র স্বামীর আয় বা সম্পত্তির ভিত্তিতে হওয়া উচিত নয়, বরং বিবাহিত জীবন ও সম্পর্কের গুণগত মানের উপরও এর নির্ভরতা থাকা উচিত।
আদালত আরও স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, খোরপোষের উদ্দেশ্য হল স্ত্রীকে তার মর্যাদা এবং সামাজিক অবস্থান বজায় রাখতে সহায়তা করা, যাতে তিনি কোনোভাবেই আর্থিক সংকটে না পড়েন। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা প্রশ্ন তুলেছেন, যদি কখনো স্বামী দুর্ভাগ্যক্রমে আর্থিক সংকটে পড়েন, তাহলে কি স্ত্রী তার সম্পত্তির ভিত্তিতে কম খোরপোষ দাবি করবেন?
আরও পড়ুনঃ বড়দিন ও নতুন বছরে শীত উপভোগ করার আশায় বড় ধাক্কা! নয়া পশ্চিমীঝঞ্ঝায় উষ্ণ বড়দিন
এই মামলায়, সুপ্রিম কোর্ট দ্বিতীয় স্ত্রীর জন্য ₹১২ কোটি খোরপোষ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা উপযুক্ত এবং সঙ্গত বলে বিবেচনা করা হয়েছে। আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, খোরপোষের উদ্দেশ্য হল সামাজিক মর্যাদা বজায় রাখা এবং পুরনো জীবনযাত্রার মান বজায় রাখার জন্য অর্থনৈতিক সহায়তা প্রদান করা।





