অভিনেত্রী অর্পিতা চট্টোপাধ্যায় সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনদর্শন, স্বাধীন চিন্তাভাবনা এবং ব্যক্তিগত পরিচয় নিয়ে স্পষ্ট মত প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, তাঁকে শুধু ‘প্রসেনজিৎ ঘরণী’ পরিচয়ে নয়, নিজের নাম ও কাজের মাধ্যমেই মানুষ চিনুক, সেটাই তাঁর ইচ্ছা। সমাজের তৈরি করা প্রচলিত ধারণার বাইরে গিয়ে তিনি নিজের ব্যক্তি সত্ত্বাকে গুরুত্ব দেওয়ার কথাও তুলে ধরেন।
সাক্ষাৎকারে অর্পিতা বলেন, তাঁর কাছে পরিবার অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সেটাই জীবনের একমাত্র লক্ষ্য নয়। একজন মানুষ হিসেবে নিজের উন্নতি, মানসিক শান্তি এবং আত্মতৃপ্তিও সমানভাবে প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। তাঁর মতে, নিজের পরিচয় ও স্বপ্নকে গুরুত্ব না দিলে জীবনের ভারসাম্য বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।
অভিনয়ের পাশাপাশি বাস্তব জীবনেও তাঁকে একাধিক দায়িত্ব সামলাতে হয়। মা, মেয়ে, স্ত্রী ও পুত্রবধূর ভূমিকার পাশাপাশি তিনি দিল্লিতে নিজের প্রোডাকশন হাউসের কাজও দেখাশোনা করেন। এতগুলো দায়িত্ব সফলভাবে পালন করতে হলে আগে নিজের ভেতরে সুখ ও আত্মবিশ্বাস থাকা জরুরি বলেই তাঁর বিশ্বাস।
অর্পিতা আরও বলেন, একজন মানুষ যদি নিজের জীবন নিয়ে সন্তুষ্ট না থাকেন, তাহলে তিনি অন্য কোনও সম্পর্ক বা দায়িত্বও মন থেকে পালন করতে পারবেন না। নিজের ইচ্ছা ও স্বপ্নকে সম্পূর্ণভাবে বিসর্জন দেওয়াকে তিনি সমর্থন করেন না। একইসঙ্গে তিনি ভালোবাসাকে ‘ওভাররেটেড’ বলেও মন্তব্য করেন, যা ইতিমধ্যেই আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
আরও পড়ুনঃ “আমার যো*নি দিয়ে অভয়ার যন্ত্র’ণা অনুভব করেছি” গতবছর এমনটাই দাবি করেছিলেন সোহিনী সরকার! এবার আর জি কর কাণ্ডের ছায়ায় আসছে নতুন গল্প! এক্কেবারে ব্যতিক্রমী রূপে দেখা যাবে অভিনেত্রীকে! বাস্তবে এখনও মেলেনি বিচার, পর্দায় ন্যায়ের লড়াইয়ে জিততে পারবে তো তিনি?
তবে জীবনের বিভিন্ন সময়ে তাঁর অগ্রাধিকার বদলেছে বলেও জানা যায়। বিয়ের পর ছেলে তৃষাণজিৎ জন্মানোর সময় তিনি অভিনয় থেকে বিরতি নিয়ে মাতৃত্বকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন। পরে আবার অভিনয়ে ফিরে আসেন এবং উদ্যোক্তা হিসেবেও নতুন পরিচয় তৈরি করেন। তাঁর কথায়, জীবনের প্রতিটি অধ্যায় তাঁকে নতুন অভিজ্ঞতা দিয়েছে এবং একজন পূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে সাহায্য করেছে।






