পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে ফের জোর চর্চার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন তৃণমূল সাংসদ সায়নী ঘোষ। বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের অল্প সময়ের মধ্যেই দলের অন্দরে অসন্তোষ ও ভাঙনের নানা জল্পনা সামনে এসেছে। শাসকদলের একাধিক বিধায়ক ও সাংসদের বিদ্রোহী শিবিরে যাওয়ার গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে রাজনৈতিক মহলে। এরই মধ্যে সায়নী ঘোষের নামও সম্ভাব্য বিদ্রোহী সাংসদদের তালিকায় রয়েছে বলে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে রাজনৈতিক অন্দরমহলে বিষয়টি নিয়ে কৌতূহল ক্রমেই বাড়ছে।
গত কয়েকদিন ধরে প্রকাশ্যে প্রায় দেখা যায়নি সায়নী ঘোষকে। শুধু সংবাদমাধ্যম নয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তিনি ছিলেন অনেকটাই নীরব। দলীয় বিভিন্ন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপেও তাঁর উপস্থিতি খুব একটা চোখে পড়েনি বলে সূত্রের দাবি। ফলে তাঁকে ঘিরে জল্পনা আরও জোরদার হয়। এমন পরিস্থিতিতে হঠাৎ বিমানবন্দরে ক্যামেরাবন্দি হন তৃণমূলের এই সাংসদ। তবে সেই সময় তাঁকে সহজে চেনা যায়নি, কারণ মুখ ঢেকে দ্রুত বিমানবন্দর এলাকা ছাড়তে দেখা যায় তাঁকে। সেই ছবি ও ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সমাজমাধ্যমে।
সায়নীর এই আচরণ ঘিরে শুরু হয় নতুন বিতর্ক। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, চলতে থাকা জল্পনার মধ্যেই প্রকাশ্যে এভাবে মুখ ঢেকে দেখা যাওয়ায় প্রশ্ন আরও বেড়েছে। অন্যদিকে, তাঁর সমর্থকদের দাবি, ব্যক্তিগত কারণে বা অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক এড়াতেই তিনি সংবাদমাধ্যমের সামনে কথা বলতে চাননি। তবে সায়নী ঘোষ নিজে এখনও পর্যন্ত কোনও ব্যাখ্যা দেননি। ফলে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে যে জল্পনা চলছে, তা আরও জটিল হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
আরও পড়ুন: সুরেন্দ্রনাথ কলেজের উই-ধরা টাকার পর ফের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নগদের পাহাড়! কাঁচরাপাড়ার হার্নেট স্কুলে মিলল নগদ ১.৭৭ কোটি টাকা, সঙ্গে কন্ডো*মের প্যাকেট! এর নেপথ্যে কি শুধু ভর্তি ফি, নাকি আরও বড় কোনও রহস্য?
এদিকে সায়নীর বিমানবন্দরের ছবি সামনে আসার পর সরব হয়েছেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষ করে বলেন, “সায়নী ঘোষের এয়ারপোর্ট থেকে বেরোনোর একটা ছবি দেখলাম। আমার তো মনে হল ওটা করোনার সময়কার ছবি! ওটা আজকের ছবি কিনা একবার ভালো করে চেক করুন?” তাঁর এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। কুণাল ঘোষের বক্তব্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন মহলে।
কুণাল ঘোষ আরও বলেন, “যদি আজকের ছবিই হয়, তাহলে উনি এত মুখ ঢাকতে যাবেন কেন? উনি কী এমন করেছেন যে এত মুখ ঢেকে চলাফেরা করবেন? একটা ভয়ঙ্কর গোপন গোপন ভাব! তিনি দলে আছেন নয় তিনি ভয়ঙ্কর রকমের বিপ্লবী, দুটোর মাঝে তো কিছু নেই। কিন্তু তার জন্য মুখ ঢাকতে হবে কেন?” যদিও এই মন্তব্যের পরও সায়নী ঘোষ কোনও প্রতিক্রিয়া জানাননি। ফলে তিনি আদৌ তৃণমূলে থাকছেন নাকি অন্য কোনও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের পথে হাঁটছেন, তা নিয়ে জল্পনা এখনও অব্যাহত রয়েছে।






