আজ, ৭ ডিসেম্বর, ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে জমায়েত হচ্ছে বিশাল জনসমুদ্রের। ২০২৩-এ ‘লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠ’-এর অভিজ্ঞতার পর এ বছর আয়োজকরা পরিকল্পনা করেছেন আরও বড় আয়োজনের। বহু মানুষ সকাল থেকেই শহরমুখী হওয়ায় কলকাতার যাতায়াতে বাড়তি চাপ পড়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। সেই কারণেই আজকের দিনটি ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহল—এই বিপুল ভিড় সামাল দিতে প্রশাসনের প্রস্তুতি কতটা?
আয়োজক সংগঠন ‘সনাতন সংস্কৃতি সংসদ’ আজ করছে ‘পাঁচ লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠ’। এমন একটি বিশাল ধর্মীয় কর্মসূচি শহরে হলে পরিবহণ ব্যবস্থার উপর চাপ পড়াটাই স্বাভাবিক। ভোর থেকেই বহু জেলার মানুষ ট্রেনে করে ব্রিগেডমুখী হচ্ছেন, আর সেই প্রবাহ ঠিকমতো সামলাতেই বাড়তি সতর্ক অবস্থায় রেল।
আজকের ভিড় মাথায় রেখে পূর্ব রেল শুক্রবারই ঘোষণা করেছিল—শিয়ালদহ ও হাওড়া শাখায় মোট ২০টি বিশেষ ট্রেন চলবে শুধুমাত্র আজকের জন্য। কৃষ্ণনগর, শান্তিপুর, বনগাঁ, হাসনাবাদ, ক্যানিং, ডায়মন্ড হারবার—প্রায় সব উত্তর ও দক্ষিণ শাখাতেই রাখা হয়েছে বিশেষ ইএমইউ পরিষেবা। পাশাপাশি হাওড়া শাখায় রামপুরহাট, বর্ধমান এবং আরামবাগ দিক থেকেও অতিরিক্ত ট্রেন আজ চলবে, যাতে ভক্তদের শহরে আসা-যাওয়া সহজ হয়।
সকাল ৫টা থেকে ৭টার মধ্যে কৃষ্ণনগর, শান্তিপুর, বনগাঁ, হাসনাবাদ ও ক্যানিং থেকে একের পর এক বিশেষ ট্রেন শহরের দিকে রওনা দিয়েছে। আবার বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যার দিকে শিয়ালদহ-হাওড়া থেকে বিশেষ ট্রেন ছাড়বে বাড়ি ফেরার ভিড় সামলাতে। প্রতিটি শাখায় আলাদা আলাদা টাইমিং ঠিক করা হয়েছে যাতে অনুষ্ঠান শেষে স্টেশনে ভিড়ের চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
আরও পড়ুনঃ Brigade Gita Path : রাস্তা–রেল ভরিয়ে ব্রিগেডে মানুষের স্রোত! ৫১২৬তম গীতা জন্মজয়ন্তীতে ‘সনাতন সংস্কৃতি সংসদ’-এর ঐতিহাসিক পাঠে দেশ-বিদেশের ভক্তদের জমায়েত!
গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর হয়েছিল ‘লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠ’। কিন্তু সত্যিই কি সেখানে এক লাখ মানুষ উপস্থিত ছিলেন—তা নিয়ে তখনও প্রশ্ন উঠেছিল। আয়োজকরা যদিও দাবি করেছিলেন, লক্ষাধিক মানুষ অংশ নিয়েছিলেন এবং বিশ্বরেকর্ড তৈরি হয়েছিল। আজ সেই রেকর্ডের দাবি ছাপিয়ে ‘পাঁচ লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠ’-এর লক্ষ্য। এখন দেখার, ব্রিগেড কি সত্যিই আজ পাঁচ লক্ষ মানুষের ভিড়ে ভরে ওঠে, নাকি শেষে সংখ্যার হিসেব নিয়ে ফের শুরু হবে বিতর্ক।





